পডকাস্ট কালচারে অস্তমিত রেডিও, আর টেলিভিশনের ভবিষ্যৎ?

এই মূহুর্তে অন্তর্জাল দুনিয়ায় প্রচলিত একটি নাম পডকাস্ট।পডকাস্টের চাপে কি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে রেডিও? সেই বিষয়ে আলোকপাত করলেন বুদ্ধদেব পান 

  

সেই দিনও আর নেই, আর নেই সেই সময়ও। বাড়ি ফেরত আমরা আর তেমন কেউ বলি না, ঘরে ফিরে টিভিটা চালিয়ে বসতে হবে। হাতে হাতে স্মার্টফোন, কিন্তু ডেটা ফুরনোর চিন্তা নেই। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা ওই যে ইউটিউবে কোনও ভিডিও দেখা। লাইভ ম্যাচটাও তো ফোনে দেখা যায়। সিনেমা দেখতে মাল্টিপ্লেক্সে না গেলেও চলে। এখন আমরা সুপারস্মার্ট। আমরা আবার আজকাল পডকাস্টও শুনি। গত প্রজন্মের কাছে এই পডকাস্ট শব্দটা একটু অচেনা হলেও, নব প্রজন্ম বা আমরা যাঁরা আশি-নব্বইয়ের দশকে জন্মেছি, তাঁদের কাছে এটা স্মার্ট চয়েস, ইন্টেলেকচুয়াল তো বটেই। রেডিও শোনা, সে অভ্যেসকে তো কবেই বিদায় জানিয়েছি। হ্যাঁ, বাড়িতে থাকলে অবশ্যই একটু-আধটু এফএম-এ গান শুনি। তবে বছর ছয়-সাতেক আগে হলে সেটাও একটা ট্রেন্ড ছিল ইন্টারনেট যখন সহজলভ্য, তখন কে আর রেডিও শোনে সেভাবে এযুগে! তারচেয়ে স্পটিফাই বা উইঙ্ক মিউজিক কিংবা প্রাইম মিউজিক ঢের ভালো। সাবস্ক্রিপশন থাকলে বিজ্ঞাপণে কান পাতারও ঝামেলা নেই। যেটা পছন্দ সেটাই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে একটা ট্যাপের তফাতে। সিগন্যাল স্ট্রং, তো মিউজিক কিংবা পডকাস্ট অন। সম্প্রতি ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্রোপেশন (বিবিসি) বাংলা সহ তাদের দশটি ভাষার সম্প্রচার পরিষেবা বন্ধ করেছে। বার্ষিক ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সঞ্চয়ের মধ্য দিয়ে নতুন রূপে পুরোপুরি অনলাইন বেসড ডিজিটাল পরিষেবা নিয়ে ফিরবে এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ বেতার সংস্থা। ১৯৪১ সালে বিবিসি বাংলার যাত্রা শুরু, নিয়মিত সম্প্রচার আরম্ভ ১৯৬৫ সাল থেকে। এতোদিন ভালই চলছিল, তাহলে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? কারণ, দুনিয়া এখন মেটাভার্সের দোরগড়ায় দাঁডিয়ে, ইন্টারনেট ডেটা আজ জলের চেয়েও সস্তা। সারাবিশ্বে ৩৬৪ মিলিয়ন মানুষের কাছে বিবিসি’র পরিষেবা রেডিও, টিভি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছায়। তাহলে ভাবুন তো, এই ইন্টারনেট যুগে আরও কতোটা সুযোগ থাকছে তাদের সামনে। বলাই বাহুল্য, পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। হেভি ইক্যুইপমেন্ট বলুন বা ট্রান্সমিশনের জন্য প্রচুর ম্যানপাওয়ার, কোনওটাই প্রয়োজন নেই। লাইসেন্স পাওয়া পক্ষান্তরে অনেকটাই সহজ। ছোটো স্টুডিওতে, আধুনিক সেটআপে আরও ভালো কাজ। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ডিজিটাল পরিষেবাকে আরও কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, ফাইভজি নেটওয়ার্কেগোটা বিশ্ব এখন কোনও অবাঞ্ছিত বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আরও দ্রুতগতির হতে চলেছে। বিজ্ঞাপন সংস্থারাও অনলাইন মাধ্যমকে প্রাধান্য দিচ্ছে। টেক জায়ান্টঅ্যাপল তো বলেই দিয়েছে, সাবস্ক্রিপশন ইজ দ্য ফিউচার। অতএব, সব নজর এখন ওই দিকে। রেডিও ছিল, আছে আর থাকবে, কিন্তু ইন্টারনেটের সৌজন্যে নতুন আঙ্গিকে, পোশাকি চেহারা হবে পডকাস্ট বেসড। আগামী দিনে টেলিভিশন দুনিয়াতেও আসতে চলেছে বড় বদল। স্মাটফোন, ইন্টারনেট, ওটিটি, সাবস্ক্রিপশন এইসব শব্দের মাঝে আমরা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। ঘরে টিভি থাকলেও, বাড়ি ফিরে তা দেখার ধৈর্য কিংবা অভ্যেস ক’জনেরই বা আছে বলুন তো? স্কিপ করতে না পারা বিজ্ঞাপন দেখি বটে, তবে ওই ২০ সেকেন্ডও যেন একটা গোটা দিনের মতো লাগে, সেখানে টিভির পর্দায় কমার্শিয়াল ব্রেক টু মাচ বোরিং। বলা চলে টাইম কিলিং। মেট্রো-বাস-ট্রেনে বসে সময় অতিবাহিত করত আজও আছে, তবে সোফায় বসে গা এলিয়ে টিভি দেখার সেই আমেজটা আর  নেই। স্মার্টফোন যুগযুগ জিও। কারণ, ওখানে সবকিছুই যেন অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ট্যুইটের ভিড়ে, ফেসবুকের ফিডে খবরের চয়েসটা আমাদেরই পছন্দের। নস্টালজিয়া আছে বটে, তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় রোমাঞ্চ আনলিমিটেড।

%d bloggers like this: