পঞ্চায়েত স্তরে কর্মরত আয়ুস চিকিৎসকদের ১ম রাজ্য সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা: গতকাল ৬ ডিসেম্বর, ২০২২, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ভবন অডিটোরিয়ামে বিকেল ৩ থেকে অনুষ্ঠিত হল পশ্চিমবঙ্গ আয়ুস চিকিৎসকদের ১ম রাজ্য সম্মেলন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারপার্সন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন,  ডাঃ সিদ্ধার্থ নিয়োগী, ডাঃ আশীষ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। কেন এই সম্মেলন সে প্রসঙ্গে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে নিযুক্ত চিকিৎসক এবং ২০১১ সাল থেকে প্রতিদিন ৬ঘন্টা করে সপ্তাহে ৫দিন রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামে দ্বায়িত্বপূর্ণভাবে আয়ুশ চিকিৎসা পরিসেবা দিয়ে চলেছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতেও তাঁদের পরিষেবা তাঁরা বন্ধ করেন নি। শুধু তাই নয় পুরুলিয়া সহ আরো কয়েকটি জেলায় কোভিড ওয়ার্ডে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে তাঁদের চিকিৎসকদের নিয়োজিত করাও হয়েছিল। তবুও তাঁরা কোভিড যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মেন স্ট্রীম আয়ুশ চিকিৎসক হিসাবে তাঁরা স্বীকৃত, প্রতি বছর রাজ্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের  মাধ্যমে বরাদ্দ সাম্মানিক কেন্দ্রীয় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের থেকে নিয়মানুগ চেয়ে পাঠানো হয়, যা বর্তমানে দেশের সকল রাজ্যের তুলনায় সর্বনিন্ম। তবে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে তাঁদের সাম্মানিক বৃদ্ধি পায় এবং তখন তাঁদের কাজের সময় নির্দিষ্ট ছিল ৪ ঘন্টা প্রতিদিন, সপ্তাহে ৫ দিন। তারপর ২০১৬ সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাজ্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ডিরেক্টর তাঁদের কাজের সময় বৃদ্ধি করে করেন প্রতিদিন ৬ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৫ দিন। কিন্তু তাঁদের সাম্মানিক বৃদ্ধি আজও বাড়ানো হয়নি। অথচ তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারী কর্মসূচীতেও তাঁদের যুক্ত করা হয়। এরমধ্যেই সংবাদপত্রের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পঞ্চায়েত স্তরে নিযুক্ত আয়ুস ডাক্তারবাবুদের স্বাস্থ্যদপ্তরের অধীন অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে  গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত তাঁদের চিকিৎসকের সংখ্যা ৫৯০ জন।

মাননীয় সরকারের প্রতি এই সম্মেলন থেকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় আগামীতে সরকার যেন তাঁদের সম্মানের সাথে কাজে লাগান এবং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দপ্তর পরিবর্তন বিষয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান রেজোলিউশন তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন বলেও ঠিক করা হয়।

%d bloggers like this: