সাময়িকী

ব্যাথাকে অবহেলা করলেই বিপদ

ডাঃ শ্রীদীপ রায় [BHMS(CAL), PGDG&PC(RBU), DYNS(HONS), H&FWT, FELLOW IN HOM(WF).]byatha

আমাদের শরীরে ব্যাথা হলে সাধারনভাবে ঘরোয়া উপায়েই তা সরানোর চেষ্টা করি আমরা সকলেই প্রাথমিকভাবে। অধিকাংশ ব্যাথা স্বাভাবিকভাবে সেরেও যায়। কিন্তু কিছু ব্যাথা আছে তা ভিন্ন রকমের। সে সব ব্যাথা ঘরোয়া উপায়ে সরাতে গেলে সৃষ্টি হতে পারে জটিলতার। এমন কিছু ব্যথার লক্ষণ নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক ।

অস্থি সন্ধি ফুলে যাওয়া:  জ্বরের সঙ্গে শরীরে ব্যাথা থাকলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যদিক ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে অবসন্নতা, অস্থিসন্ধি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও শারীরিক অনুশীলনে অবস্থার অবনতি হয় তাহলে তা রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ। তাই এ ধরনের ব্যথায় চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে হবে।

বুকে-পিঠে বিরক্তিকর  অনুভুতি:  বাম হাতে ব্যথার পাশাপাশি অবসন্নতা ও মারাত্মক ক্লান্তিভাব থাকলে তা অবহেলা করা যাবে  না। বিশেষ করে এ সব লক্ষণের সঙ্গে যদি বুকে ও পিঠের ওপরের অংশে বিরক্তিকর অনুভুতি হয় তাহলে তা হৃদপিণ্ডের রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এটি হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আশু প্রয়োজন।

রং কিংবা তাপমাত্রায় পরিবর্তন: পায়ের মাংসপেশীতে অসম্ভব অস্বাভাবিক ব্যাথা এবং সেখানে রং ও তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিত্‍সকের সাহায্য নিতে হবে । এ ধরনের ব্যাথা ধমনীর কোন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের রক্ত চলাচল বন্ধ হবার কারণে।

অসাড়তা এবং কাঁপুনি: পিঠে প্রচণ্ড ব্যাথা ও কাঁপুনি অনুভূত হলে সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি যদি শারীরিক দুর্বলতা ও মলমুত্র নিয়ন্ত্রনে অক্ষমতা দেখা দেয়, তাহলে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ধরনের ব্যাথা নার্ভাস সিস্টেমের মারাত্মক সমস্যার কারণে হতে পারে।

রক্তস্বল্পতা ও ইনফেকশণ: শরীরের যে কোন স্থানেই গভীর, প্রচণ্ড ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা হলে অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের ব্যাথা যদি রাতে বাড়ে এবং শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তাহলে তা খুবই বিপজ্জনক। ব্যথার পাশাপাশি ঘন ঘন ইনফেকশণ, অকারণে হাড় ভেঙে যাওয়া, প্রভৃতি হলে হাড়ের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

 হোমিওপ্যাথী চিকিত্‍সা লক্ষণ ভিত্তিক, ধাতুগত চিকিত্‍সা। তাই অভিজ্ঞ চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিয়ে আরোগ্য সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে চিকিত্‍সকের পরামর্শ ছাড়া  কোনও ওষুধ খেলে হিতে বিপরীত হতেই পারে।