বাগনানে নজরুলের মূর্তি স্থাপন করবে স্মৃতি রক্ষা কমিটি

অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া : বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাগনানের আগুন্সীতে এসেছিলেন ১৯২৬ সালে। এখানে এক অনুষ্ঠানে তিনি দুটি গান পরিবেশন করেছিলেন- “জাতের  নামে বজ্জাতি সব” এবং” ওপরে চাষী জগদ্বাসী ধর কষে লাঙল”। বাগনানের মাটিতে বিদ্রোহী কবির  পদার্পণের এই ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং নূতন প্রজন্মের কাছে খবরটি পৌঁছে দিতে গঠিত হল “নজরুল স্মৃতি রক্ষা কমিটি”। বাঙালপুর মহিলা বিকাশ কেন্দ্রে সমাজকর্মী গোপাল ঘোষ-এর  পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই স্মৃতি রক্ষা কমিটি গঠিত হয়। তিনিই এই কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। স্মৃতি রক্ষা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন প্রদীপ রঞ্জন রীত ও সায়ন দে।

সদস্যদের মধ্যে আছেন পার্থপ্রতিম রায়, সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস, শুভেন্দু দত্ত, পবিত্র পাঁজা, অরুণ পাত্র, গোলাম কুদ্দুস, অম্লান সাঁতরা, শংকর চক্রবর্তী, দেবাশীষ জানা, সৌমেন রায়, প্রশান্ত ভৌমিক, গোপাল চন্দ্র পারাল, তুষার হালদার, শুভজিত পাল প্রমুখ। এই কমিটি এ বছর দুর্গাপূজার আগেই আগুন্সীতে কবির পদার্পণধন্য স্থানে কবির একটি মর্মর মূর্তি স্থাপন করবে এবং এই উপলক্ষে একটি স্মারক পত্রিকাও প্রকাশ করবে।

এ ব্যাপারে  সভায় বিশদ আলোচনা হয় ও কর্মসূচির প্রাথমিক রূপরেখা স্থির হয়। কমিটির অন্যতম সম্পাদক প্রদীপ রঞ্জন রীত জানালেন-“স্থানীয় অধিবাসীদের নজরুলের বাগনানে আগমনের বিষয়টি অবগত করতে বিশেষ প্রচার চালানো হবে। কেবল বাগনানে নয়, হাওড়া জেলার আরো কিছু স্থানে নজরুল ইসলামের আগমন ঘটেছিল। সেসব স্থানেও স্মৃতি ফলক লাগানো র ব্যবস্থা করা হবে ভবিষ্যতে।

গবেষণা চালানো হবে হাওড়া জেলার সাথে নজরুলের   বহু মুখী যোগসূত্র নিয়েও। তার সাথে অবশ্যই হবে চর্চিত হবে নজরুলের জীবন ও সাহিত্য। চেষ্টা হবে নজরুল ইসলামের সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের ভাবধারায় নব প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে। নজরুল এসেছিলেন আগুন্সীর দ্বারকানাথ মিত্রের বাসভবনের প্রাঙ্গণে। দ্বারকানাথ মিত্র স্বয়ং এক দিকপাল ব্যক্তিত্ব। নজরুল যখন আসেন তার অনেক আগেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন। দ্বারকানাথ ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বিতীয় ভারতীয় বিচারপতি। তাঁর স্মৃতি রক্ষণেও আমরা ভবিষ্যতে উদ্যোগ গ্রহণ করব।”।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading