সীমান্তে ইছামতী গর্ভে কংক্রিটের বাঁধ, ডুবলো কয়েকশো নৌকা বিপন্ন মৎস্যজীবীরা

soumabha-5সৌমাভ মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগণা:  বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১নং ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ইটিন্ডা ফেরিঘাট থেকে পানিতর সীমান্ত পর্যন্ত ইচ্ছামতী নদীর ওপর প্রায় তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ নদীগর্ভে। মৎস্যজীবীদের তিনশতাধিক নৌকা ডুবলো ইচ্ছামতীর গর্ভে। বিপন্ন ৪০০০ মৎস্যজীবী পরিবারের প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ। লকডাউনের জন্য মজুদ করা চাল, ডাল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বই এবং নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র আম্ফানের জেরে কেড়ে নিল ইছামতি নদী। সামনে ৩রা জুন ভরা কোটাল তার মধ্যেই আতঙ্কের মেঘ দেখছে সীমান্তের এই মৎস্যজীবী থেকে মৎস্যজীবীর পরিবার। সর্বহারা হয়েছেন তারা। এখনো ত্রান শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন পাঁচশতাধিক মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শারিফুল মন্ডল। তারই উদ্যোগে চলছে এই দুর্গতদের দু’বেলা খাবারের বন্দোবস্ত। সবমিলিয়ে দুর্যোগের দিন থেকে যতদিন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়হীন এই মানুষদের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি। ২০শে মের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা ভাবলে শিউরে উঠছেন গ্রামবাসীরা। সামনে ভরা কোটাল। তাই এখন নদীর দিকে তাকিয়ে রাত পাহারায় বসেছে ইছামতী পাড়ের মানুষেরা।

নদীগর্ভে চলে যাওয়া তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ অবিলম্বে মেরামতি না হলে আরো বড় বিপদ। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যাবে। ইতিমধ্যে ইছামতি নদীর জলে তিনটি গ্রাম জলবন্দি রয়েছে। নদীতে প্রায় ৩০০ নৌকা ডুবেছে। তেমনি নদীর পাড়ে থাকা নৌকাগুলি ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে কঙ্কালসার চেহারা নিয়েছে। সবমিলিয়ে ইটিন্ডা পানিতার গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি গ্রাম ইটিন্ডা, পানিতর, নাগরাজ পাড়া প্রহর গুনছে সামনে ভরা কোটালে আবার কি নতুন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading