গুড়াপ রামকৃষ্ণ মিশনে নতুন মন্দিরের উদ্বোধন

কিশলয় মুখোপাধ্যায়, হুগলি: হুগলি জেলার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম গুড়াপে সম্প্রতি স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দজী মহারাজের শুভ আবির্ভাব তিথিতে সকাল ১০ টায় রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহ সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী ভজনানন্দজী মহারাজ নতুন মন্দিরের উদ্বোধন করেন। এই বিষয়ে গুড়াপ রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক স্বামী নিরন্তরানন্দজী মহারাজ বলেন, এই মন্দির আমাদের গুড়াপ রামকৃষ্ণ মিশনের নতুন সংযোজন বলা যায়। মন্দিরটি আগে খুবই ছোট ছিল। মাত্র ৪৫ জন ভক্ত বসতে পারতেন। এখন প্রায় ১৩০ জন ভক্ত একসঙ্গে বসতে পারবেন।

নব মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শুরু হয় ভোর ৫ টায় মঙ্গল আরতীর মাধ্যমে। এরপর বেদপাঠ, স্তোত্র পাঠ ও ভক্তিগীতির পর এক বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা গুড়াপ গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় ছিল অগুনতি ভক্তগণ। দুপুর ১২টা নাগাদ ভজন আর কীর্তণ পরিবেশন করেন কল্যাণী রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী দুর্গানাথানন্দজী মহারাজ। এরপর হরিনাম সংকীর্তণ পরিবেশন করেন স্বামী শিবাধীশানন্দজী মহারাজ। এছাড়া ভক্তিমূলক সঙ্গীত আর বস্ত্র বিতরণের মধ্যে দিয়ে দুপুরের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করেন সৌগত বিশ্বাস এবং শ্যামাপদ দাস।

এরপর সন্ধেবেলায় সন্ধ্যে আরতীর মধ্যে দিয়ে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই সময় স্বামী প্রাণময়ানন্দজী মহারাজ  স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ জী মহারাজের জীবনী , কর্ম জীবন তথা তাঁর সম্পর্কে নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর ৮:৩০ নাগাদ হরিনাম সংকীর্তন পরিবেশন করেন গৌরহরি দাস।

এই অনুষ্ঠানের অন্যতম দিক হল ধর্মসভা। বেদমন্ত্র পাঠ করে এই সভা শুরু হয়। পাঠ করেন স্বামী দীপ্তানন্দজী মহারাজ সহ আরো কয়েকজন। এই সভার প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় স্বামী ভজনানন্দজী মহারাজের বক্তব্য। শ্রী শ্রী পরমহংসদেবের প্রধান বাণী কী ছিল, রামকৃষ্ণ দেব ঠিক কী কী বলতে চেয়েছেন সেই বিষয়ে সুন্দর বক্তব্য রাখেন। এই সভায় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী কল্যাণেশানন্দ জী মহারাজ। স্বাগত ভাষণ দেন স্বামী নিরন্তরানন্দজী মহারাজ। নতুন মন্দির উদ্বোধন হল। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে মন্দির কী, এর কী তাৎপর্য, এই বিষয় সু্ন্দর বক্তব্য রাখেন বেলুড় মঠের ট্রাষ্টি তথা কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজী মহারাজ এবং উদ্বোধন পত্রিকার সম্পাদক স্বামী কৃষ্ণনাথানন্দ জী মহারাজ। বক্তব্য ও আলোচনা আমাদের সমৃদ্ধ করে। মহারাজদের বক্তব্যে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলেন ভক্তগণ।

সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী অজ্ঞেয়ানন্দ জী মহারাজ। এই দিন দুপুরে প্রায় তিন  হাজার  জন ভক্ত রান্না করা প্রসাদ গ্রহণ করেন। সারাদিনের নানা অনুষ্ঠান ও ধর্মসভার মাধ্যমে সবাই সমৃদ্ধ হলেন তথা আনন্দ লাভ করলেন। সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য গুড়াপ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী নিরন্তরানন্দ জী মহারাজ সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading