উত্তর সম্পাদকীয়

ভাব সাগরের সাধক পান্নালাল

বর্তমানের অশান্ত পৃথিবীতে এত হানাহানি, সকলেই একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে সকল কিছুতে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে, চতুর্দিকে হিংসা, লোভ-লালসার ভ্রূকুটি আমাদের শান্তি বিঘ্নিত করে স্নিগ্ধ ধরাকে করে চলেছে নষ্ট, আর এই সময়ে বড়ই প্রাসঙ্গিক সকল অজ্ঞানতার অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে চেতনার চৈতন্যে অবগাহক করে সকল হিংসা-দ্বেষ ভুলে পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করা আমাদের সকল অহংকারকে দূরে সরিয়ে সাধারণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে সকল চাওয়া-পাওয়ার উরঢে উঠে ক্ষণজন্মা যে মানুষটি নিজের শিল্পীস্বত্বা দিয়ে সকল মানব জাতিকে একসুরে বেঁধে ফেলেছিলেন সংগীতের অপরূপ মায়াজালে, সেই মানুষটি যিনি শ্যামা সংগীতকে করেছিলেন আপনার আমার সকলের একান্তের, সেই মানুষটি অর্থাত্‍ শ্যামা সংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্য্য আমাদের মধ্যে মাত্র ৩৬টি বসন্ত কাটিয়ে অকালে পাড়ি জমান অমৃতলোকে, কিম্বদন্তি শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে কলম ধরলেন পারমিতা চক্রবর্তী ভট্টাচার্য্য 

pannalal

আমার চেতনা চৈতন্য করে
দে মা চৈতন্যময়ী।
তোর ভাব সাগরে ভেসে আমি
হব মা তোর পদাশ্রয়ী।
অজ্ঞান মোর সবার থেকে
তোর ভাবে তুই নে মা ডেকে
জ্ঞানচক্ষু মেলে দেখি
ও মা কেমন তুই জ্ঞানময়ী।
তোর ভবের খেলা দিয়ে
দেখা আমার যা-কিছু সব
অভাব মিটিয়ে।
কতুহল মোর এ জীবনে
নিয়ে নে মা তোর ও চরণে
মহানন্দে যাই চলে মা
হয়ে সর্ব রিপু জয়ী।

খুব অল্প দিনের জন্য পৃথিবীতে এসেও যারা মানুষের মনে রেখে যেতে পারেন এক গভীর ভাব চেতনা, তেমনি একজন ক্ষণজন্মা  মানুষ হলেন গায়ক পান্নালাল ভট্টাচার্য্য। কোনো এক চৈত্রের শুরুতে যার জন্ম আর চলে যাওয়াও সেই চৈত্র শেষে হুহু করা বাতাস বইয়েই , সেই পান্নালাল ভট্টাচার্য্য আজীবন ছিলেন মাতৃ সাধক। বংশগত ভাবে শাক্ত হলেও, মনের গভীরে ছিলেন বৈষ্ণব,  ঠিক যেন রামপ্রসাদ, কমলাকান্তের মতোই তাদেরই পথের বার্তাবাহক হয়ে তার এই পৃথিবীতে আগমন। তাই ওপর থেকে তিনি সাধারণ এক সংসারী মানুষ কিন্তু মনের ভেতরে মাতৃ দর্শনের জন্য সবসময়ের হাহাকার তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াতো। প্রায়ই চলে যেতেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মা ভবতারিণীর দর্শনে। এমনই একদিন কোথাও এক অনুষ্ঠান শেষে বা হয়ত প্লেব্যাক শেষে গায়ক পান্নালাল আসছেন আরো অনেক গায়ক, গায়িকার সাথে ট্রেনে চেপে বালির দিকে। বাকিরা গল্প গুজবে মশগুল থাকলেও, বালি স্টেশন ঢোকার আগে গায়ক পান্নালাল দাঁড়িয়ে আছেন ট্রেনের দরজার কাছে, কিছুটা বিমর্ষতায় ও ভাবসাগরে ডুবে। সহশিল্পীরা জিজ্ঞেস করায় বললেন যে মাকে আজ কেন তুঁতে রঙের বেনারসি শাড়ি পড়ানো হলো?   সঙ্গীদের মধ্যে সেদিন ছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়,  নির্মলা মিশ্র, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়,  সুপ্রীতি ঘোষের মতো শিল্পীরা। বিশ্বাস করেননি তারা প্রথমে, পরে পান্নালালের কথায় তড়িঘড়ি নেমে পড়েন বালি স্টেশনে, কাছেই দক্ষিণেশ্বর;  পরখ করে দেখা যায় যে সেদিন মা সত্যিই তুঁতে রঙের বেনারসি পরিহিতা। হাওড়া জেলার রামকৃষ্ণপুরে আদি নিবাস হলেও পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য চলে আসেন বালিতে। ১৯৩০ সালের ৫ মার্চ হাওড়া জেলার বালির বারেন্দ্র পাড়ায় জন্ম সুরেন্দ্রনাথ ও অন্নপূর্ণার ছোট ছেলে পান্নালালের।  শোনা যায় তাঁর মায়ের গলায় ছিল অসম্ভব সুর যার পরিস্ফুটন ঘটেছিল তারই দুই ছেলে ধনঞ্জয় ও পান্নালালের গলায়। পান্নালাল তাঁর মাতৃগর্ভে থাকা কালীনই বাবাকে হারান। আট বছরের বড়ো মেজদা ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য তাঁর কাছে ছিলেন পিতৃতুল্য। বাড়িতে গানের পরিমন্ডল ছিলই,  তাই শুরুতে আলাদা করে প্রশিক্ষণ নিতে হয়নি। নিজের খেয়াল খুশিতেই গাইতেন। পরবর্তীতে তাঁর সংগীত গুরু হিসেবে আসেন ডঃ যামিনী গঙ্গোপাধ্যায়।  কিশোর বয়স থেকেই তিনি গানের জগতে। প্রথম দিকে কিছু বাংলা আধুনিক গান গেয়েছেন কিন্তু জনপ্রিয়তা পাননি। বরং চূড়ান্ত হিট হলেন জীবনে একের পর এক শ্যামাসংগীত প্লে ব্যাক করেই। তাই পরবর্তীতে পান্নালাল ভট্টাচার্য্য জনপ্রিয় হয়েছেন শ্যামাসংগীত গায়ক হিসেবেই। তিনি মূলত রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য এর শ্যামাসংগীত গুলি গাইলেও,  বেশ কিছু গান তিনি গেয়েছেন নজরুল ইসলামের লেখা ভক্তিগীতি ও রজনীকান্তের। ১৯৪৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিখ্যাত গায়ক সনৎ সিংহের সঙ্গে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি মেগাফোনে। প্রথম দিকে পান্নালাল আধুনিক বাংলা গান গাইতেন। ইচ্ছে ছিল প্লে ব্যাক করবেন আর চলচিত্রে আধুমিক গানেই মূলত অংশ নেবেন,  কিন্তু শুরুর দিকের এমন আধুনিক অল্প কিছু গান রেকর্ড করেও সেভাবে চলে নি। তার পর সনৎ সিংহের এক বন্ধু পান্নালালকে দিয়ে একটি শ্যামাসঙ্গীত গাওয়ান, সেটি ছিল- ‘আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলই ফুরায়ে যায় মা’ ১৯৫৬ সালে রেকর্ড হওয়া এই গানটি আজও ‘ক্লাসিক’  হিসেবে বাঙালি সমাজে সমাদর পায়।

149274739_1955175504622875_8761804105952090197_o

মা, আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল
সকলি ফুরায়ে যায় মা।
জনমের শোধ, ডাকি গো মা তোরে
কোলে তুলে নিতে আয় মা
সকলি ফুরায়ে যায় মা।
এই পৃথিবীর কেউ ভালো তো বাসে না
এ পৃথিবী ভালোবাসিতে জানে না
যেথা আছে শুধু ভালোবাসাবাসি
সেথা যেতে প্রাণ চায় মা।
কত জ্বালা সয়ে বাসনা তেজেছি
কত জ্বালা সয়ে কামনা ভুলেছি
অনেক কেঁদেছি আর কাঁদিতে পারি না
বুক ফেটে ভেঙে যায় মা।
সকলি ফুরায়ে যায় মা।

149560606_1955498754590550_7537541499495602122_o

যদিও এর আগে তিনি বেশ কিছু শ্যামাসঙ্গীত রেকর্ড করেছিলেন। ১৯৫২ সালে এইচএমভি থেকে তাঁর ‘সদানন্দময় কালী’ গানটি বেরোয়। এরপরে ১৯৫৩ সালে বের হয় ‘আমার মায়ের পায়ের জবা’ গানটি। এই দুটি গান ওঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। এমনিতে চল্লিশের দশকের শেষ থেকেই তিনি যেমন গান রেকর্ড করেন, তেমনি ছিলেন একজন নিয়মিত বেতার শিল্পীও। তার আরো বেশ কিছু গানের  মধ্যে ছিল, ‘আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে’, ‘তুই নাকি মা দয়াময়ী’, ‘তুই যে কেমন দয়াময়ী’, ‘সকলই তোমারই ইচ্ছা’, ‘আমায় দে মা পাগল করে’, ‘মুছিয়ে দে মা আমার এ দুটি নয়ন’ ইত্যাদি। তখন বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগ রচিত হচ্ছে শচীন দেব বর্মন, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, জগন্ময় মিত্রদের হাত ধরে। এদিকে তখন পাঁচের দশকের স্বনামধণ্য ভক্তিরসাত্মক গায়ক  কে মল্লিক, ভবানী দাস, মৃণালকান্তি ঘোষের পর ভক্তিগীতিতে নতুন শিল্পীর প্রযোজন মিটিয়ে সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে পান্নালালের আবির্ভাব ঘটলো পরিপূর্ণ ভক্তিরসেই। জীবদ্দশায় ৩৬টি আধুনিক গান সমেত ১৮টি রেকর্ড, ৩টি বাংলা ছায়াছবির গান, এবং ৪০টি শ্যামাসঙ্গীতের রেকর্ড আছে পান্নালাল ভট্টাচার্য্য এর। শ্রী অভয় নাম দিয়ে তাঁর লেখা, সুর করা বেশ কিছু শ্যামাসঙ্গীত আছে। কিন্তু কি ছিল পান্নালালের কণ্ঠে যার জাদুতে আজও তাঁর গান ঠিক যেন গিয়ে ধাক্কা মারে বুকের একেবারে গভীর অন্তস্থলে । একি প্রশিক্ষনে রপ্ত করা সম্ভব? তাই যদি হবে তবে আর কেউ এমন ভাবে প্রশিক্ষিত হলেন না কেন এমন ভক্তিগীতির রসে? এখানেই হয়ত বলা যায় যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য তিনি। ছোট থেকেই এক দিব্য সংযোগের প্রবাহের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর জীবনে বারবার। কিশোর পান্নালাল একদিন ছিপ নিয়ে বসেছিলেন হাওড়া বালি চক্রবর্তী গঙ্গার ঘাটে আর গাইছিলেন রাম প্রসাদী গান। এমন সময় হঠাৎ আলোকপরিমন্ডিত দিব্যকান্তি পুরুষের উদ্ভব ! যার নির্দেশ ছিল- ‘গা গা পান্না মা এর গান গা’… সেই তো শুরু, মা এর গানই তিনি গলায় বসিয়ে নিলেন চিরদিনের মতো- নিবিড় সাধক হয়ে গান ধরলেন   ” মন্ত্র তন্ত্র কিছুই জানিনে মা’। মন্ত্র না জেনেও শাক্ত সাধক হতে পেরেছিলেন একসময়। কালীঘাটের মন্দিরে দাঁড়িয়ে মায়ের গান করতে করতে একসময় বাহ্যজ্ঞান শূন্য হয়েছিলেন। বালির বাড়িতে প্রায়শই সাধনাকালে তাঁর এমন অভিজ্ঞতা অনেক ছিল। মধ্যরাতে এক উজ্জ্বল জ্যোতির প্রকাশ হতো, আর তা মিলিয়ে যেত তাঁর ঘরের ঠিক পেছনে বাগানের বেল গাছে। বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ছেলে এবং পান্নালাল ভট্টাচার্যের ভাইপো তথা আর এক শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য পান্নালালের ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কে জানান- এমনিতে ভীষণই সাধারণ এক সংসারী মানুষ, যিনি মেয়েদের খুব সম্মান করতেন। স্ত্রী, তিন কন্যা,  ভাইপোদের নিয়ে জড়িয়ে ছিলেন সংসারে আর পাঁচজনের মতোই। ভালো রান্না করতেন,  মেয়েদের চুল বেঁধে দিতেন,  স্ত্রীর জন্য নিজে পছন্দ করে শাড়ি কিনতেন। ভালোবাসতেন ঘুড়ি ওড়াতে, মাছ ধরতে আর ছিলেন মোহনবাগান এর একনিষ্ঠ সমর্থক, কখনো মোহনবাগান হেরে গেলে তাঁর আর সেদিন খাওয়ার ইচ্ছে থাকতো না। দাদা ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য ছিলেন তাঁর কাছে পরম শ্রদ্ধাভাজন।

advt-1

এতটাই ভালোবাসতেন আর পছন্দ করতেন তাঁর অগ্রজকে যে, পারিবারিক সূত্রে শোনা যায় যে তিনি হাঁটা চলা এমনকি ধুতি পড়াতেও নকল করতে চেষ্টা করতেন ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্যকে। সংগীতের দিক থেকে এতটাই সম্মান করতেন তাঁকে যে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য এর মতো আর কেউই এমন ভক্তিগীতি গাইতে পারবে না আর সর্বদায় স্টেজ শো থাকলে নিজে আগে গেয়ে নেমে যেতেন, বলতেন- মেজদা থাকলে আর গাইতে পারব না। অন্যদিকে স্বয়ং ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্যও বলতেন যে পান্নার মতো এমন নাড়ি ছেঁড়া মা ডাক ডাকতে পারি কই?  প্রায়শই যেতেন দক্ষিনেশ্বরের মা ভবতারিণীর মন্দিরে। কখনো প্লে ব্যাকের জন্য যাওয়া না হলেও মন সেখানেই পরে থাকতো। প্রতি কালীপুজো ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য ও পান্নালাল ভট্টাচার্য্য সংগীতানুষ্ঠান করতেন দক্ষিনেশ্বরে আর তারপর থেকে যেতেন সেই রাতটি মন্দিরেই। মায়ের সাথে সংগীতের মাধ্যমেই নাড়ির যোগাযোগ গড়ে ওঠে যেন পান্নালালের,  কিন্তু দর্শনের আশা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খেত অবিরাম। তাই জীবনের শেষ দিকটা কিছু বিভ্রান্ত থাকতেন, আশা করতেন কবে তারও, দাদা ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য এর মতো মাতৃ দর্শন হবে। ভক্তিরস সিঞ্চিত গায়কী তে নিজস্ব আবেদনে তিনি যে ঘরানার মাতৃবন্দনা করতেন তাতে যেন তাঁর কণ্ঠে কিছু ভক্তিগীতিকে তিনি কালজয়ী করে গেলেন। কিছু গান যেমন ‘ওপার আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে’, ‘মা তোর কত রঙ্গ দেখব বল’  বা ‘চাই না মা গো রাজা হতে ‘ এসব গেয়ে যেন তিনি বারবার তাঁর দিব্য লাভের অতৃপ্তিটা ফুটিয়ে তুলতেন আর বুঝে ছিলেন হয়ত সংসারের বন্ধনে জড়িয়ে থাকলে দর্শন হবেনা। সংসারী পান্নালাল  তাই একসময় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। ‘দোষ কারো নয়গো মা/ আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা‘- গানের মধ্যে দিয়ে বারবার খুঁজে ফিরেছেন মাকে। প্রায়ই শ্মশানে গিয়ে বসে থাকতেন আর মা কালিকে দেখতেন, দুচোখে ভরে উঠত জলে,  চিৎকার করে মা-মা করে ডেকে যেতেন, উচ্চ মার্গের সাধক ছাড়া এ যেন অসম্ভব। ১৯৬৬ সালে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্য এর সুরে পান্নালাল রেকর্ড করলেন ‘ অপার সংসার নাহি পারাপার ‘ শ্যামাসঙ্গীত। আর সেই বছরই ২৭শে মার্চ মানসিক অবসাদে,  মাতৃদর্শনের চূড়ান্ত অতৃপ্তি নিয়ে তাঁদের কাঁকুলিয়া রোডের বাড়িতে পান্নালাল আত্মহত্যা করেন।

gnc-advt-6x4-for-web

তাঁর ভাইপোর কথায়, “কাকা অকালে চলে যাওয়ার পরে বাবা ভেঙে পড়ে মায়ের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন দুটি গানে। দুটি গানেই সন্তানসম পান্নালালের কথা,  ‘ ত্রিভুবন জয় করিয়া রাবণ আনিল রত্নরাজি/গড়েছিল তার স্বপ্ন রাজ্য পান্না যে তার নাম’,  আর ‘ থির হয়ে তুই বস দেখি মা দুটো কথা কই/আজ আছি মা শান্ত হয়ে কাল যদি না রই’! খ্যাতির মধ্য গগনে থাকাকালীনই  কোনোরকম বাস্তবের সমস্যা জর্জরিত না হয়ে,  মন থেকে জাগতিক মোহ হেলায় বিসর্জন দিয়ে,  এমনকি সংগীতের মায়াময় জগৎকেও কাটিয়ে দিয়ে এভাবে সংসার থেকে চলে যাওয়া আর হয়ত কারো পক্ষে সম্ভব না।  মাত্র ৩৬ বছরে পান্নালাল আত্মহত্যা করলেন অকালে। কিন্তু দশকের পর দশক জুড়ে রয়ে গেলেন মানুষের মনে চিরন্তন ভক্তিধারার প্রবাহে, তাই আজও মায়ের মন্দিরে মন্দিরে, বিশেষত কালীপুজোর দিন মাতৃবন্দনায় পান্নালালের শ্যামাসংগীত একই ভাবে সমাদৃত। মাতৃ পুজোর আয়োজন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় পান্নালালের গান ছাড়া,  তাই স্ব-ইচ্ছা মতোই যেন তিনি মায়ের পায়ের জবা হয়ে ফুটে রইলেন আমরণ।

জন্ম – ৫ই মার্চ, ১৯৩০,   মৃত্যু – ২৭শে মার্চ, ১৯৬৬

advt-1advt-3advt-4advt-5Untitled-2gif advt