খবর

বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন না করে, সঞ্চিত অর্থে সুন্দরবনের দুর্গতদের পাশে শিক্ষক দম্পতি

soumabha-9সৌমাভ মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগণা: বসিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মুন্সেফপাড়ার শিক্ষিকা ডেসডিমনা মল্লিক ও স্বামী সুবীর মল্লিক ফি বছর ৭ইজুন তাদের বিবাহবার্ষিকী পালন করেন। ধুমধাম করে সাড়ম্বরে ভুরিভোজ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে এই দিনটা উপভোগ করেন পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে যান। কিন্তু এবার সেটা বন্ধ করে সেই অর্থ ও শিক্ষিকার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে লাগাতার সুন্দরবনের আম্ফান বিধ্বস্ত এলাকা যেমন সন্দেশখালি, শিতুলিয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, ঘূণী, মিনাখাঁ ও মল্লিকঘেরির বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে দাড়ালো ঐ দম্পতি। নিজেরাই চাল, ডাল, আলু, জলের বোতল, স‍্যানিটাইজার ও মাক্স বিতরণ করলেন। পাশাপাশি যেসব স্কুলপড়ুয়ার বই নদীর জলে ভেসে গিয়েছে তাদের হাতে খাতা, পেন ও বই তুলে দেন। পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন  সুভেন্দু, নিতাই, ইন্দ্রদীপ, দিলীপ ও পিন্টুরা। এরাও এগিয়ে এসেছে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে। যতদিন পর্যন্ত তাদের সাধ্য থাকবে ততদিন পর্যন্ত তারা এই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে জানান তারা। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন এই বিপর্যয়ের মধ্য সবাইকে এগিয়ে আসতে। তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে গোপালপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামী এগিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি যেভাবে বহু মানুষ এখনো ত্রাণ শিবিরে, কেউ আবার বাঁধের উপর কেউবা সরকারি স্কুল বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের খাদ্য, বাসস্থান, পানীয় জলের সংকট তো আছে। তাই একদিকে মুখ্যমন্ত্রী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যদিকে নিজেদের বিবাহ বার্ষিকী পালনের বরাদ্দ অর্থ দিয়ে লাগাতার সুন্দরবনের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো মোটর সাইকেল আবার কখনো চারচাকা ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে। দিন‌ ও রাত এক করে ত্রাণ বিতরণ করছেন এই শিক্ষক দম্পতি। তারা জানিয়েছেন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুন্দরবনকে সবাই মিলিতভাবে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের দেখে কেউ অনুপ্রাণিত হলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।