আত্রেয়ী দো: আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর; / ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা; / প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা….. রাত পেরোলেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসানে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। পিতৃপক্ষের শেষ অমাবস্যার দিনটিকে বলা হয় মহালয়া।
মহালয় শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ হল মহালয়া। মহালয় শব্দটির অর্থ হল ‘মহান আলয়’ বা ‘মহৎ আশ্রয়’। এই মহান আলয় বলতে এক অর্থে পিতৃলোককে বোঝায় আবার অন্য অর্থে স্বয়ং মা দূর্গাকেই বোঝায়।
কিংবদন্তি অনুসারে এই দিন উমা স্বামীগৃহ অর্থাৎ কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসার জন্য যাত্রা শুরু করেন। কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসার এই সমগ্র পথ অতিক্রম করতে সাতদিন সময় লাগে। তাই তো পুজোর ঠিক সাতদিন আগে মহালয়া হয়। এদিন দেবীর চক্ষুদান করা হয়। পূর্বে সপ্তমীতে নবপত্রিকার প্রবেশের পরে দেবীর চক্ষুদান করা হত। পরবর্তীতে, মহালয়ার দিনেই চক্ষুদান করা হয়। আসলে, মহালয়া মানেই তো পুজোর সূচনা, চারিপাশে পুজোর আমেজ।
তবে এসবের পাশাপাশি, মহালয়ার এক অন্য তাৎপর্য রয়েছে। প্রচুর মানুষ এই দিন গঙ্গার ঘাটে যায় পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে। তর্পণ শব্দটি এসেছে ত্রুপ থেকে যার অর্থ তুষ্ট করা। মহাভারতে বর্ণিত আছে কর্ণের মৃত্যুর পর স্বর্গলোকে তাঁকে সোনা, মণিমানিক্য, রত্নাদি খেতে দেওয়া হয়েছিল। জিগ্যেস করায় বলা হয়েছিল যে তিনি সারাজীবন ধনরত্ন দান করেছেন কিন্তু পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য, জল প্রদান করেননি। উত্তরে কর্ণ জানান যে তিনি পিতৃগণের সম্পর্কে জানতেন না। বিষয়টির সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য কর্ণকে ১৬ দিনের জন্য মর্ত্যলোকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়। এখানে এসে তিনি পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে খাদ্য-জল উৎসর্গ করেন। এই ১৬ দিনকে পিতৃপক্ষ বলা হয়। সব মিলিয়ে বাঙালির কাছে মহালয়ার এই দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।















