মিথ্যে খবর ছড়ানোর জন্য ১০০রও বেশি ইউটিউব চ্যানেলকে বন্ধ করেছে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক

নিজস্ব সংবাদদাতা: ইউটিউবে অজস্র ভ্রান্ত তথ্য পরিবেশনের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে তিনটি ইউটিউব চ্যানেলকে বন্ধ করল ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। ভারতে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ৪০ দফা তথ্য যাচাইয়ের পর পিআইবি-র তথ্য যাচাই ইউনিট এই তিনটি ইউটিউব চ্যানেলকে শনাক্ত করেছে। এইসব ইউটিউব চ্যানেলগুলির ৩৩ লক্ষ গ্রাহক রয়েছে এবং এদের ছড়ানো অসত্য ভিডিও ৩০ কোটি বারেরও বেশি দেখা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো দাবি প্রচারকে শনাক্তকরণের পাশাপাশি এই প্রথমবার পিআইবি সমগ্র ইউটিউব চ্যানেলগুলিকে তুলে ধরেছে।

ইউটিউব চ্যানেলগুলির হলো  –  নিউজ হেডলাইন্স, সরকারি আপডেট ,  আজতক লাইভ যাঁদের গ্রাহক সংখ্যা যথাক্রমে  ৯.৬৭ লক্ষ, ২২.৬ লক্ষ ও ৬৫.৬ হাজার।খবরগুলি দেখা হয়েছে যথাক্রমে ৩১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৩২ হাজার ২৯০, ৮ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫৯৪, ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৪ হাজার ১৭৭ বার। এইসব ইউটিউব চ্যানেলগুলি ভুল খবর ছড়াচ্ছে এবং ভারতের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট,  ভারতের মহামান্য প্রধান বিচারপতি,  সরকারি প্রকল্প, ইলেক্ট্রনিক ভোট যন্ত্র(ইভিএম),  কৃষি ঋণ মকুব নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে এবং এইসব বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পর্শকাতর দাবি প্রচার করছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ মিথ্যে খবরগুলি হল যেমন;  সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলি ব্যালট পেপারে হবে,  যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড রয়েছে সরকার তাদের টাকা দিচ্ছে,  ইভিএম নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ইত্যাদি। এইসব ইউটিউব চ্যানেলগুলিকে পরখ করে দেখা গেছে যে থাম্বনেলের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলের লোগো এবং নিউজ অ্যাঙ্কারের ছবি তুলে ধরে এমনভাবে মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছে যাতে যারা তা দেখছেন তাদের মনে হচ্ছে খবরটা ঠিক। এইসমস্ত চ্যানেলগুলি তাদের দেখানো ভিডিও-র সঙ্গে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং ইউটিউবে মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করে জনমত আদায় করছে। গত এক বছরে পিআইবি-র তথ্য যাচাই ইউনিটের তুলে ধরা এই তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ১০০রও বেশি ইউটিউব চ্যানেলকে বন্ধ করে দিয়েছে বলে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক সুত্রে জানা যায়।

%d bloggers like this: