একসঙ্গে ৫৪টি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের দেহে রক্ত সঞ্চালন করা হল হুগলিতে

chanditola-22অরূপ মিত্র, চণ্ডীতলা, হুগলি: করোনা পরিস্থিতিতে যে লক ডাউন চলছে সেই সময়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের রক্তের অভাব দূর করতে এগিয়ে এল হুগলি জেলার চণ্ডীতলা, ডানকুনি ইত্যাদি এলাকার বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এছাড়াও সারা রাজ্যের বিশেষ করে কলকাতা ও তার সন্নিহিত এলকার হাসপাতালগুলি এই মূহুর্তে ব্যস্ত করোনা রোগীদের নিয়ে। আর ঠিক এই সময়ে হুগলি জেলার চণ্ডীতলা, ডানকুনি  ইত্যাদি এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি এক ছাতার তলায় এসে হুগলি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির সৃষ্টি করলেন,চণ্ডীতলার উত্তর আদানের ভিলেজ কেয়ার হাসপাতালে ৫৪টি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের রক্ত সঞ্চালন করে।chanditola এই বিষয়ে সম্প্রতি এই হাসপাতালে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুবীর মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ওই এলাকার গরীব ও মধ্যবিত্ত রোগীদের কলকাতা বা অন্য কোনও হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালনের জন্য না পাঠিয়ে স্থানীয় ভিলেজ কেয়ার হাসপাতালেই ব্যবস্থা করেছেন এবং এই মূহুর্তে এই কাজটি করে তাঁরা ওই সকল থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের করোনা সংক্রমন থেকে রক্ষা করতে ও সকল গোষ্ঠীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমন রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন। সুবীর বাবু আরও জানান তাঁদের এই উদ্যোগ এই মূহুর্তে রাজ্যের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিনি বলেন তাঁরা চণ্ডীতলা, জাঙ্গীপাড়া, জগদীশপুর, ডোমজুড় ইত্যাদি একটি বা কয়েকটি ব্লকের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্ত পাওয়া নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন।chanditola-5সুবীর বাবু বলেন প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অগ্নিকল্প (৫টি)  প্রকৃতি (২টি), ডানকুনি উত্তরণ(২টি) আমরা অনামী ও ডানকুনি আনন্দ নিকেতন। সুবীর বাবু ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংবাদিক সহ পুলিশ ও সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের। এদিন সুবীর বাবু বলেন সাংবাদিকরা হচ্ছেন দেশের সম্পদ, তাই সাংবাদিকদের জন্য তাঁরা বিশেষ সূরক্ষা কিটের ব্যবস্থা করেছেন। স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা অগ্নিকল্প’র পক্ষে ভিলেজ কেয়ার হাসপাতলের সিইও কৌশিক শীল জানান তাঁরা এই পর্যন্ত ৯টি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পেরেছেন মোট ২৭০ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতা রক্তদান করে তাঁদের কাজে বিশেষ সহায়তা করেছেন। কৌশিক বাবু হুগলি গ্রামীণ পুলিশ, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় বিডিও সহ স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ দেন এই কাজে তাঁদের পাশে থাকার জন্য। কৌশিক বাবু বলেন, তাঁরা এই সময়ে মানুষের যে কোনও সমস্যায় পাশে থাকছেন।

তিনি জানান যে সকল মানুষের ওষুধের প্রয়োজন তাঁরা তাঁদের সেই ওষুধের ব্যবস্থা করে দিছেন ও প্রান্তিক মানুষদের জন্য খাদ্যদ্রব্যের ও ব্যবস্থা কয়েরতে সক্ষম হয়েছেন। ডাঃ তমাল হাজরা বলেন এই সময়ে করোনা আক্রান্ত ছাড়া অন্যান্য রোগীরা ভীষণই চিন্তিত তাঁদের চিকিত্‍সা নিয়ে। আর এই সময়েই এগিয়ে এসেছেন এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা এককথায় অভূতপূর্ব। ভিলেজ কেয়ার হাসপাতলের প্রধান কর্ণধার নিশীথ বক্সি বলেন এই মূহুর্তে যেটি সবথেকে প্রয়োজনীয় সেটি হল অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান সঙ্গে চাই রক্তদান। (ছবি অরূপ মিত্র )

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading