মিলন, রং, সুগন্ধি ও শব্দের মেলবন্ধনে র উত্‍সব ওনাম

ওনাম, ভারতের দক্ষিনের অন্যতম এক রাজ্য কেরালার প্রধান উত্‍সব। আর এই ওনাম উত্সব্যের নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরলেন কেরালা থেকে সংবাদ প্রতিখনের দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধি কে.সি.সির্দ্ধাথ পানিকর

কথিত আছে এই সময়য়েই তিনি তাঁর প্রজাদের দেখতে আসেন। হ্যাঁ, তিনি আর কেউ নন তিনি রাজা মহাবলী। এই সময় বলতে ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় দশদিন ধরে চলা ওনাম উত্‍সবের কথাই বলা হচ্ছে। ওনাম হলো সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। আর কেরালার অনন্য ঐতিহ্যকে তুলে ধরে এই উত্‍সব। সমগ্র কেরালাবাসী এই সময়ে সকল ধর্মের উর্ধে উঠে নিজেদের বাড়ির সামনে ফুলের রঙ্গোলি বানিয়ে স্বাগত জানান রাজা মহাবলীকে।

কেরালাবাসী বিশ্বাস করেন যে রাজা মহাবলী বছরের এই সময়েই কেরালাতে ভ্রমণ করতে আসেন। ঐতিহ্যগতভাবে ওনাম উত্‍সব এই রাজ্যের ফসল কাটার উৎসব। কিন্তু আজকাল যেহেতু আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে বেশিরভাগ মানুষেরা বছরের বেশিরভাগ সময়টা কাজের সূত্রে বা অন্য কোনো কারণে বাড়ির বাইরে থাকেন তাই এই উৎসবে সবাই পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে একত্রিত হয়ে এটাকে পালন করেন।

কাজেই এটিকে সহজেই মিলন উত্‍সব বলা যেতেই পারে। সারা বিশ্ব থেকে মালয়ালীরা এই সময়টায় ফিরে আসেন তাঁদের রাজ্যে, শুধুমাত্র এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওনাম পালন করতে। রঙিন ওনাম উত্‍সবের অন্যতম আকর্ষণগুলি হলো – পুক্কালাম বা ফুলের কার্পেট, ওনাম সাদ্য (১০ দিনের উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন – এই তিরুভোনম দিনে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।) সাদ্য বা খাওয়াদাওয়া বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম হয় কিন্তু এর মধ্যে যে জিনিসটা একই থেকে যায় যেটি হলো কলাপাতা। দক্ষিণ কেরালায় পরিবেশিত খাবারগুলো মালাবার অঞ্চলে অর্থাত্‍ উত্তর কেরালা পরিবেশিত খাবারের থেকে আলাদা হয়। এছাড়াও, ওনামকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় নানা অনুষ্ঠান।

যাদের মধ্যে পুলিকালি (ত্রিচুর) কুম্মত্তিকালি (পালঘাট এবং ত্রিচুর) থুম্বি থুল্লাল এবং তিরুভাথিরা কালীর মতো বেশ কয়েকটা নৃত্যও পরিবেশন করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে পুলিকালি হলো এমন একটা ধরণের নৃত্য যেখানে শতাধিক শিল্পীদেরকে বাঘের মতো এঁকে সাজানো হয় আর তাঁরা তাঁদের অসাধারণ নৃত্য পরিবেশন করে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করে তোলে। এই দিন দক্ষিণ কেরালায় আরানমুলা স্নেক বোট রেস আয়োজিত হয়। প্রাচীন তথ্য অনুযায়ী শোনা যায় যে একজন ব্রাহ্মণ একদিন প্রার্থনা করছিলেন, তাঁর চোখ খুলতেই তিনি একটি ছেলেকে দেখতে পান। ব্রাহ্মণ সেই ছেলেটাকে স্নান করিয়ে তাকে নতুন কাপড় ও খাবার দেয়। ছেলেটা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ব্রাহ্মণ সেই ছেলেটাকে আবার আরনমুলা মন্দিরে দেখতে পায় যার পরে সে অদৃশ্য হয়ে যায়। ব্রাহ্মণ নিশ্চিত হন যে সেই ছেলেটা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু ছিলেন এবং সেই দিন থেকে তিনি প্রতি ওনামে সাপের মতো দেখতে নৌকায় (স্নেক বোট) করে খাবার,  নতুন জামাকাপড় মন্দিরে নিয়ে যেতেন।

এই রীতিটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং এখান থেকেই আরানমুলা নৌকা প্রতিযোগিতার রীতি শুরু হয় যা আজ বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এবং পর্যটকরা এই অনুষ্ঠানটা দেখার জন্য আলেপ্পি জেলায় ভিড় করেন। ওনামের সপ্তাহ শুরু হয় ৬ সেপ্টেম্বর থেকে আর এটা ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। এককথায় বলতে গেলে বলা যায় ওনাম হলো রং, সুগন্ধি ও শব্দের মেলবন্ধন, মিলনের এই উত্‍সবই তো আমাদের ভারতের অন্যতম ঐতিহ্য।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading