হ্যালোউইন আর ভূত চতুর্দশী কি একই?

কদিন আগেই আমরা পালন করেছি দ্বীপান্বিতা কালীপুজো, আর ঠিক্ক তার আগের দিন আমরা প্রতিবছর পালন করি ভূত চতুর্দশীএই ভূত চতুর্দশী আর বিদেশের হ্যালোউইন কী এক, সে বিষয়ে আলোকপাত করলেন সংবাদ প্রতিখনের প্রতিনিধি আত্রেয়ী দো

কালীপূজোর আগের দিন আমরা যেমন ভূত চতুর্দশী পালন করে থাকি ঠিক সেরকমই পশ্চিমের দেশগুলিতে পালন করা হয় হ্যালোউইন বা অল হ্যালো’স ইভ (All Hallow’s Eve)। অনেকেই ভূত চতুদর্শী এবং হ্যালোউইন দুটি দিনকে এক ভেবে ভুল করি, আসলে দুটি দিন ভিন্ন। এই উৎসব মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার উৎসব কিন্তু বর্তমানে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি পালন করতে দেখা যায়। প্রতি বছর ৩১শে অক্টোবর সারা বিশ্বজুড়ে উদযাপন করা হয় এই হ্যালোউইন উৎসব।চলুন এই উৎসব সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নিই।  এই উৎসবের ইতিহাস প্রায় ২০০০ বছরের পুরোনো। ১৭৪৫ সালে খ্রিষ্টানদের মধ্যে হ্যালোউইন শব্দের উৎপত্তি। ‘হ্যালোউইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ শব্দ ‘অল হ্যালোজ ইভ’ থেকে। হ্যালোউইন শব্দের অর্থ হল ‘পবিত্র সন্ধ্যা’ বা ‘শোধিত সন্ধ্যা’। হ্যালোউইন প্রাচীন আর্যদের একটি উৎসব।পশ্চিমী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই হ্যালোউইন উদযাপনের চল ছিল। এই উৎসবের সূচনা হয় মধ্যযুগে। তৎকালীন সময়ে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে বসবাস করত কেল্টিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা। কেল্টদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তাদের বছর শুরু হয় ১লা নভেম্বর থেকে। গ্রীষ্ম শেষে আবির্ভাব হত শীতের। এই সময়টি ছিল তাদের ফসল কাটার সময় এবং এই দিনটি ছিল ফসল কাটার শেষদিন। তাই এই দিনটি তাদের কাছে ছিল ফসল কাটার উৎসব, যার নাম ছিল ‘সামউইন’ বা ‘সাহউইন’। এই উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোউইন-এর আবির্ভাব। কেল্টিক সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশ্বাস ছিল এই দিনটিতে জীবিত ও মৃত মানুষদের মধ্যে কোনো সীমানা থাকে না। এই দিন মৃত ব্যক্তির আত্মা, ভূত-প্রেত পৃথিবীতে নেমে আসে এবং মৃত আত্মীয় স্বজনদের আত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রার্থনায় তারা দিনটি উৎসব আকারে পালন করত।তখন এই উৎসবের নাম ছিল সামউইন বা সাহউইন, পরবর্তীতে নাম হয় হ্যালোউইন বা অলহ্যালোস ইভ। পরবর্তী সময়ে আমেরিকাতে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই পরে সরকারিভাবে দিনটিকে ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানের এই হ্যালোউইন এর পরের দিন অর্থাৎ ১লা নভেম্বর দিনটি ‘অল সেন্টস ডে ‘(সব সাধুদের দিন) নামে পালিত হয়। এই উৎসবের মূল থিম হল – “হাস্যরস ও উপহাসের মধ্যে দিয়ে মৃত্যুর ক্ষমতার মুখোমুখি হওয়া”।  এই উৎসবের দিনটি বিভিন্ন হ্যালোউইন পোশাক পরিধান করা, কুমড়ো খোদাই করে হ্যারিকেন বানানো,ভূতুরে আলোচনা, গল্প করা,বিভিন্ন ভূতুরে ক্রিয়াকলাপ করা ইত্যাদি ভাবে মজার ছলে পালিত হয়। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে আমেরিকাতে পুরো অক্টোবর মাসব্যাপী তোড়জোড় চলে। প্রতিবছর এখানে ব্যয়বহুল উৎসব হিসেবে হ্যালোউইন পালন করা হয়, ফলে এই উৎসবের বাণিজ্যিক গুরুত্ব নেহাতই কম নয়।  কুমড়ো কৃতজ্ঞতা, উদারতা, ফসল কাটা এবং প্রাচুর্যের প্রতীক। আয়ারল্যান্ডে অধিবাসীরা কুমড়োকে খোদাই করে তার মধ্যে আলো জ্বালিয়ে ব্যবহার করতে থাকে। ধীরে ধীরে, এটি হ্যালোউইন উৎসবের একটি বিশেষ অংশ হয়ে ওঠে। বর্তমানে,ভারতে বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হ্যালোউইন উৎসবের জনপ্রিয়তা নজর কাড়ে।

%d bloggers like this: