বিশ্ব প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ দিবস

আজ ১৯ মে, আজকের দিনটিতে সারা বিশ্বে পালন করা হয় বিশ্ব প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ দিবস হিসেবেএই নিয়েই লিখলেন সাংবাদিক আত্রেয়ী দো

১৯শে মে দিনটি ‘বিশ্ব প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ(IBD)দিবস’ হিসেবে পালিত হয় । এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ যেমন ক্রোনস ডিজিজ এবং আলসারেটিভ কোলাইটিস সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। এই দিনটিতে প্রদাহ জনিত অন্ত্রের রোগে ভুগছে এরকম প্রায় এক কোটি মানুষকে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা গুলি জোটবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে।

প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন থিম মনোনীত করে অনুষ্ঠানটি সেই আঙ্গিকে পালন করা হয়। ইউরোপীয় ট্রেডারেশন অফ ক্রোনস এন্ড আলসারেটিভ কোলাইটিস অ্যাসোসিয়েশন ( EFCCA)দ্বারা মনোনীত এই বছরের থিম হলো ‘আই.বি.ডি এর কোন বয়স নেই’।

এই থিমটি মনোনয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী আই.বি.ডি রোগীর সংস্থাগুলিতে বিভিন্ন বয়সের মানুষদের বিশেষত বয়স্কদের আহ্বান জানানো, বয়স্কদের মধ্যে আইবিডি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের জীবনযাত্রার মান ও যত্নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা।

এই দিনটিতে বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত সাইট গুলিকে বেগুনি রঙে আলোকিত করা হবে। আলোকিত ল্যান্ডমার্কের পাশাপাশি রোগী সংগঠন এবং কর্মীরা আইবিডি প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে সহায়তা করবে। এই সব কিছুরই মূল কারণ হচ্ছে আইবিডি গ্রস্থ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কষ্ট সম্পর্কে সচেতন করা।

ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ(IBD) মূলত আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং ক্রোনস ডিজিজ এই দুটি ভিন্ন রোগ নিয়ে গঠিত। তবে ১০-১৫% ক্ষেত্রে, তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয় ,যার ফলে অনিশ্চিত কোলাইটিস হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে আই.বি.ডি এর ক্রমবর্ধমান প্রবণতা,দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা এবং ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের কারণে আর্থিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আই.বি.ডি এর প্রকোপ বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলিতে এই রোগের সংক্রমণ বেশি হলেও এখন এশিয়ার দেশগুলিতেও এটির প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। চীন, হংকং, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মহামারী সংক্রান্ত গবেষণাগুলিতে দেখা যায় যে, দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে ক্রোনসের চেয়েও আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি রয়েছে। তবে,ক্রোনস আক্রান্তের প্রবণতাও ক্রমবর্ধমান।

আই.বি.ডি এর কোন বয়স নেই। বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রায়শই অন্যায়ভাবে দুর্বল, অন্যের ওপর নির্ভরশীল এবং সমাজের বোঝা বলে ধরে নেওয়া হয়। বয়স্কদের প্রতি এমন মানসিকতা বদলাতে হবে,কমাতে হবে বয়স্কদের প্রতি বৈষম্যও। স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী সমিতিগুলি এই বিষয়গুলি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আই.বি.ডি-র চিকিৎসায় পরিবেশগত ঝুঁকির কারণগুলির পরিবর্তন এবং এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আই.বি.ডি সংক্রমণের ঘটনাকে লক্ষ্য করে গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, খাদ্য এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার সংমিশ্রণে যে পরিবর্তনগুলি ঘটে সেগুলি ইমিউন সিস্টেমের সাথে যুক্ত হয়ে অন্ত্রে ইমিউন ডিসরেগুলেশন ঘটাতে পারে, যা প্রদাহজনক অন্ত্রেব্যাধি(আই.বি.ডি)  সৃষ্টি করে।

ডায়েট :

অধিক মাত্রায় পাশ্চাত্য খাদ্য, উচ্চ চর্বি এবং পরিশ্রুত শর্করা জাতীয় খাদ্যগ্রহণ এবং সেই সাথে ফাইবার ও শাকসবজি কমমাত্রায় গ্রহণ অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং মিষ্টি পানীয়গুলিও অন্ত্রে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে জটিল কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি এবং ফলগুলি এই ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা নেয়।

প্রোটিন বিশেষ করে উচ্চ মাত্রার প্রোটিনজাতীয় খাদ্য থেকে আই. বি. ডি-র ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খাদ্য সংযোজন, যেমন ডিটারজেন্ট এবং ইমালসিফায়ার, অন্ত্রের এপিথেলিয়ামে ব্যাকটেরিয়ার আনুগত্য বাড়াতে সাহায্য করে।

এক্সক্লুসিভ এন্টারাল নিউট্রিশন (EEN) হল এমন একটি খাদ্যতালিকাগত চিকিৎসা যাতে একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য কোনো কঠিন উপাদান ছাড়াই সম্পূর্ণ তরল খাদ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। সক্রিয় ক্রোনস রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি বিশেষ কার্যকরী হয়েছে বলে জানা গেছে ।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা এবং আই.বি.ডি: 

আমাদের অন্ত্রের উপকারী মাইক্রোবায়োটা মেটাবোলাইট সংশ্লেষণ, বেরিয়ার ফাংশন এবং ইমিউন প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করে আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডিসবায়োসিস (অন্ত্রের জীবাণুর সংমিশ্রণে পরিবর্তন) দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে যা আই. বি.ডি কে ত্বরান্বিত করে এবং মাইক্রোবিয়াল গঠনকে আরও পরিবর্তন করতে পারে।

প্রোবায়োটিক এবং প্রিবায়োটিকগুলি  আই.বি.ডি এর সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রোবায়োটিক হল জীবন্ত অণুজীব যা স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার উপকারী প্রভাবকে অনুকরণ করে এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের চিকিৎসায় সীমিত কার্যকারিতা প্রদান করে। প্রিবায়োটিক হল অপাচ্য খাদ্য উপাদান যা অন্ত্রে ফার্মেন্টেশন করে উপকারী উপাদান তৈরি করে, যেমন শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা পরিবর্তন করে।

আই.বি.ডি এড়াতে প্রতিরোধমূলক কিছু টিপস :

* তাজা ফল এবং শাকসবজি খান।

* ক্যাফিনযুক্ত পানীয়,কড়া মিষ্টি যেমন জুস, ক্যান্ডি এবং সোডা খাওয়া কমিয়ে দিন।

* মদ্যপান হ্রাস করুন।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Powered by Joinchat