নিজস্ব সংবাদদাতা: ৪৭তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি ইউনাইটেড কিংডম। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা পৃথিবীর বৃহত্তম বই উৎসব বলে সারা বিশ্বে নিজেদের জগ করে নিয়েছে। শারদ উৎসবের পরে এই রাজ্যের সবচেয়ে বড় উৎসব, আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে ৪৭তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আসর বসতে চলেছে আগামী ১৮ জানুয়ারি,২০২৪। মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত। মেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কলকাতার এক অভিজাত হোটেলের সভাঘরে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে ঘোষণা করা হয় ৪৭ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আসর কয়েকদিন এগিয়ে নিয়ে আসার মূল কারণ বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বোর্ড পরীক্ষা। এদিন গিল্ডের পক্ষ থেকে জানান হয় ৪৭তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি ইউনাইটেড কিংডম (UK), যে দেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড়। তাছাড়া, বইমেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ব্রিটিশ কাউন্সিলেরও ২০২৩-২৪ ভারতে উপস্থিতির ৭৫ বছর। এবারের মতো, ১৯৯৮ ও ২০১৫ তে যখন গ্রেট ব্রিটেন থিম ছিল, এবং ২০০৯ তে যখন থিম ছিল স্কটল্যান্ড, তখনও তারা প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রিটিশ উপরাষ্ট্রদূত মিস্টার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ডিরেক্টর ড. দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়, গিল্ডের সম্পাদক সুধাংশু শেখর দে সহ বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে আজ ৪৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার থিম কান্ট্রি ইউনাইটেড কিংডম এর লোগো উন্মোচন করা হয়।
গিল্ডের পক্ষ থেকে জানান ৪৭তম বইমেলায় অংশগ্রহণ করছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, পেরু, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া প্রভৃতি দেশ, জার্মানি থাকছেন ১২ বছর পর। এছাড়া থাকছে ভারতের অন্যান্য রাজ্য, যেমন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, তামিলনাডু, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, বিহার, অসম, ঝাড়খন্ড, তেলেঙ্গানা, কেরালা, উড়িষ্যা ইত্যাদি রাজ্যের প্রকাশনাও থাকছে। যথারীতি থাকবে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন, চিলড্রেনস প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য আকর্ষণও। গিল্ডের পক্ষে থেকে এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হয়। কারণ এই প্রথম প্রকাশনাকে শিল্প হিসেবে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আনুকূল্যে গিল্ডের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে বিজনেস ডেলিগেশনে স্পেন সফরে গেছিলেন, প্রকাশকরা সুযোগ পেয়েছিলেন বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ক্রিয়েটিভ ইকনমি সেশনে বক্তব্য রাখা ও অংশগ্রহণ করার।
আগামী বইমেলা আয়োজকর কিন্তু কিছুটা চিন্তান্বিতও। কারণ, আগামী বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য অনেক নতুন প্রকাশক আবেদন করেছেন। অথচ বইমেলা প্রাঙ্গণের এলাকা একই আছে। তবু পরিকল্পনা চলছে, কী করে আরও নতুনদের মেলায় জায়গা দেওয়া যায় বলেও এদিন গিল্ডের পক্ষ থেকে জানান হয়।




