
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পৌরসভাগুলির সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন, এই খতিয়ানে হুগলি জেলার দেড় শতাব্দী প্রাচীন পৌরসভা বৈদ্যবাটি পৌরসভা পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ ও পরিচ্ছন্নতায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা আদায় করে নেয়। এই প্রসঙ্গে সংবাদ প্রতিখনের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে হুগলির এই পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো জানান, এই সাফল্য সকলের মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

তিনি বলেন বৈদ্যবাটি পৌরসভার ২৩ জন পৌর প্রতিনিধি, সকল পৌর কর্মচারী ও পৌর এলাকার সকল নাগরিকদের সদর্থক সহযোগিতা ছাড়া এই প্রশংসা পাওয়া সম্ভব ছিল না। পৌর এলাকার সকল নাগরিকরা যদি না পৌরসভার আদেশ না মানতেন, তাঁর যদি তাঁদের বাড়ির জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করে পৌরসভার নির্মল বন্ধুদের তুলে না দিতেন, তাহলে এই শহরকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হতো না। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, এখনও আরও সচেতন করে তুলতে হবে পৌরএলকার সকল নাগরিকদের। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখনও প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করা ও পৌর এলাকার সকল ডাস্টবিন থেকে ময়লা সংগ্রহ করার পরেও ডাস্টবিনে ময়লা দেখা যায়, এটা ঠিক নয়। যেদিন তাঁর এই অভ্যাস পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবেন সেদিনই তাঁদের কাজের একশ শতাংশ সার্থকতা লাভ হবে বলে পিন্টু মাহাতো জানান।

পৌর এলাকার সকল ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ বিষয়ে বলতে গিয়ে পিন্টু মাহাতো জানান, রাজ্য সরকার ও অমৃত প্রকল্পের অন্তর্গত এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে বৈদ্যবাটি পৌরসভা এই মূহুর্তে প্রস্তুত। পৌর এলাকায় জলের পর্যাপ্ত ট্যাঙ্ক তৈরি করা শেষ, এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে পাইপ লাইন পাতার কাজ শেষ। শুধুমাত্র আরএমসির কিছু সমস্যা থাকার কারণে তাঁদের আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বার এর কাজ শেষ করা যায় নি। তিনি আশা করেন, খুব তাড়াতাড়িই এই সমস্যা মিটে যাবে এবং তাঁরা আগামী বর্ষে পৌর এলাকার সকল বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন।

পিন্টু মাহাতো আরও বলেন, বৈদ্যবাটি পৌরসভা স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে রিডিউস, রিইউস, রিসাইকেল সেন্টার গত মার্চ মাস থেকে চালু করেছে যা রাজ্যের মধ্যে প্রথম। পৌরসভার সাফাই বিভাগের এই সেন্টারে পৌরএলাকার নাগরিকরা তাঁদের পরিবারের অব্যবহৃত জিনিস যেমন থালা, বাটি, গ্লাস, জামা কাপড়, খেলনা, স্কুল ব্যাগ, বই খাতা, জুতো, স্কুল ড্রেস ইত্যাদি জমা করতে পারবেন। এই সকল জিনিস পৌর এলাকার গরীব জনগণ তাঁদের ব্যবহারের জন্য এই সেন্টার থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করছেন।

পিন্টু মাহাতো বলেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে সদা তত্পর। শহরের ফুটপাতকে হকার মুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ অনুযায়ী আগামীতে শহরের হকারদের ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে শহরের সকল ফুটপাতকে দখল মুক্ত করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা তাঁদের লক্ষ্য। তিনি বলেন শুধুমাত্র হকার ভাইরা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে তা নয়, এমন অনেক স্থায়ী দোকানদার আছেন যাঁরা কিছুটা হলেও ফুটপাত দখল করে রাখছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে পৌর এলাকার ভেস্টেড জমিতে হকার্স জোন বানাতে মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ অনুযায়ী তাঁরা কাজ করতে বদ্ধ পরিকর।

এর সঙ্গে সঙ্গে পিন্টু মাহাতো বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারে সুপ্রাচীন এই শহরকে সাজিয়ে তুলতে তাঁরা তাঁদের এলাকার নব নির্মিত সকল বাড়িগুলিকে সরকারী নির্দেশিকা মেনে রঙ করতে উত্সাহ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমাসে জেলা শাসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পৌর এলকার নাগরিকদের আরও বেশি করে পৌর পরিষেবা দিতে তাঁরা সচেষ্ট আছেন।

