এদিন “রূপসী বাংলা প্রেস এন্ড পাবলিকেশন” এর প্রকাশনায় কবি ব্রতীন দেওঘরিয়ার “অভীপ্সা”, কবি অনির্বাণ দাঁ র “ভাব মঞ্জরী” ও কবি আভা চট্টরাজএর “জিয়নকাঠি” কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সন্ধ্যায় ছৌ ওস্তাদ গিয়াসউদ্দিন আনসারীর ছৌ নৃত্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় মেলায় উপস্থিত ঝাড়খণ্ড এর একমাত্র বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র “সকাল সকাল” এর সম্পাদক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা দুরদর্শনের সান্তা দেবকে। ৩১ তারিখ বিকেলে স্থানীয় শিল্পীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। সন্ধ্যায় সান্তুড়ি ব্লকের বিশিষ্ট ঝুমুরিয়া মাধব চন্দ্র মন্ডল, লোকসংগীত পরিবেশন করেন কলকাতার বিশিষ্ট লোকশিল্পী আকাঙ্ক্ষা ব্যানার্জী, পুরুলিয়ার অন্যতম ঐতিহ্য যাঁত মঙ্গল অভিনব আঙ্গিকে পরিবেশন করেন শিল্পী সনৎ পাণ্ডে ও শিল্পী বংশীধর সিংহ সম্প্রদায়। সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় কবি চন্দ্রশেখর ঘোষ ও সনৎ দে কে। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টা থেকে কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণ করে পশ্চিম বঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড এর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবিরা। এদিন বরাবাজার বইমেলা ২০২১ স্মরণিকা প্রকাশিত হয়। সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় উপস্থিত কবিদের। বিকেলে আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী বৃষ্টি মাহাত, সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী বর্ণালী ঘোষ, সায়ন বিশ্বাস, মেঘমালা ভট্টাচার্য। লোকসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী চিরঞ্জিত ব্যানার্জী ও আস্তিক দাস। সন্ধ্যায় বরাবাজার থানা ও স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয় যাত্রানুষ্ঠান। ২ ফেব্রুয়ারি কবিতা পাঠ, রবি ঠাকুরের নৃত্যনাট্য “বাল্মীকি প্রতিভা” পরিবেশিত হয়। এই নৃত্যনাট্য পরিচালনা করেন শিল্পী বর্ণালী ঘোষ। সাধারণ মানুষের অনুরোধে মেলা একদিন বাড়ানো হয়। মেলা শেষ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি। সমাপ্তি অনুষ্ঠান হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ছৌশিল্পী গিয়াসউদ্দিন আনসারীর ছৌ নৃত্য। সামগ্রিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বইমেলা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক রবীন পাণ্ডে। কমিটির অন্যতম সদস্য দেবরাজ মাহাতো, মৌমিতা ব্যানার্জী, সুশান্ত কৈবর্ত অনুষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। রবীন বাবু জানান, তিন বছর ধরে চলা এই বইমেলা যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছে, সেই স্বপ্নের পথে সফল। এই বইমেলার মাধ্যমে সাহিত্য, সংস্কৃতিপ্রেমী, প্ৰকাশ, পাঠক, ছাত্রছাত্রীদের মেলবন্ধন ঘটে চলেছে।
তৃতীয় বর্ষে বরাবাজার বইমেলা
Advertisements
