উত্তর সম্পাদকীয়

জনঅরণ্যের সোমনাথ চিরনিদ্রায়

বাংলা চলচ্চিত্র, মঞ্চ সহ বেতার নাটকের অন্যতম অভিনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসানে তাঁর স্মৃতিচারণে সাংবাদিক কিশলয় মুখোপাধ্যায়বাংলা চলচ্চিত্র, মঞ্চ সহ বেতার নাটকের অন্যতম অভিনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসানে তাঁর স্মৃতিচারণে সাংবাদিক কিশলয় মুখোপাধ্যায়

“চারিপাশে পৃথিবীটা যে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে, জীবন যে তার ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছে তাই-আজকে দাদা যাবার আগে / বলব যা মোর চিত্তে লাগে / নাই বা তার অর্থ হোক / নাই বা বুঝুক বেবাক লোক / হ্যাংলা হাতি চ্যাং দোলা / শূণ্যে তাদের ঠ্যাং তোলা / মক্ষীরাণীর পক্ষীরাজ / দুষ্ট ছেলে শান্ত আজ /” —–১৯৯২ সালের জুলাই মাসের নন্দন পত্রিকার ‘সত্যজিৎ সংখ্যায়’ সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণে কথাগুলি বলেছিলেন জনঅরণ্যের ‘সোমনাথ’ অর্থাত্‍ অভিনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। ‘শান্ত আজ’ তিনি নিজেই। আজ সকালে ৮:১৫ মিনিট নাগাদ দমদম ক্যান্টনমেন্টের মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ফলস্বরূপ ১৯৭৩ সালে আইন পাস করে ওকালতির সঙ্গে সঙ্গেও তিনি থিয়েটারে অভিনয় করতেন। সন্মোহন ও ভক্তি মুখোপাধ্যায়ের এই উকিল পুত্রের থিয়েটারে হাতেখড়ি তপন থিয়েটারে। এরপর নক্ষত্র থিয়েটার গ্রুপে অভিনয় করার সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সাক্ষাত্‍। এরপর জনঅরণ্য ছবিতে তাঁর অসাধারন অভিনয়ের ফলে ‘সোমনাথ’ বাঙালির মননে আজও রয়ে গেছে। অভিনয়ের জন্য ‘ফিল্ম ফেয়ার ইষ্ট’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেন যেমন সতী, হীরের আংটি, দহন, চাকা, উৎসব, মন্দ মেয়ের উপখ্যান, গোরস্থানে সাবধান, গয়নার বাক্স ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি দত্তা ছবির শুটিং চলাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে পরেন। জনঅরণ্য থেকে দত্তা- অভিনয় জীবনের পথে কাজ করতে করতেই তাঁর জন্ম মাসেই ( ১১ আগস্ট) তিনি পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে আর রেখে গেলেন তাঁর অসাধারন অভিনয়ের সিনেমাগুলো, যেগুলি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে করবে সমৃদ্ধ।