বিবিধ

কসমিক এনার্জী ও রত্নের সম্পর্ক

jotishikবিশ্বেশ্বর ব্যানার্জী-জ্যোতিষরত্ন, ডিপ্লোমা ইন কৃষ্ণমূর্তি পদ্ধতি : মানব শরীরে কসমিক এনার্জির অধীনে কাজ করে যাকে আমরা আর্ভা মন্ডল(Aura) বলে থাকি।রাশিয়ান বৈজ্ঞানিকরা আবিষ্কার করেন সকল প্রকার জীবিত প্রানীদের থেকে রঙীন এনার্জির তরঙ্গ প্রকাশ পায় যাকে আভা মন্ডল বলা হয়।এই আবিষ্কার এখন প্রাশ্চাত্য দেশগুলিতে স্বীকৃত শরীরের এই এনার্জি লেভেল সঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন রত্ন ব্যবহার করা হয়।  শরীরের এই আভা মন্ডল আবিষ্কার করার পর রাশিয়ার বৈজ্ঞানিকরা ক্রিলিয়ান ফটোগ্রাফির দ্বারা হাতের ছবি তুলে দেখেন হাত থেকে সাত প্রকার রঙীন এনার্জি বার হচ্ছে।হাতের প্রথম আঙুল তর্জনী বৃহস্পতির আঙুল বলে ধরা হয়। তর্জনী থেকে হাল্কা নীল রঙের, দ্বিতীয় আঙুল মধ্যমা শনির আঙুল বলে ধরা হয় সেখান থেকে হালকা বেগুনী রঙের,তৃতীয় আঙুল অনামিকা রবির আঙুল বলে ধরা হয় সেখান থেকে লাল রঙের চতুর্থ আঙুল কনিষ্ঠা বুধের আঙুল বলে ধরা হয় সেখান থেকে সবুজ রঙের চন্দ্রের স্থান থেকে কমলা রঙের এবং শুক্রের স্থান গাঢ় নীল রঙের এনার্জি বার হয়। বৈজ্ঞানিকরা স্পেকট্রোস্কোপ দিয়ে বিভিন্ন গ্রহ থেকে বের হওয়া এনার্জি কে দেখেন সূর্য থেকে লাল,চন্দ্র থেকে কমলা,মঙ্গল থেকে হলুদ,বুধ থেকে সবুজ,বৃহস্পতি থেকে হালকা নীল,শুক্র থেকে গাঢ় নীল,শনি থেকে বেগুনি রঙের আভা বের হচ্ছে।এগুলি সেই রঙ যা স্পেকট্রোস্কোপকে হাতের উপর রাখলে দেখা যায়।বৈজ্ঞানিকরা আরও দেখলেন বৃহস্পতির রত্ন পোখরাজ খালিচোখে দেখলে হলদে দেখায়,স্পেকট্রোস্কোপ দিয়ে দেখলে হালকা নীল রঙের দেখায়। মঙ্গল গ্রহের রত্ন লাল রঙের হয়,স্পেকট্রোস্কোপ দিয়ে দেখলে হলুদ রঙের দেখায়। রত্ন শরীরের উপর একটা বুস্টার বা ভালবের মত কাজ করে।যখন শরীরে এনার্জি বা শক্তির প্রয়োজন হয় তখন রত্ন কসমিক এনার্জি প্রদান করে আর যখন এনার্জির প্রয়োজন হয় না তখন সাধারন অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ রত্ন শরীরের এনার্জি নিয়ন্ত্রন করার যন্ত্রের মতন কাজ করে।কৃষ্নমূর্তিজি তার 3rd Reader এ বলেছেন-“the fact is that planets radiate different colours each stone sympathetic to the nature and vibrations of each planet”.  বাংলার অনেক জ্যোতিষি,লেখক সাধনভাই মহাশয়ের বই “রত্নে সমাধান” অনুসরন করে রত্ন প্রয়োগ করে থাকেন। বইটিতে লেখক লিখেছেন এর মূল ভিত্তি হল cosmic ray+Jewels+Human Body=the Solution. “সাধারন ভাবে এই তিনটি জিনিষকে ভিত্তি করে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করা হয়। কৃষ্ণমূর্তি পদ্ধতিতে সমস্যার কারক গ্রহকে রত্ন না দিয়ে তার শক্তিকে বৃদ্ধি না করে যে সব গ্রহ সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে সেই সব গ্রহের রত্ন ব্যবহার করে তার শক্তিকে বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করাই সঠিক পথ হবে। উদাহরন দিয়ে বলা যায় কোন ছাত্রের রাশিচক্রে ৪র্থ ভাবের অধিপতি অথবা ৪র্থ ভাবে রবি অবস্থিত। রবি ৪, ৮, ১২ভাবের নির্দেশক এবং দেখা যাচ্ছে তার শিক্ষার ফল ভাল হচ্ছে না।তাহলে এই ছাত্রকে রবির রত্ন চুনী ধারন করালে ৪র্থ ভাবের সঙ্গে ৮, ১২ অশুভ ভাব দুটি যুক্ত থাকায় তাদের ফল দেওয়ার জন্যও রবির শক্তি বৃদ্ধি করা হবে।কিন্তু এই রাশিচক্রে বুধ যদি ১১শ পতি অথবা ১১শে অবস্থান করে ৪,৬,৯,১১ ভাবের নির্দেশক হয়(বিদ্যা,প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা,উচ্চশিক্ষা,সাফল্য)তাহলে এই ছাত্রকে বুধের রত্ন পান্না ধারন করালে বুধের শক্তি বৃদ্ধি করিয়ে শিক্ষার ফলের উন্নতিতে সাহায্য করবে।যদি সমস্যাটি বিবাহের জন্য হয় তাহলে যে গ্রহ ২, ৭, ১১ ভাবের নির্দেশক অথবা ৭, ১১ ভাবের নির্দেশক হয়(৬, ৮, ১২ ভাবের সংযোগ না থাকে তাহলে সেই গ্রহের সম্পর্ক যুক্ত রত্ন ধারন করা উচিত। যদি কোন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি যার রাশিচক্রে ৬, ৮ ভাবের নির্দেশক গ্রহ শুক্র, তাকে শুক্রের রত্ন না দিয়ে,যে গ্রহ ৫,১১ ভাবের নির্দেশক অথবা ১১শ ভাব বাধক নয় সেই গ্রহের রত্ন ধারন করা উচিত।

LATEST ADVT OF JOTISH