খবর

লকডাউনে কর্মহীন হয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়ায় পড়তে হচ্ছে বাঘের মুখে

sxundarban-2সৌমাভ মণ্ডল, বসিরহাট: লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে অন্য পেশায় ঢুকেও বিপদের ঝুঁকি। সুন্দরবনের নদীতে ও জঙ্গলে মাছ ধরার পেশা বাড়ছে তাই বাঘের আক্রমণে মৃত্যুও বাড়ছে। সুন্দরবনের বসিরহাট ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকায় গত সাত দিনে ৩ জন মৎসজীবির বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বনদপ্তরের কপালে। ইতিমধ্যে বসিরহাট ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে মাইকিং প্রচার শুরু করা হয়েছে রায়মঙ্গল, কালিন্দী, গোমতী সহ বিভিন্ন নদীগুলিতে। কারণ ইদানিং কালে দেখা গিয়েছে লকডাউনের জেরে সুন্দরবন এলাকার বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, সংসার চালাতে পারছে না। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য পেশায় বিশেষ করে মৎস্যজীবিকায় যাচ্ছে। সেখানে আবার জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

sxundarban-3

বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ, হেমনগর, কালীতলা, সামশেরনগর, সন্দেশখালি, ন‍্যাজাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকার লকডাউনের পর কর্মহীন মানুষরা জীবন বাজি রেখে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পাড়ি দিচ্ছে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে। যার ফলে মৎস্যজীবীদের পেশায় ততই ভিড় বাড়ছে। জঙ্গল সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা ও কোনোরকম নিরাপত্তা ছাড়াই নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় বাঘের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। গত এক সপ্তাহে ৩ জনের মৃত্যু সেই ঘটনারই উদাহরণ। সুন্দরবনের দিগন্তে মিশে যাওয়া নদী ও জঙ্গলের প্রতিটি পদক্ষেপেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ওরা।

sxundarban

হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মন্ডল জানান, ইতিমধ্যে সুন্দরবন লাগোয়া পঞ্চায়েতগুলিতে মাইকিং প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তেমনি বনদপ্তর বিভিন্ন নদীগুলোতে পেট্রোলিং শুরু করেছে। যাতে কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো নিরাপত্তা ছাড়া জঙ্গলে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে না যায়। এইসব মৎস্যজীবীদের জন্য ইতিমধ্যে আমরা পঞ্চায়েতের থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ ও রেশনিং এর ব্যবস্থা করেছি। দরকার হলে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতার উপর সভা করা হবে। সুন্দরবনের মৎস্যজীবী কওসার আলী মন্ডল ও রমজান আলী মন্ডলরা বলেন, “সংসার চালাতে গেলে সুন্দরবনে তো যেতে হবে, কিন্তু জীবনের ঝুঁকি তো থেকেই যাচ্ছে। আমরা তো অন্য পেশায় ছিলাম এই পয়সায় এসেছি জীবন বাঁচাতে।

advt-5advt-4advt-1advt-3advt-2