ঘুম দিবসের উৎসব কি এবং কেন?

আত্রেয়ী দো:  “জাগার থেকে ঘুমোই, আবার / ঘুমের থেকে জাগি –  / অনেক সময় ভাবি মনে  / কেন, কিসের লাগি ?” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘুমের তত্ত্ব’ কবিতার এই লাইনগুলি ঘুম প্রেমীদের কাছে যে কতখানি প্রিয় তা বলাই বাহুল্য।  ৩রা জানুয়ারি দিনটি বিশ্বজুড়ে ঘুম দিবসের উৎসবের দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। অপর দিকে প্রতিবছর মার্চ মাসে মহাবিষুবের আগে শুক্রবার পালন করা হয় বিশ্ব নিদ্রা দিবস।  বিশ্ব নিদ্রা দিবস সর্বপ্রথম উদ্‌যাপন করা হয় ২০০৮ সালের ১৪ই মার্চ। না, আর পাঁচটা দিবসের মতো এই দিবস উদযাপনের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ঘুম সবসময়ই আরামদায়ক, তাই ঘুম ভালোবাসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের মধ্যে অনেকে কিন্তু সুযোগ পেলেই একটু অতিরিক্ত ঘুমোতে পছন্দ করি। অন্যদিকে অনেকেই কাজের বিরতিতে বা অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার করতে ঘুমের আশ্রয় নেয়। ঘুম মানুষের একটি মৌলিক চাহিদা। ঘুম আমাদের শরীরকে সচল রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে আমাদের মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। সকলেরই প্রতিদিন প্রায় ৭ঘন্টা ঘুমানো জরুরি।ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ঘুমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।” স্লিপ ইজ দ্যাট গোল্ডেন চেইন দ্যাট টাইয়েস হেল্থ এন্ড আওয়ার বডিস টুগেদার “- থমাস ডেকার। (“Sleep is that golden chain that ties health and our bodies together.” – Thomas Dekker)

কেন এই দিবস পালন শুরু হল? 

ছুটির মরশুমে কাজের ছুটি থাকলেও উৎসব অনুষ্ঠানের কোনো শেষ নেই। আর উৎসব মানেই ভালোমন্দ খাওয়া, বেড়াতে যাওয়া যা এক প্রকার পরিশ্রমই বটে। শীতের মরশুমে উৎসবের কোনো কমতি নেই। খ্রিস্টমাসই হোক বা ইংরেজি বর্ষবরণ, সব উৎসবই প্রতিবছর বেশ আড়ম্বরের সাথেই পালিত হয়। তাই এই সময় কাজের বিশ্রাম থাকলেও,শরীরের বিশ্রাম থাকে না বললেই চলে। তাই ক্লান্ত শরীরকে বিশ্রামদানের লক্ষ্যেই এই দিনটির উদযাপন শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দিবসটি উদযাপনের প্রচলন আছে। এই দিনটিকে একটি ছোটো অনুস্মারক হিসেবে মনে করা হয়, যার মাধ্যমে নতুন বছরের শুরুতেই আমরা নিজেদের যত্ন নেওয়া ও বিশ্রামের জন্য একটি রাতের ঘুম উপহার পাই।

এই স্লিপ ডে বা ঘুম দিবসে আরাম ও বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সময় থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘুম এবং আরামের সুবিধার জন্য এই দিনটি ব্যাপকভাবে পালিত হয় এবং এই পালনের মাধ্যমেই দিনটিকে প্রশংসা জানানো হয়।

কিভাবে উদযাপন করবেন এই দিনটি ? 

প্রথমেই বলেছি যে এই দিনটি পালন করার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। খুব সহজেই উদযাপন করা যেতে পারে দিনটি।প্রথমে নিজের জন্য আরামদায়ক একটি বিছানা প্রস্তুত করুন,যেখানে নিজের পছন্দমতো আরামে ঘুমোতে পারবেন।তারপর ঘুমোনোর জন্য নিজের শরীর এবং মনকে প্রস্তুত করুন। কাজের চাপ এবং যাবতীয় চিন্তা ভাবনা সাময়িকভাবে ভুলে যান। এই দিনটিকে ঘুমোনোর একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে মনে করুন। নিজেও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করুন। আমাদের দেশে এই দিনটি প্রচলিত নেই ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমের দৌলতে আমরা অনেক নতুন তথ্য জানতে পারছি, বিভিন্ন দিবস পালন ও তার তাৎপর্য সম্পর্কেও জানতে পারছি। খুব শিগগিরই, ঘুম প্রেমীদের ভালোবাসায় এই দিনটি ভারতেও সমান গুরুত্বের সাথেই পালিত হবে বলে আশা করা যায়।

%d bloggers like this: