রিষড়ার গড়গড়ি পরিবারের ৩৫৯ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজো
মিনি ভারত খ্যাত হুগলি জেলার রিষড়ার গড়গড়ি পরিবারের ৩৫৯ বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজো নিয়ে লিখলেন কিশলয় মুখোপাধ্যায়

সময়টা তখন ১৯০০ সাল। মিনি ভারত খ্যাত হুগলি জেলার রিষড়ায় এক ব্রাহ্মণ বাড়ির দুর্গাপুজোয় মা’দুর্গার স্বপ্নাদেশে মোষ বলি বন্ধ হল। এরপর থেকে বাড়ির বড় বিপদ কেটে গেল। তারপর থেকে আজও বৈষ্ণব মতে পুজো হয়ে আসছে গড়গড়ি বাড়িতে। এখন মোষ বলির কাতানটি দুর্গা দেবীর বেদীর নিচে রাখা থাকে।

৩৫৯ বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজো শুরু করেন নিমাই চরণ গড়গড়ি। এই ঐতিহ্যশালী আভিজাত্যময় দুর্গাপুজো নিয়ে কথা হচ্ছিল জয়ন্ত গড়গড়ির সাথে। অতীতে পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়। ইংরেজ আমলে গড়গড়ি উপাধি পেয়েছিল এই পরিবার। নিমাইচরণ বাবু এখানে দুটি শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালো কষ্ঠিপাথর মু্র্তিটির নাম কাশি বিশ্বনাথ আর সাদা মুর্তিটি হল পরেশনাথ। এরপর তিনি আটচালায় দুর্গাপুজো শুরু করেন। দুর্গাপুজোর জাঁকজমক শুরু হয় রামচরণ বাবুর পৌত্র রামদাস গড়গড়ির আমলে। এই বংশের অন্যতম বিখ্যাত ব্যাক্তি ছিলেন হরিদাস গড়গড়ি। তাঁর ভাই ছিলেন রামদাস গড়গড়ি। রামদাস বাবুর সাড়ম্বরে দুর্গাপুজোয় উল্লেখযোগ্য হল যাত্রা পালা, পালা গান ও কথকতা। আর রিষড়ার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চর্চার ইতিহাসে পান্নালাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বংশের বসন্ত কুমার গড়গড়ির অবদান অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়।

এই পুজোয় পঞ্চমীর দিন হয় বেলবরণ। নবমীর দিন হয় কুমারী পুজো আর সধবা পুজো। আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রথা হল দশমীর দিন বেড়া অঞ্জলী দেওয়া। এই অঞ্জলী দেওয়া হয় সমস্ত বিপদ কাটানোর জন্য। প্রথমে থাকেন পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যাষ্ঠ পুরুষ সদস্য, তারপর বাকি পুরুষ সদস্য, তারপর বাড়ির মহিলা সদ্যসরা থাকেন। এরপর তিনপাক ঘিরে বেড়া অঞ্জলী দেওয়া হয়, আর দেবীর কাছে প্রার্থনা করা হয় বাড়ির সকল সদস্য সহ যাতে সবাই ভালো থাকে। অতীতে নবপত্রিকা স্নান করানোর পর দোলায় করে ছাতা মাথায় দিয়ে নিয়ে আসা হতো।

এত বছর ধরে গড়গড়ি পরিবার নিষ্ঠা আর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহামায়ার আরাধনা করে আসছে।

