খবর

বিশেষ প্রতিবেদন: ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে আমরণ অনশন

uit-college-buildingপি ভট্টাচার্য্য : বর্ধমান জেলার প্রাণকেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি যা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খোলা একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ । ২০০০ সালে ৪ শাখা নিয়ে খোলা কলেজটিতে আজ ৬ টি শাখা ও প্রায় ১৫০০ এর মতো ছাত্রছাত্রী । আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এই ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র জন্ম।  আজ এখান থেকে পাশ করা অনেক  ছাত্র ছাত্রী দেশে বিদেশে নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এই মূহুর্তে এই কলেজের ভবিষ্যত্‍ নিয়ে ও কলেজের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে, এ মত এখানকার শিক্ষক,কর্মচারীদের অভিমত, এই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডাঃ অভিজিৎ মিত্রের অসৎ উদ্দেশ্য ও দুর্নীতিকে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই আজ এই অবস্থা বলে মনে করেন তাঁরা। তাদের বক্তব্য মতো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন নিবেদনের পরও আজও এই কলেজের স্বীকৃতি এখনও প্রশ্নের মুখে। উপরন্তু সম্প্রতি এক ঘটনায় এই কলেজে এক অস্হির পরিস্হিতি তৈরী হয়েছে । অধ্যক্ষ ডাঃ অভিজিৎ মিত্রের নামে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একই  সাথে এইচআরএ ও নিচ্ছেন  আবার  ইউনিভার্সিটির কোয়ার্টারে থাকারও সুবিধা গ্রহণ করছেন । এর সাথে সাথে আজ প্রায় ১৪ মাস পরেও এখনকার কর্মচারীরা আজও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুবিধা পাননি । এই নিয়ে গত বছর থেকে তারা অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেন । অবশেষে গত মাসে তারা জানতে পারেন যে পে কমিশন নিয়ে এখনো কোনো সদর্থক উত্তর অধ্যক্ষ বা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনও আসেনি, উপরন্তু অধ্যক্ষ নিজের একটি বিশেষ ভাতা নতুন পে কমিশন মতো বর্ধিত হারে নিচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। এর পরেই  জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি অধ্যক্ষকে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র কর্মচারীদের জেরার মুখে পড়তে হয়। জেরার  মুখে উনি বলেন এই ব্যাপারে উনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন আর ভুল প্রমান হলে টাকা ফেরৎ ও দেবেন ।

এদিকে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র একাউন্টস  অফিসার কমল কৃষ্ণ দাস  স্বীকার করেন যে ভুল হয়ে গেছে । এর পরই কর্মচারীরা বিষয়টি ভাইস চ্যান্সেলর এর সাথে দেখা করে তাঁর নজরে আনেন। ভাইস চ্যান্সেলর করা পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন ও প্রিন্সিপাল এর অফিস সিল করে দেওয়ারও কথা বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, ওনার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি নিয়োগের পরিবর্তে, এথিকাল কমিটি নিয়োগ হয়। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র শিক্ষক ও কর্মচারীদের মত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে, অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়টি লঘুকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে এরপর থেকেই অধ্যক্ষ ওই কলেজে আসা বন্ধ করে দেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে নোটিশ অনুযায়ী সব  বিভাগই  আংশিক ভাবে চালু হয়েছে। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতেও  শিক্ষক ও কর্মচারীরা যথারীতি আসছেন, অনলাইন এ পড়ানোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকা স্বত্বেও তারা ছাত্র ছাত্রীদের নিয়মিত ক্লাসও  নিচ্ছেন, কিন্তু পদে বহাল থাকা অবস্থাতেও প্রতিদিনই অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থাকছেন। এরপরই অধ্যক্ষের দুর্নীতির প্রতিবাদে, পে কমিশনের দাবিতে ও ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র অন্যান্য একাডেমিক দাবী দাওয়া সহ আরো অন্যান্য ইস্যুকে হাতিয়ার করে কর্মচারী ও শিক্ষকেরা গত ২৭ জানুয়ারি থেকে রিলে অনশনে শামিল হন। গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে  কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের কলেজের এনবিএ এক্রিডিয়েশন, এনআইআরএফ রাঙ্কিং, এআই এপ্রুভ্যালের মতো  বিভিন্ন  বিষয়ে অধ্যক্ষের অকর্মণ্যতার দিকেই আঙ্গুল তোলেন । কিন্তু  গতকাল  অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে তাদের এই অবস্থান ও রিলে অনশণের বিষয়ে  তাদের সাথে কোনোরকম যোগাযোগ করা হয় নি। আজ অবধি ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এমনকি পে কমিশন নিয়েও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় আজ থেকে কর্তৃপক্ষের উপর নিজেদের দাবী নিয়ে চাপ ফেলতে শিক্ষক  কর্মচারীদের দুজন প্রতিনিধি হিসেবে, অমিয় প্রসাদ ঘোষ ও প্রীতম দে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। আগামীতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এই ইনস্টিটিউটের কী অবস্থা দাঁড়ায় তাই এখন মূল বিচার্য বিষয় বলেই এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলেই মনে করছেন।