নিজস্ব সংবাদদাতা: হুগলি জেলার শতাধিক বর্ষ প্রাচীন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৈদ্যবাটী বনমালী মুখার্জী ইনস্টিটিউশনে সদ্য হয়ে গেল একটি অভিনব অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে গত ২৫/১১/২০২২ তারিখে বিদ্যালয়ের “থিম সং” (বনমালীর গান)-এর উদ্বোধন হয়ে গেল। উদ্বোধন করেন প্রধানশিক্ষক মাননীয় অমরনাথ ঘোষাল মহাশয়। এদিন তাঁর হাতে গানটির একটি পেনড্রাইভ বিদ্যালয়ের জন্য তুলে দেন গানটির রচয়িতা ও সুরকার জয়িতা সরকার।বেশ কিছুদিন আগেই বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ওই শিক্ষিকা গানটি পরিবেশিত করলে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর মধ্যে সাড়া জেগেছিল।পরে তিনি রেকর্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানালেন, বিদ্যালয়ের থিম সং রচনার বিষয়ে অল্প কয়েক বছর আগে আগত কর্মদ্যোগী প্রধানশিক্ষক অমরনাথ বাবুর আগ্রহ এবং সহকর্মীদের ইতিবাচক মানসিকতা থেকেই তিনি উৎসাহ ও শক্তি পেয়েছেন । বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ডা: চিরঞ্জীব সরকারের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থাপনায়, তথা পরিচালনায় স্টুডিও – ইউফনি (কারিগরি সহায়তা ও রেকর্ডিং – অরিজিৎ) থেকে জয়িতা সরকারের কন্ঠেই গানটি রেকর্ড করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী গঙ্গা নদী, এই নগর, দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা -সংস্কৃতি, কোমলমতি ছাত্রদের প্রাণচাঞ্চল্য, সব বিষয়কে নজরে রেখে ধ্রুপদী যন্ত্রানুষঙ্গ, লোকগানের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে গানটি আকর্ষণীয় করে তুলেছেন মিউজিক অ্যারেঞ্জার চিরঞ্জীব বাবু। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক, সঙ্গীতচর্চা তাঁর জীবনের একটি বিশেষ পছন্দের দিক। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, কাজটি করতে গিয়ে গানের অন্তরস্থিত আবেগকেই বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। থিম সং প্রকাশের বিষয়টি সরকার পোষিত বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন প্রধানশিক্ষক মশাই এবং ধন্যবাদ জানান জয়িতা সরকার মহাশয়াকে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান,প্রধানশিক্ষক হিসাবে এই বিদ্যালয়ে আসার পরে বেশ অল্পদিনের মধ্যেই এখানকার পরিবেশ ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক যোগ গড়ে ওঠে। অনেক পরিকল্পনাই তিনি বাস্তবায়িত করার পথে এগিয়ে যেতে পেরেছেন, আবার অনেক কাজেরই ভাবনা চিন্তা চলছে। ইতিমধ্যে আবার ব্যস্ততার মাঝে হানা দিয়েছে “কোভিড”। শিক্ষা সহ প্রতিদিনের জীবনে স্বাভাবিক ছন্দ কিছুটা বাধা পেলেও স্কুলের কাজ থেমে যায় নি। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের ম্যাগাজিন প্রকাশের দিন সম্পূর্ণ খালি গলায় বিদ্যালয়ের তিনতলার ‘বিবেকানন্দ হলে’ যখন শিক্ষিকা “থিম সং”-টির পরিবেশন করেছিলেন, তার কথা ও সুর তখনই সকলের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল , এমনটাই স্মৃতিচারণ করেন অমরনাথ বাবু। বিদ্যালয়ের জন্য একদমই নিজস্ব সংগীত তথা থিম সং-এর আকাঙ্ক্ষা তাঁর প্রথম থেকেই ছিল।
এইদিন রেকর্ড করা গানটি নতুন করে প্রকাশিত হবার পর বিদ্যালয়ের মিউজিক সিস্টেমে পেনড্রাইভের মাধ্যমে গানটি বাজিয়ে শোনানো হয় । উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ এই অভিনব উদ্যোগে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংক্ষিপ্ত অথচ আন্তরিকতায় পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়েরই শিক্ষক তাপস দাস মহাশয়।


