
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: রাতের অন্ধকারে মণ্ডপকে রঙিন করতে ব্যবহার হলো না কোনোরকম ফ্লাশ লাইট, হ্যালোজেন বা ফোকাস লাইট। বসিরহাট গুঞ্জনের মন্ডপ যেন নিজেই আলোকিত। পাশাপাশি শ্যামা মায়ের পুজো উপলক্ষে টানা ৩২ বছর রক্তদান শিবির করে নজির গড়লো এই পুজো কমিটি। শ্যামা পুজোর কথা মাথায় এলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে আলো ও বাজির রোশনাই। কোথাও প্রদীপ, মোমবাতি বা লাইটিং এর বাহার দেখা যায়। আবার দেখা যায় নানান বাহারের বাজি। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে শ্যামা পূজোকে এক অন্য আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে শহর বসিরহাটের প্রাণকেন্দ্র গুঞ্জন ক্লাবের কালী পুজো কমিটি।

কারণ আলোর রোশনই উৎসবে তারা রক্তদানের মধ্য দিয়ে সমাজসেবা মূলক কাজ বিগত ৩২ বছর ধরে করে চলেছে। যা পুরো জেলার মধ্যে এক প্রকার নজির সৃষ্টি করেছে। প্রতি বছর রক্তদানের মধ্য দিয়েই গুঞ্জনের কালী পুজোর উৎসব শুরু হয় বসিরহাট টাউন হল মাঠে। সারা বছর ধরেই একাধিক সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে তারা। ৬২ তম বর্ষে এ বছর তাদের থিম দক্ষিণ ভারতের এক প্রাচীন মন্দির। কাপড়, বাঁশ, কাঠ ও সোলার কাজ দিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনিন্দ্য সুন্দর মণ্ডপ।

যে মন্ডপের শোভা বাড়িয়েছেন মন্ডপের গায়ে লাগানো সহস্র আলোর মেলা। পাশাপাশি আগত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তাদের সাবেকি প্রতিমা। এই কালীপুজোর অন্যতম উত্তোক্তা বুবাই ঘোষ বলেন, “বিগত ৩২ বছর ধরে আমরা কালী পূজার সঙ্গে রক্তদান শিবির করে চলেছি। এই বছর আমরা দক্ষিণ ভারতের এক মন্দিরের আদলে মন্ডপ তৈরি করেছি। যে মন্ডপের গায়েই থাকছে আলোর মেলা। রাতের অন্ধকারে মন্ডপকে রঙিন করতে আমরা হ্যালোজেন বা ফোকাস লাইটকে ব্যবহার করিনি। আমরা এই বার্তায় দিতে চাইছি এই মন্ডপ নিজ গুণে স্বালোকিত।” ওপর এক উদ্যোক্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “আমরা সারা বছর ধরে একাধিক সামাজিক কর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। কালী পুজোতেও তার অন্যথা হয়নি। এই মন্ডপ সহ প্রতিমা দর্শনে মানুষের ঢল নামছে চোখে পড়ার মতো।”


