অমৃতলোকে বরেণ্য পরিচালক তরুণ মজুমদার

0214563

গতকাল আমরা হারিয়েছি বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার বরেণ্য পরিচালক তরুণ মজুমদারকে।  পলাতক হিসেবে নয় পথভোলা হয়েই বাংলা চলচিত্র জগত কে নিজের ভালোবাসা ভালোবাসায় ভরিয়ে নিজের কীর্তিকে অমর করে অমৃতলোকে আজ তিনি। তাঁর স্মৃতিতে সংবাদ প্রতিখনের কিশলয় মুখোপাধ্যায় tarun-majumdsart

পলাতক সিনেমার চিত্রনাট্য পড়ে শোনাচ্ছেন বিখ্যাত প্রযোজক ভি শান্তারামকে। চিত্রনাট্য শুনে শিশুর মতো কেঁদেছিলেন ভি শান্তারাম। দুটো ফোন করলেন। খানিক পরে ঘরে এলেন অফিসের তিনজন। তাদের বললেন ‘শোন এ হচ্ছে তরুণ। আমাদের পরের ছবির পরিচালক।’ আর তরুণ বাবুকে বললেন ‘তুমি যে হিরো’র কথা বললে তার বাড়িতে কি ফোন আছে? আর্জেন্ট টেলিফোন করে দাও।’ তখন অনুপ কুমারের বাড়িতে ফোন ছিলো না। তরুণ মজুমদার বলেছিলেন ঘটনা গুলো স্বপ্নের মতো লাগছিলো। তিনিই তরুন বাবুকে বলেছিলেন পরিচালকের নিজের হাতে ক্যামেরা চালানো উচিত। একটি সিনেমায় থাকে একজন পরিচালক। একজন ব্যক্তি রূপে দর্শকরা দেখতে অভ্যস্ত। দীনেশ মুখোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায় আর তরুণ মজুমদার এই তিনজন পরিচালক মিলে যাত্রিক নাম দিয়ে তৈরি করলেন চারটি সিনেমা। চাওয়া পাওয়া, স্মৃতি টুকু থাক, পলাতক ও জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কাঁচের স্বর্গ। এই ভাবে সিনেমার জগতে প্রবেশ করলেন তরুণ মজুমদার। আর গতকাল সকালে পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘ এক যুগের অবসান। প্রায় ২২ বছর তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন।হৃদযন্ত্রের সমস্যাও ছিল। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও সিনেমার প্রতি ছিলো অমোঘ টান। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সিনেমার ব্যাপারে বাড়ি থেকে কোন বাধা পাননি। ১৯৬৫ সাল থেকে তিনি একক ভাবে পরিচালনা শুরু করেন। তাঁর বেশিরভাগ চলচ্চিত্র ছিল সাহিত্য নির্ভর। প্রথমেই বলতে হয় পলাতক সিনেমাটি। মনোজ বসুর লেখা আংটি চ্যাটুজ্জের ভাই গল্প থেকে সিনেমাটি করেছিলেন। আলোর পিপাসা সিনেমাটি একই নামে বনফুলের লেখা। এছাড়া বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট গল্প থেকে আলো এবং ভালোবাসার অনেক নাম। প্রচেত গুপ্তর চাঁদের বাড়ি,  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণদেবতা, সুবোধ ঘোষের ঠগিনী সহ আরোও অনেক চলচ্চিত্র। বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে বারবার তিনি তাঁর সিনেমায় এনেছেন। পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। ১৯৯০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন।  এছাড়াও তার সংগ্রহে রয়েছে চারটি জাতীয় পুরস্কার, সাতটি বি. এফ. জে. এ. সম্মান, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও একটি আনন্দলোক পুরস্কার। চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছেন রবীন্দ্রসংগীত। আলো চলচ্চিত্রে সবকটি ছিল রবীন্দ্রসংগীত। তাঁর শেষ ইচ্ছেয়, শেষ যাত্রায় রইল গীতাঞ্জলী। আর করে গেলেন দেহদান।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading