
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: ইছামতির পাড়ে দেড়’শ বছর প্রাচীন কাঠের চুল্লিকে নবরূপে সাজিয়ে নজির বসিরহাটে। বসিরহাট পৌর এলাকায় যে শ্মশান ঘাটটি রয়েছে সেই শ্মশান ঘাটে দুটি ইলেকট্রিক চুল্লি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ঝড়-ঝাপ্টা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময়ই বিকল হয়ে পড়ে সেই ইলেকট্রিক চুল্লি। যার ফলে বেজায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় শ্মশানে মৃতদেহ নিয়ে আসা পরিজনরা। তখন ভরসা করতে হয় ওই ইলেকট্রিক চুল্লির পিছনে থাকা প্রায় দেড়’শ বছর পুরনো কাঠের চুল্লির উপরেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই চুল্লির অবস্থা ভগ্নপ্রায় ছিল। ছিল না কোনো ছাউনি। যার জেরে শেষকৃত্যের সময় বৃষ্টি এসে গেলে সমস্যা আরো বাড়তো।

তাই সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হলো বসিরহাট পৌরসভা। বসিরহাট পৌরসভার উদ্যোগে বৈতরনী প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সংস্কার করা হলো শবদেহ দাহ করার তিনটি স্ট্যান্ড বা চুল্লি। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিতে যাতে শেষকৃত্য করতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য নতুন ভাবে গড়ে তোলা হলো এক বিশাল শেড। এদিনের এই বৈতরণী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অদিতি রায়চৌধুরী মিত্র, বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ হোসেন মেহেদী রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ, বসিরহাটের মহকুমা শাসক আশীষ কুমার ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলা আরটিএ সদস্য সুরজিৎ মিত্র বাদল সহ একাধিক কাউন্সিলর ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

এই বিষয়ে বসিরহাট পৌরসভার পৌরমাতা অদিতি মিত্র রায়চৌধুরী বলেন, “এই প্রকল্পটি মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় ৬ মাসের প্রচেষ্টায় বসিরহাটবাসীকে নতুন রূপে কাঠের চুল্লি উপহার দেওয়া হলো। শুধুমাত্র বসিরহাট পৌরসভারই জনসংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেও বহু মানুষ এই শ্মশানকে ব্যবহার করেন। আমরা গর্বিত বোধ করছি তাদেরকে এই নতুন অধুনা শ্মশান উপহার দিয়ে।”

অপরদিকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা আরটিএ সদস্য সুরজিত মিত্র বলেন, “দেড়’শ বছরেরও পুরনো এই শ্মশানের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল। বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারপার্সনের উদ্যোগে নতুন রূপে তিনটি কাঠের চুল্লিকে সংস্কার ও নতুন শেড তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইছামতি নদীর এক পাড় ভাঙে আরেকবার গড়ে। বসিরহাট শহরকে বাঁচাতে আমরা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। সেই মতো উত্তর ২৪ পরগণার জেলা শাসক, বসিরহাটের মহকুমা শাসক ও বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বসিরহাট শ্মশান ঘাট সংলগ্ন ইছামতি নদীর ড্রেজিং এর কাজও শুরু হয়েছে।”

