

মিমি: মেয়েলি সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আজও ভুরু কুঁচকান। মানুষ যতই সভ্যতার টাইম মেশিনে চেপে নিজেকে আধুনিক প্রমান করার চেষ্টা করুন, কিছু কিছু মানুষের আজও আধুনিক মনন গড়ে ওঠে নি। তাই আজও পিরিয়ড এখনো কোথাও কোথাও সোশ্যাল ট্যাবু হয়ে থেকে গেছে। অক্ষয় কুমারের প্যাডম্যান দেখে যতই মাল্টিপ্লেক্স কাঁপিয়ে হাত তালি দিই না কেন। এখনো অনেক সমাজে পিরিয়ড নিয়ে বহু কুসংস্কার আছে। দুর্ভাগ্যের আজও বহু মেয়ে লজ্জা দ্বিধায় এ বিষয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পারে না। তাই এখনো উত্তরাখণ্ডের চম্পাওয়াত ডিস্ট্রিক্টের ঘুরচুম গ্রামে মাসিক চলাকালীন আশ্রয় নিতে হয় আস্থাবলে বাড়ির গবাদী দের সাথে। এই রকম বর্বরচিত আচরণ আজও চলছে। কিন্তু যে সমজের মানুষ মেয়েদের পিরিয়ড নিয়ে এতো নাক উঁচু করে, এতো কুসংস্কারকে মনের মধ্যে আশ্রয় দেয়, তারা কি একবারও খোঁজ নেয় সেই সময় মেয়েটির কি পরিস্থিতি হয়? তাকে কতটা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। আজ আমরা আলোচনা করবো। পিরিয়ডের ব্যাথ্যা উপশমের উপায়। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি নারীকে এই শরীরবৃত্তিও ক্ষমতার অধিকারী করে পাঠিয়েছেন। পিরিয়ড চলাকালীন প্রতিটি মেয়েকেই কম বেশি ব্যাথা ও অস্বস্তি, মুড সুইং এর মতো সমস্যাকে সম্মুখীন হতে হয়। কি ভাবে ঘরোয়া ভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন সে নিয়ে কিছু কথা–

ডার্ক চকলেট: প্রতি মাসে মাসিক শুরুর নির্দিষ্ট দিনের অন্তত ১ সপ্তাহ আগে থেকে ডার্ক চকলেট খান। এতে মুড সুইং বহুলাংশে কমানো সম্ভব।ডার্ক চকলেটে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পিরিয়ড ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে।
কালোজিরে খান: রোজ সকালে নিয়মিত এক চামচ (১ থেকে ৩ গ্রাম ) কালোজিরে খেতে পারেন খালি পেটে। Dysmenorrhea অর্থাৎ মাসিক চলা কালীন ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে এর ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল থেকে হয়ে আসছে।
আদার রস: প্রত্যহ সকালে আদার রস গরম জলে ফুটিয়ে পান করলে pcod র সমস্যা দূর করা সম্ভব।

হট ব্যাগের ব্যবহার: ব্যাথা হলে গরম হট ব্যাগ ব্যবহার করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন: সর্বোপরি হাইজীন মেনটেইন করুন।
গরম খান: গরম পানীয় দুধ বা স্যুপ জাতীয় খাবার খান। ক্যাফিন জাতীয় জিনিস এড়িয়ে চলুন এই সময়।
ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম এই সময় খুব প্রয়োজনীয়।

এই সব কয়েকটা ধাপ মেনে চললেই ব্যাথা বহুলাংশে কমানো সম্ভব। এছাড়াও আয়ুর্বেদিক ওষুধ অশোকরীষ্ঠ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। সর্বোপরি এই সময় মি টাইম কাটান মন ভালো রাখুন, গান শুনুন, নিজের যত্ন নিন। সবথেকে প্রথমে প্রয়োজনীয় আমাদের মন থেকে অন্ধকার দূর করে কুসংস্কারচ্ছন্ন মনকে বিজ্ঞানমনষ্ক করে তুললেই আমাদের সমাজের সকল নারী সমাজ উপকৃত হবে।











