আজ বিশ্ব চড়ুই দিবস

আজ ২০ মার্চ, সারা বিশ্বে আজকের দিনটি পালন হয় বিশ্ব চড়ুই দিবস হিসেবেবিশ্ব চড়ুই দিবস নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনে কিশলয় মুখোপাধ্যায়

ঘড়র ঘড় ফ্যানের ব্লেড / আমার ঘুলঘুলিতে চড়াই বসে যাত্রা শোনায় রে’। বাংলা ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান বারান্দায় রোদ্দুর। গানের যাত্রা পালার সেই চড়াই পাখির দল আমাদের সবার বাড়ির আনাচে কানাচে দেখা যায় আর তারা করে কিচিরমিচির। চড়াই, চড়ুই বা স্প্যারো যাই নামে ডাকা হোক না কেন আজ ‘বিশ্ব চড়ুই দিবস’ বা ‘ওয়ার্ল্ড স্প্যারো ডে’। তবে এই দিনটি শুধু চড়ুই পাখিদের জন্য নয়,  এ ছাড়া অন্যান্য যেসব পাখি রোজ আমাদের আশেপাশে দেখা যায় তাদেরও দিবস।

আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দিনটি প্রথম পালন করা হয় ২০ মার্চ, ২০১০ সালে। বর্তমানে ভারতের নেচার ফর এভার সোসাইটি, ফ্রান্সের ইকো-সিস অ্যাকশান ফাউন্ডেশান সহ অন্যান্য দেশের আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এই বিশ্ব চড়ুই দিবসের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছে। তবড় ভারতের সংস্থাটির মহম্মদ দিলওয়ার নামটি সবার আগে করতে হয়। 2008 সালে টাইম পত্রিকা মহম্মদ দিলওয়ার সম্পর্কে বলেছিলেন ‘হিরো অফ এনভায়োরেনমেন্ট’ অর্থাৎ বলা যায় পরিবেশ রক্ষায় অন্যতম সৈনিক। মহারাষ্ট্রের নাসিকে ‘নেচার ফর এভার সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠানটি প্রথম কাজ শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুরু থেকেই রয়েছেন মহম্মদ দিলওয়ার।এই দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি যাঁরা ভালো কাজ করছেন তাঁদেরকে পুরষ্কৃত করে। এছাড়া এই পাখিটির সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

চড়ুই পাখি আন্টার্টিকা মহাদেশ ছাড়া বাকি সব মহাদেশে দেখা যায়। তবে দেখা যায়না জনহীন বনাঞ্চালে, মরুভূমি তথা তৃনভূমিতে। এরা থাকে মানুষের সঙ্গে তথা মানব সহচর্যে। শহর গ্রাম মানব বসতীর কাছাকাছি পরিবেশে নিজেদের দারুন ভাবে মানিয়ে নিয়েছ। যেন মনে হয় আমাদের প্রতিবেশি। আমাদের ঘরের কোন ঘুলঘুলিতে বাসা করেছে কোন চড়়ুই পাখির ফ্যামিলি। হয়তো সেই স্বামী আর স্ত্রী পাখির নাম চিক ও চিরিকা, নবদম্পতি। রুশ সাহিত্যিক ভিতালি বিয়াংকির শিশু কাহিনি ‘লালমাটিয়া পাহাড়’  গল্পটি ছিল চিক ও চিকিরা এবং এক দুষ্টু বিড়ালের কাহিনী। এরা মানুষের সাথে এতটাই ওতোপ্রতো ভাবে বসবাস করে যে বিভিন্ন দেশের গল্পে গানে ছড়ায় রয়েছে এদের প্রবল উপস্থিতি। সেই বিখ্যাত লোক গান ‘ আমার মনের চড়ুই পাখি তোমার ডালে বসে/কিচির মিচির কিচির মিচির করে নিজের দোষে/ তুমি বারান্দাতে দাঁড়িয়ে থেকে মরিচ খাও চার আনার/ লেজ দুলিয়ে নাচতে থাকে এমনি সে দিওয়ানা/। আর সবারই তো জানা আছে যে মানুষের প্রেম ছাড়া পাখিদের প্রেম দেখা যায়,  বোঝা যায়। ইংরাজি কবিতায়ও ‘স্প্যারো’  এসেছে নানা ভাবে।

চিক চিকিরার বংশধর হয়ত ‘অবলুপ্তির’  পর্যায়ে না পড়লেও কোথাও কোথাও এদের সংখ্যা কমে আসছে দূষণের জন্য। তবে এখনও কান পাতলে প্রায় রোজই শোনা যায় কিচির মিচির ডাক বা নার্সারি রাইমসের সেই চতুর্থ স্প্যারো পাখিটির টুইট টুইট টুইট।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading