উত্তর সম্পাদকীয়

জাদুকরী তুলসি

তুলসী গাছ ও তুলসী পাতা আমাদের প্রত্যেকের জীবনের প্রতিক্ষণে কতটা প্রয়োজন এবং জরুরী সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করলেন আত্রেয়ী দো

 

গ্রামবাংলায় সন্ধ্যা নামে তুলসি মঞ্চে প্রদীপের আলো আর শঙ্খধ্বনির আওয়াজে। হিন্দুধর্ম ও সংস্কৃতিতে তুলসি গাছকে দেবী রূপে পূজা করা হয়। প্রায় প্রতিটি হিন্দু বাড়িতেই তুলসি গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে, ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এর ভেষজ গুরুত্বও নেহাত কম নেই। আসুন জেনে নেই তুলসির গুণাবলী-

১. সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশিতে তুলসির ব্যবহার বহুল প্রচলিত। চায়ের সাথে তুলসি পাতা, দারুচিনি গুঁড়ো ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে আরামদায়ক ফল হয়। বাচ্চাদের তুলসি পাতার রস পানীয় জলের সাথে মিশিয়ে ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর অল্প অল্প করে খাওয়ানো যেতে পারে, জ্বরের উপশম হবে।

২. তুলসির রস হজমে সাহায্য করে। পিত্তাশয়ের সমস্যায় তুলসি পাতার সেবনে হজমের উন্নতি হবে।

৩. নিয়মিত তুলসি পাতার রস সেবন বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪. তুলসিকে ‘অ্যাডাপ্টোজেনিক’/ ‘অ্যান্টি-স্ট্রেস এজেন্ট’ বলা হয়। মানসিক চাপ ও অবসাদ কাটাতে তুলসি পাতার রস বেশ কার্যকরী। দিনে দুইবার তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলে মানসিক চাপ থেকে অনেকটাই আরাম পাওয়া যাবে।

৫. তুলসি পাতার রস রক্ত তরল ও বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।

৬.লিভারের সমস্যাতেও তুলসির রস কার্যকরী।

৭. তুলসির মধ্যে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ আছে, যা খাবার জাত অসুখের (Food Borne Illness) থেকে বাঁচায়।

৮. আয়ুর্বেদিক কাশির সিরাপের(cough syrup) মূল উপাদান হল তুলসির রস। ব্রঙ্কাইটিস,হাঁপানিতে তুলসির রস উপকারী। নিয়মিত তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলেও সর্দি-কাশি হওয়ারসম্ভবনা কমে।

৯. গলাব্যথায় তুলসির রস কার্যকরী। তুলসি পাতা জলের সাথে ফুটিয়ে, ছেঁকে খেলে গলা ব্যথার উপশম হয়। এই মিশ্রণটি দিয়ে গারগেল করলেও বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে।

১০. পেটের সমস্যা, বমিভাব ইত্যাদিতেও তুলসি পাতা উপকারী।

১১. শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় তুলসি উপকারী। তুলসি পাতার নির্যাস,মধু আর আদা মিশিয়ে খেলে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, সর্দি-কাশিতে বেশ উপকারী। ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে তুলসি পাতার রস, লবঙ্গ এবং লবণের মিশ্রণ বানিয়ে সেবন করলে কার্যকরী ফল দেবে।

১২. বৃক্কে পাথরের (kidney stone)চিকিৎসায় তুলসি পাতার নির্যাস খুব উপকারী। মূত্রথলিতে পাথর(renal stone) হলে, ৬ মাস পর্যন্ত নিয়মিত তুলসি পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

১৩. হৃদরোগ এবং হৃদরোগজনিত দুর্বলতার ওপর তুলসির প্রভাব উল্লেখযোগ্য। নিয়মিত তুলসির রস সেবনে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে।

১৪. ত্বকে চিকেন পক্সের দাগ থাকলে,তুলসির রসের সাথে স্যাফ্রন মিশিয়ে খেলে দ্রুত দাগ মিলিয়ে যাবে।

১৫. তুলসি পাতা জলের সঙ্গে ভালোভাবে ফুটিয়ে,ঠান্ডা করে ছেঁকে নিয়ে নিয়মিত মুখে মাখলে ব্রণের দাগ মিলিয়ে যায়। ত্বকের কোনো সমস্যা না থাকলেও তুলসির নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে।

১৬. মুখের ইনফেকশন, ঘায়ের ওপর তুলসি যথেষ্ট প্রভাবশালী। তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলে এই অবস্থা থেকে আরাম পাওয়া যাবে।

১৭. পোকামাকড় কামরালে,সেই ক্ষতস্থানে কয়েক ঘণ্টা অন্তর অন্তর টাটকা তুলসি পাতার রস অথবা তুলসি পাতা বেটে লাগালে কার্যকরী ফল দেবে।

১৮. নিয়মিত তুলসি পাতার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

এভাবেই বছরের পর বছর ধরে তুলসি তার জাদুকরী গুণে সমৃদ্ধ করেছে প্রকৃতি মায়ের কোল।