আন্তর্জাতিক গরম এবং মশলাদার খাদ্য দিবস

গতকাল অর্থাত্‍ ১৬ জানুয়ারী আমরা পালন করেছি আন্তর্জাতিক গরম এবং মশলাদার খাদ্য দিবস। এই দিবস পালন ও তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে লিখলেন সংবাদ প্রতিখনের সাংবাদিক আত্রেয়ী দো

 

১৬ই জানুয়ারি দিনটি ‘আন্তর্জাতিক গরম এবং মশলাদার খাদ্য দিবস’ (International Hot and Spicy Food Day) হিসেবে পালন করা হয়।গরম গরম বিভিন্ন ধরনের মশলাদার খাওয়ার রান্না করা ও খাওয়ার মাধ্যমে আজকের দিনটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের রন্ধনশৈলী এবং রান্নার উপকরণগুলি ভিন্ন ভিন্ন। সারা বিশ্বজুড়ে নানান রকমের মশলাদার সুস্বাদু খাবার রয়েছে যা আপনার জিভে জল আনতে বাধ্য।রান্নায় সবচেয়ে বেশি মশলার ব্যবহারকারী দেশ বলতে মেক্সিকোর কথা প্রথমে মাথায় আসে। প্রায় ৬০টিরও বেশি মশলার ব্যবহার রয়েছে এখানে। অনেক ধরনের মশলাযুক্ত খাবার রয়েছে, যা হয়তোবা আপনি ভাবতেও পারবেন না ,কিন্তু বহু পেটুক রয়েছেন যারা দিব্যি নির্ভাবনায় সেগুলি উদরস্থ করে জিভের স্বাদকোরকগুলোকে তৃপ্ত করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন।তবে হ্যাঁ, মশলার স্রোতে গা ভাসানোর আগে আপনাদের ছোট্টো একটা টিপস্ দি- আপনার স্বাদকোরকগুলির মতো আপনার পেটবাবাজিও মশলাস্রোতে গা ভাসাতে রাজি কিনা একটু যাচাই করে নেবেন।

এই দিনটির তাৎপর্য কি?

প্রায় ৬ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য মশলার ব্যবহার হয়ে আসছে। মশলার মধ্যে অনেক ধরনের ঔষধিগুণ রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের নিরাময়ে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মশলা আছে যার নিয়মিত সেবনে শরীরে বিভিন্ন রোগ-প্রদাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলিতে মশলার ব্যবহার বেশি করা হয়, কারন এতে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা।এই কারণে প্রাচীনকাল থেকেই মশলার ব্যবহার জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। প্রাচীনকালে গ্রীকরা পূর্বাঞ্চলীয় মশলা যেমন গোলমরিচ, দারুচিনি, আদা ভূমধ্যসাগরে আমদানি করত যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। প্রায় ৪৬০-৩৭৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিপোক্রেটিস বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ ও ভেষজ মশলা যেমন জাফরান, দারুচিনি, ধনিয়া, মারজোরাম বা অরিগানো ইত্যাদি সম্পর্কে লিখেছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৭২-২৮৭ এর মধ্যবর্তী সময়ে “উদ্ভিদবিদ্যার জনক ” থ্রিওফ্রাস্টাস তাঁর দুইটি বইতে মশলা এবং ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে লিখেছেন।

রোমানরা মশলার আরও একটি ব্যবহার সামনে আনে। তারা ওয়াইন, সুগন্ধি তেল এবং বাম জাতীয় ঔষধিতে মশলা ব্যবহার করত। কিছু মশলা তাদের ঔষধি গুণের কারণে প্লাস্টারে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা হত। বাত, অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা ইত্যাদির জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে হলুদ ব্যবহৃত হত। এতেই শেষ নয়। লঙ্কার একটি অন্যতম সক্রিয় উপাদান ‘ক্যাপসেইসিন'(capsaicin) ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে বহুল পরিচিত। এছাড়াও লঙ্কাতে আছে ভিটামিন সি যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী।

২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ছয় থেকে সাতদিন মশলা ব্যবহৃত খাবার খেলে মৃত্যুহার প্রায় ১৪% কমেছে।তাই, আপনি যদি মশলাদার খাওয়ার পছন্দ না করেন, তাহলে সময় এসেছে তা বদলানোর। আর এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শুধু আপনার স্বাদকোরকগুলিকেই না আপনার জীবনটাকে এক নতুনভাবে উপভোগের সুযোগ করে দেবে।

কিভাবে পালন করা উচিত দিনটি?  

প্রথমত কাছাকাছি কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজের পছন্দের মেক্সিকান বা ভারতীয় কোনো ডিশ অর্ডার করুন এবং রসনার তৃপ্তি ঘটান। যদি অতিরিক্ত মশলা পছন্দ না করেন, তাহলে বরং বাড়িতেই নিজের পছন্দের কোনো ডিশ বানিয়ে নিন আর নিজেই নিজেকে উপহার দিন একটি সুস্বাদু খাবার। এছাড়া একটা মজাদার প্রতিযোগিতার ব্যাবস্থা করতে পারেন, লঙ্কা খাওয়ার প্রতিযোগিতায়। ঝাল প্রেমীরা অংশগ্রহণ করুন আর দেখুন ১০মিনিটে কে সবচেয়ে বেশি লঙ্কা খেতে পারেন।

 এই দিনটি পালনের প্রয়োজনীয়তা কি? 

প্রথমত এই দিনটিতে বিভিন্ন মশলার ব্যবহার ও উপকারীতা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই মশলার ব্যবহার আরও বিস্তৃতি লাভ করে। নিত্যনতুন ডিশের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। এছাড়াও, রেস্টুরেন্টগুলির দিকেও আলোকপাত করা হয়,ফলে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ক্ষেত্রেও দিনটির অবদান রয়েছে।আর ভোজনরসিকদের কাছে এই দিনটির যে আলাদাই গুরুত্ব তা বলাই বাহুল্য।

%d bloggers like this: