যুব সমাজের হাতে অস্ত্র নয়, তুলে দিতে হবে কলম

পর্ণালী ব্যানার্জী: আমার বর্ণ মালায় তোমার অর্ঘ সাজাই। তোমার হাত ধরেই বর্ণ পরিচয়ের সাথে হয়েছিল আমার পরিচয়। হে বীরসিংহ গ্রামের পুরুষ সিংহ তোমার আবির্ভাবে ধন্য এ বঙ্গভূমি। ধন্য এ নারী জনম। তোমার কাছে রইলো আমার নারী জনমের অপূরনীয় ঋণ। তোমার চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম।

“সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ  জননী রেখেছ বাঙালী  করে মানুষ  করোনি,” আজও আমরা মানুষ হতে পারলাম না, তাই আজ আমরা নগ্নতার ইতিহাসে সেরা, একটা মূর্তি  ভেঙেছে বলে আমরা কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু যেদিন মূর্তির ভেতরের আদর্শ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে সেদিন আমরা ছিলাম নিশ্চুপ। কোথায় ছিল সেদিন আমাদের কষ্ট? শুধু একজন মনীষী নয়, ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে সকল মনীষীর মূর্তির ভিতরের আদর্শ। যেদিন ভালো নম্বর থাকা সত্বেও কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে ইউনিয়নের হাতে তুলে দিতে হয়েছে পিতা মাতার বহু কষ্টে জমানো অর্থ। যা দিয়ে ইউনিয়নের দাদারা ফুর্তি করেছে সেদিন আমার আপনার মতো অভিভাবকেরা সব জেনে বুঝেও নিশ্চুপ থেকেছি। চোখের সামনে দেখেছি অনার্স পাওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্বেও অনার্স পায় নি। সেই জায়গায় কারো সুপারিশে অযোগ্য ছাত্র-ছাত্রী হাসতে হাসতে অনার্স পেয়েছে। আমরা সেদিনও কিন্তু  ছিলাম নিশ্চুপ। শিক্ষাঙ্গণে, আদর্শ ভাঙার দায়ে সোচ্চার হয়ে উঠতে পারিনি সেদিনও আমরা। আজও পারি না সোচ্চার হতে। মূর্তি সেইদিনই ভেঙে গিয়েছে যেদিন অযোগ্য লোকগুলোকে আমরা মান্যতা দিয়েছি। আর তারা এর সুযোগ নিয়ে নিজেদের দেবতা মনে করে নিয়েছে।

যে মানুষ শিক্ষার জন্য, নারী মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন, সেই মানুষের মূর্তি বহুদিন আগেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। কারণ আমি, আপনি প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন ও শিক্ষায় দূর্নীতি করে চলেছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কান্ডারী যুব সমাজের মধ্যে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে বিষবৃক্ষ তৈরী করে চলেছি। বোতলবন্দি দৈত্যদের উন্মুক্ত করে দেওয়া সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। অর্থের জোরে আজ আমাদের প্রতিবাদও বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সেই সমাজে বিদ্যাসাগর মহাশয় কেন, কোন মনীষীই থাকতে পারেন না। তাদেরকে রাখতে গেলে শিক্ষাঙ্গণকে করে তুলতে হবে প্রকৃত সংস্কৃতির অঙ্গন। সমাজের সকল স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে, না হলে মনীষীদের মূর্তির কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ আবর্জনার স্তূপে মনীষীদের মূর্তি  থাকার থেকে না থাকাই ভালো। শুধু মূর্তি নয় সকল মনীষীদের আদর্শকে বাঁচিয়ে  রাখতে গেলে, সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে আমাদের যুবসমাজকে। তা না হলে এই অরাজকতা চলতেই থাকবে। আর আমরা হবো তার নীরব দর্শক। সময় কাটাবো- নানা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনায়। অন্যের ব্যাক্তিগত ব্যাপারকে রাস্তায় টেনে হিচড়ে নামিয়ে এনে, পৈচাশিক আনন্দ পাবো। সম্ভব হলে এই নিয়ে হয়তো বিপ্লব করতেও  পিছপা হবো না।

কবি সুকান্ত  বলেছিলেন, এ পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার–। তার এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে গেলে যুব সমাজের হাতে অস্ত্র  নয়, তুলে দিতে হবে কলম। তা না হলে এখন যেমন তার উত্তরসুরীরা তার দেওয়া স্বপ্নকে সার্থক করতে পারে নি, তেমনি আগামী দিনে কেউ পারবে না।

%d bloggers like this: