নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এই মুহুর্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় সারভাইক্যাল ক্যান্সার।এই বিষয়ে সাধারণ জনমানসে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানুয়ারী মাসটিকে বিশ্ব সারভাইক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করছে। এর অন্যতম কারণ সারা বিশ্বে এই রোগে প্রতি বছর বহু মহিলা আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন। আমাদের দেশেও এর অন্যথা নয়। এই রোগকে প্রতিরোধ করতে চাই সঠিক ও প্রচুর সচেতনতা ও সঠিক টিকাকরণ। আর ঠিক এই উদ্দেশ্যেই হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতাল রোটারি ক্লাব অফ বেলুড়ের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে সমাজের প্রান্তিক মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রতিষেধক দিতে এগিয়ে এসেছে। আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ‘সারভাইক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা ও প্রতিরোধ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হল হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতাল ও রোটারি ক্লাব অফ বেলুড়ের যৌথ প্রচেষ্টায়।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতাল বিভিন্ন স্কুলে সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন করে তুলে ছাত্রীদের এই রোগের প্রতিষেধক টিকাদান করা হবে বলে এদিন জানানো হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গী থাকছেন রোটারি ক্লাব অফ বেলুড়ের সঙ্গে কলকাতা চৌরঙ্গী রোটারি ক্লাব, কলকাতা ইস্ট সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাব, চন্দননগর রোটারি ক্লাব, হুগলি রোটারি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক রোটারি ক্লাবগুলি।
এদিন হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালের গাইনোকোলজি অনকোলজি এবং রোবোটিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ কৌস্তভ বসু বলেন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা সারভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ জরায়ু মুখের ক্যান্সারের স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কেও আমাদের মানুষকে সচেতন করা উচিত। তিনি জানান প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর জন্য দুটি সহজ পরীক্ষায় প্রাথমিক জরায়ুর ক্যান্সার এবং প্রাক ক্যান্সার সনাক্ত করা সম্ভব।
রোটারি ক্লাব অফ বেলুড়ের সভাপতি মিঃ অমর মালহোত্রা বলেন এই সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, আমরা সারভাইক্যাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হব। এই প্রকল্পের অন্যতম অংশ আগামী বছরের মধ্যে ২০০০ বালিকাদের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এর হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিষেধক প্রদান করা।
হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালের পক্ষে অসীম কুমারের জানান, রোটারির সাথে তাঁদের এই যৌথ উদ্যোগ প্রান্তিক মহিলাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ করে তাঁদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বিশেষ সাহায্য করবে।













