খবর

করোনা যোদ্ধাদের নিয়ে ফুটবল ও তাদের সম্মাননা জ্ঞাপন

61eeaf17-0f54-41dd-a878-8e05f58e9183সৌমাভ মণ্ডল, বসিরহাট: বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট পৌরসভার ২১নং ওয়ার্ডের ছোট জিরাকপুর বিদায়ী জনপ্রতিনিধি স্বপ্না দাস ও সমাজসেবী গোপাল দাসের উদ্যোগে করোনা যোদ্ধাদের নিয়ে ফুটবল ম্যাচ ও সম্মাননা জ্ঞাপন করা হলো। এই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সচিব দীপেন্দু বিশ্বাস ও অন্যান্য অতিথিরা। বিধায়কের হাত থেকে পুরস্কার পেয়ে রীতিমতো আবেগ আপ্লুত ও সম্মানিত হয়েছেন করোনা যোদ্ধারা। ৩২ জন স্বাস্থ্য কর্মী ও ওয়ার্ডের যুবকদের নিয়ে একটি করোনা পরিষেবা দল তৈরি করা হয়েছিল। তাদের নিয়ে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা।

Untitled-2

পাশাপাশি তাদের মঞ্চে তুলে স্মারক প্রদান করেন। যেভাবে গত ছয় মাস ধরে বিশ্বজুড়ে অতিমারী ছড়িয়েছে, তাতে গোটা  বিশ্ব ও ভারতবর্ষের মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ দেখা দিয়েছিল। করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাছে আপন হয়েছিল পর, আর পর হয়েছিল আপন। সব মিলিয়ে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে একদিকে স্বাস্থ্য-সচেতনতা মূলক প্রচার অন্যদিকে করোনার জন্য সচেতনতা বার্তা দিয়েছিল।

gif advt

এমনকি যারা নিজের তথা তাদের পরিবারের সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের কাছে যাচ্ছিল,  তারাই সামাজিকভাবে বয়কটের মধ‍্যে পড়েছিল। তার মধ্যেও তাদের লক্ষ্য ছিল সমস্ত লড়াই সংগ্রামের মধ্যেও মানুষকে বাঁচানো। রোগাক্রান্তকে হাসপাতালে পাঠানো, তাকে সেবা করে সুস্থ করে তোলা ও প্রতিনিয়ত খবর নেওয়া। এইসব যোদ্ধাদের মানুষ তাই ভুলিনি, তাই তাদের নিয়ে একদিকে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন অন্যদিকে মঞ্চে তাদের সম্মাননা প্রদান, এই মহান যোদ্ধাদের দেখতে ভিড় জমিয়েছিল মানুষ। এমনকি যারা সামাজিক বয়কট করেছিল তারাই আজকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ দিচ্ছেন ও হাততালি দিয়ে সাদরে সম্ভাসিত করছেন এইসব যোদ্ধাদের।

advt-2

স্বাস্থ্যকর্মী মনিকা দাস বলেন, “আমরা সামাজিক বয়কটের মধ‍্যেও গ্রামে গ্রামে ঘুরেছিলাম, এমনকি বাড়িতেও নানা প্রতিরোধ সহ‍্য করতে হয়েছে। প্রিয় পরিবারের মানুষ তথা সন্তানের কাছেও যেতে সহ‍্য করতে হয়েছে প্রতিরোধ। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে গেলেও  কটুক্তি শুনতে হয়েছিল, আমরা থেমে যায়নি লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। একদিকে পরিবারের কাছে সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছে, অন্যদিকে আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো নানান কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু লড়াই করে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। আজকের এই সম্মাননা  আমাদের কাজকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। আরো দায়বদ্ধভাবে আরো বেশি মানুষের পাশে থাকতে যেতে হবে। এই সংকল্প নিলাম এই মঞ্চ থেকে। এবার থাকবে যতদিন করোনা মুক্ত বাংলা না হবে, ততদিন লড়াই চালিয়ে যাব। তাই আজকের এই দিনটাকে আমাদের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।”

Untitled-1advt-4advt-5advt-1advt-3Untitled-3