বাংলার পাল রাজাদের আমলে ৩য় পাল রাজা দেবপালের নামানুসারে বানগড় পরিচিতি পায় দেবকোট নামে। পাল ও সেন আমলে সদাই চর্চিত হয়েছে দেবকোট বা দেবিকোট। এই স্থানে পাল ও সেন রাজাদের আমলে স্থাপন করা হয়েছিল পরিখা ও উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত দুর্ভেদ্য দুর্গ। দুর্গ প্রসাদ ছাড়াও ছিল বহু হিন্দু মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, বাগিচা, সরাইখানা, পরিকল্পিত জলাধার প্রভৃতি।আপনারা হয়ত ভাবছেন কোথায় ভ্রমণের জন্য একটা ভাল জায়গার হদিস দেব তা না দিয়ে কি সব ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করছি। একটা কথা জানেন নিশ্চয়, কোনও জায়গাকে জানতে হলে তার প্রচীন ইতিহাস জানাটাও বিশেষ দরকারী। না হলে সেই স্থানটি দেখা অপূর্ণ থেকে যায়। ভাবছেন তো জায়গাটা কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরেই রয়েছে এমন একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান।বালুরঘাট স্টেশন থেকে গাড়িতে তপন-বালুরঘাট বাইপাস ধরে ৩৮ কিমি ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের দূরত্বে। অপরদিকে গঙ্গারামপুর স্টেশন থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পথ পেরোলেই হাজির হবেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে। এই বানগড় এখন শুধুই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। স্বাধীনতার আগে ১৯৩৮ থেকে ১৯৪১ সাল অবধি এই স্থানের খননকাজ চলেছিল অধ্যাপক কুঞ্জ বিহারী গোস্বামীর নেতৃত্বে। জায়গাটি লম্বায় ও চওড়ায় যথাক্রমে ৬০০ মিটার ও ৫০০ মিটার ছিল।
কিভাবে যাবেন : কলকাতা থেকে সরাসরি ট্রেন পথে প্রায় ১২ ঘন্টার জার্নি করে বালুরঘাট পৌঁছে সেখান থেকে পৌঁছতে পারেন বানগড়ে। মজার কথা কলকাতা থেকে সরাসরি সড়ক পথে এখানে পৌঁছতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা।
কি দেখবেন এখানে?: পুনর্ভবা নদীর পাড়ে অবস্থিত পাল ও সেন যুগের সেই সময়ের ইতিহাস এখনোও জানান দিচ্ছে কত উন্নত ছিল আমাদের প্রাচীন সভ্যতা। বানগড়ে খনন কার্যের ফলে প্রাপ্ত জিনিসপত্র দেখতে গেলে অবশ্য আপনাদের যেতে হবে বালুরঘাট কলেজ মিউজিয়ামে। আর যে পথ ধরে অনিরুদ্ধ উষাকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তার নাম উষাহরণ সড়ক যা বর্তমানে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে অবস্থিত। আর তপন থানার কাছেই রয়েছে করদহ নামক স্থানটি। কাজেই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে ইতিহাসের সাক্ষী হতে হলে একবার না একবার আসতেই হবে এখানে।

