ঠিক যেন যাদুকাঠির ছোঁয়ায় পরিবর্তিত জিঞ্জিরাবাজার অনুসন্ধান কেন্দ্র

jinjira-bazarস্বরূপম চক্রবর্তী: পুলিশ। এই শব্দটির সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। আর এই শব্দটি শুনলেই অতি ডাকাবুকো মানুষটির কিছুটা হলেও হৃদকম্প শুরু হয়ে যায়, কারণটা আমাদের কারোর অজানা নয়। আমাদের দেশের শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে যাঁরা সদা তত্‍পর, আইনের পথই যাঁদের চলার পথের পাথেয়। সেই পুলিশকুল আমাদের সমাজের অন্যতম প্রধান সমাজবন্ধু হিসাবে পরিচিত আমাদের কাছে সেই শিশুকাল থেকেই। আর সবথেকে বড় যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে পুলিশ মানেই রুক্ষ মুখ, প্রচণ্ড রাগী, আর কারণে অকারণে লাঠি পেঠা করার এক চলমান যন্ত্র নয়, তাঁদেরও রয়েছে নরম, কোমল একটি মন, শৈল্পিক মানসিকতায় ভরা একটি জীবন্ত প্রাণ। যদিও তর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিই, পুলিশদের মধ্যে সকলেরই এইপ্রকার মানসিকতা বা সংস্কৃতিমনষ্কতা নিয়ে নিজেদের কার্য সম্পাদন করেন না, তবে আমাদের হাতের সকল আঙ্গুলগুলি যেমন এক আকারের নয়, তেমনি সকল পুলিশও সমান নন। আর পুলিশের কর্মস্থল অর্থাত্‍ থানা, ফাঁড়ি বা অনুসন্ধান কেন্দ্র যে শব্দেই আখ্যা দেওয়া হোক না কেন সেটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনেও রয়েছে নানা কৌতুহল। আসলে সেই শিশুকাল থেকেই আমাদের মনের মনিকোঠায় যে ভীতি স্থান করে নিয়েছে তা কী অল্প সময়ে পরিবর্তিত হয় না হতে পারে। অথচ এমন এমন মানুষ এই মহান পেশায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে সর্বদা সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন, তাঁরা সত্যি-সত্যিই আমাদের সকলের প্রনম্য। আসলে আমরা ভাবি একরকম আর প্রকৃত চিত্র বা বাস্তব সম্পুর্ন আলাদা প্রতিফলিত হয়। যে বিষয়টি নিয়ে এই লেখার সূত্রপাত, অর্থাত্‍ পুলিশ, আজকের আমার এই আলোচ্য বিষয় মানবিক পুলিশ ও তাঁর কর্মস্থল থানা, ফাঁড়ি বা অনুসন্ধান কেন্দ্র। আজ যে এলাকার কথা আপনাদেরে সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি সেটির অবস্থান দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মণ্ড হারবার জেলা পুলিশের অন্তর্গত মহেশতলা থানার অধীন জিঞ্জিরাবাজার এলাকার পুলিশ চৌকি বা পুলিশ ফাঁড়ি, যার আক্ষরিক পরিচিতি জিঞ্জিরাবাজার অনুসন্ধান কেন্দ্র হিসাবে। একটা সময় ছিল যখন এই পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সকল মানুষকে বিশেষ করে নারী ও শিশু সংক্রান্ত কোনও ঘটনার সামান্য অভিযোগ জানাতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে ছুটতে হত মহেশতলা থানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন হয় তা আমাদের সকলের জানা। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারীতে এই পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আসেন পুলিশ আধিকারিক সৌরভ কর। তাঁর হাতের জাদুতে ও ওনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ নজির সৃষ্টি করেছে ডায়মণ্ড হারবার জেলা পুলিশের অন্তর্গত মহেশতলা থানার অধীন এই জিঞ্জিরাবাজার পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রটি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এই কেন্দ্রের অধীন এলাকায় বসবাস করে হিন্দু, মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। jinjira-bazar-2সৌরভ বাবুর সৌরভে এই এলাকা আজ শান্তির বাতাবরণে ছাওয়া। আরও একটি বিষয়ে আলোকপাত না করলে এই লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, সেটি হল, নারীদের প্রতি নানা অত্যাচার ও শিশুদের প্রতি অত্যাচার, নারী ও শিশু পাচার ইত্যাদি রোধে আজ এই অনুসন্ধান কেন্দ্র বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছে সৌরভ বাবুর সুদক্ষ নেতৃত্বে এবং মহেশতলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান আধিকারিক সুবিন্দু সরকারের সঠিক ও আন্তরিক সহযোগিতায় আজ জিঞ্জিরাবাজার পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রটি স্থানীয় সকলের আস্থা অর্জনে সকল নিন্দুকের নিন্দাকে অতিক্রম করে সাধারণের পাশে থাকার অঙ্গীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই মূহুর্তে চলা করোনার আবহে স্থানীয় সকল ধর্মের মানুষদের সঙ্গে মানবিক ভাবে থেকে এই এলাকার পরিবেশকে সঠিক রাখতে বদ্ধপরিকর সৌরভ বাবু ও তাঁর সহযোদ্ধারা। কবির কলমে প্রকাশিত সেই অমোঘ লেখনী, “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে? কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” পুলিশ আধিকারিক সৌরভ কর প্রমাণ করে দিয়েছেন, শুধুমাত্র কথা নয়, কাজটাও তার সঙ্গে করতে হয় সমানতালে, তবেই আসে সাফল্য। সৌরভ বাবুদের মত মানুষেরা আরও বেশি করে প্রশাসনিক স্তরে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করুন এবং আগামী হয়ে উঠুক সুন্দর ও মনোরম।

তথ্য ও ছবি- সঞ্জয় মুখার্জী        

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading