স্বাধীনতা দিবসে শ্রমিকদের পাশে হুগলি জেলার শ্রমদপ্তর

01d8cddd-9057-4253-b00e-4aa5ba8b2864প্রবীর বোস, হুগলি:  পোলবার জাহাঙ্গীর মণ্ডল পেশায় ছিলেন ধানকলের ঠিকা শ্রমিক। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হারান দুই চোখের দৃষ্টি। বাঁশবেড়িয়ার সোমা ঘোষের গল্পটা আবার অন্য, উনি পেশায় ছিলেন আইসিডিএস কর্মী। কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় অকেজো হয়ে পড়ে ওনার দুই পা। রাজহাটের নরেন মিত্তির ছোটখাট দর্জির কাজ করে সংসার টানতেন, সাইকেলে চাপিয়ে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছিলেন, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন রাজপথে। তার পর থেকেই পঙ্গু শরীরের নিম্নাঙ্গ। সাড় নেই ডান হাতেও। এমনকি হারিয়েছেন বাকশক্তিও। জয়িতা দাস গৃহবধূ। ওনার স্বামী ভাড়ার গাড়ি চালাতেন, ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে মারা যান। চুঁচুড়ার অর্চনা রুইদাসও গৃহবধূ ছিলেন, ওনার স্বামী ঠ্যালায় করে ফুচকা বিক্রি করতেন, সম্প্রতি মারা গেছেন জণ্ডিস হয়ে। প্রদীপ জানা শ্রম দপ্তরের ছাপোষা এসএলও, ওর মা আশালতা জানা বাড়ি বসে ব্লাউজ-শায়া বাচ্ছাদের জামা তৈরি করতেন। বোনম্যারো ক্যান্সারে মারা গেছেন সম্প্রতি।

এই ছয় জনের মধ্যে মিল একটাই, এঁরা সকলেই ছিলেন সামাজিক সুরক্ষা যোজনার নথিভুক্ত শ্রমিক। অঙ্গহানির অনুদান হিসেবে জাহাঙ্গীর বাবু, সোমাদেবী আর নরেন মিত্র পেয়েছেন এককালীন দুলক্ষ টাকা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকালীন অনুদান হিসেবে দু লক্ষ টাকা পেতে চলেছেন জয়িতা দেবী। প্রদীপ এবং অর্চনা দেবী অবশ্য ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোভিড বিধি মেনে খুব ছোট করে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ছয়জনকে সংবর্ধনা জানালো হুগলি জেলার শ্রমদপ্তর। উপস্থিত ছিলেন চন্দননগরের জয়েন্ট লেবার কমিশনার শ্রী কিংশুক সরকার। চুঁচুড়ার ডেপুটি লেবার কমিশনার অনিন্দিতা ভট্টাচার্য আর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার শ্রী সুখেন বর্মন। eda1de97-99c4-41ec-8edc-3eeab383c702সংবর্ধনার সময় বাঁধা মানেনি অর্চনা দেবীর চোখের জল, যখন জানতে চাওয়া হয়, টাকাটা নিয়ে কি করবেন, ভেবেছেন কিছু? উত্তরে জানান, ইতিমধ্যেই স্বামীর ফুচকার ঠ্যালা নিয়ে বেরিয়ে পরেছেন উনি। নতুন করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন জীবনকে। কিছুটা টাকা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য রেখে, বাকিটা ব্যবসায় মূলধন হিসেবে কাজে লাগাতে চান উনি। জাহাঙ্গীর বাবু আর সোমা দেবী অবশ্য চিকিৎসার জন্যই খরচা করতে চান টাকাটা। অন্তত কিয়দংশ খরচা করে  দেখতে চান, যদি কোন যাদুমন্ত্রে ফিরে আসে ওনাদের দৃষ্টিশক্তি বা চলৎশক্তি। একই ইচ্ছা নরেন মিত্রের স্ত্রী সন্ধ্যা মিত্রেরও। যদি আর একটু ভালো করে চিকিৎসা করানো যায় মানুষটার। অনুদানের পুরো টাকাটাই জমাতে চান জয়িতা দেবী, মেয়ে সামনের বছর মাধ্যমিক দেবে, ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। ওদের ভবিষ্যতের জন্যই জমাতে চান জয়িতা।

advt-1

advt-2

advt-3

FVADVT

 

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading