
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: শীত মানেই কমলালেবু। তবে শীতের মজা শুধুই চড়ুইভাতি বা কমলালেবুর স্বাদ গ্রহণ তাই নয়। শীত মানেই বাঙালিদের মননে আরও একটি বিষয় ভেবে বড় আনন্দ দেয় সেটি বইমেলা। আর বইমেলা মানেই কিন্তু মহমিলন স্থল। ইতিমধ্যেই আমাদের রাজ্যের নানা স্থানে শুরু হয়েছে এই মহামিলনের যজ্ঞ বইমেলা। বিগত ২০২৪ এর শেষ লগ্ন থেকে বর্তমান নতুন বছরেও সমান তালে চলছে জনগণের সঞ্জীবনী মহাশক্তি বইমেলার আসর।

নতুন বছরের তৃতীয় দিনের সন্ধ্যায় হুগলি জেলার কোন্নগরে শুরু হল ১৮ তম কোন্নগরে বইমেলা ও পুষ্প প্রদর্শনীর আসর। কোন্নগর পুরসভার ব্যবস্থাপনায় বইমেলার উদ্বোধন মঞ্চ সেজে উঠেছিল অতিথি-অভ্যাগতদের উপস্থিতিতে। উপস্থিত ছিলেন সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ সাংবাদিক মিহির গাঙ্গুলী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রবীর ঘোষাল, ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার কোন্নগরের ভূমিপুত্র প্রদীপ রায়, শিশু সাহিত্যিক পার্থজিত্ গাঙ্গুলী, কোন্নগর পুরসভার পুরপ্রধান স্বপন দাস, উপ পুরপ্রধান গৌতম দাস সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগন।

পুরপ্রধান স্বপন দাস বলেন, বই মানুষের মনে তৃপ্তি দেয়, এর সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত। সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখায় বই, বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ও এই সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা আছেন যাঁরা তাঁদের সারা পৃথিবী চেনে। তাঁদের এই বছরের বইমেলায় মোট ৫৬ টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে। তিনি আশাবাদী তাঁদের এই বছরের বইমেলায় বই বিক্রি গত বছরগুলির রেকর্ডকে ছড়িয়ে যাবে। মেলা চলবে ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত।

মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নারীশক্তিকে সম্পুর্ন নিজেরদের পায়ে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারী প্রগতি মানেই শুধু কথার কথা নয়, একজন নারীকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজে উপার্জনক্ষম না হলে কখনোই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন তাঁর পেশাগত কারণে তিনি দেখেছেন আমাদের দেশে বিশেষ করে এই রাজ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে, এটা খুবই আশঙ্কার। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি কোন্নগর পৌরসভার অন্তর্গত সকল সাংস্কৃতিক দলগুলিকে একসূত্রে বাঁধার কোথাও বলেন।

