খবর

দু’ফুট উচ্চতাকে পার করে আকাশ ছুঁলো মনিরা, স্বপ্ন শিক্ষিকা হওয়ার

bbসৌমাভ মণ্ডল, বসিরহাট: আম্ফানে ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে ভ্যানচালক পরিবারের, সেখান থেকেই মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রতিবন্ধী মনিরা। সব প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে গ্রামের নয়নের মণি হয়েছে মিনাখাঁর মনিরা খাতুন। বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ ব্লকের কুমারজোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাবা মোক্তার আলী মোল্লা পেশায় ভ্যানচালক ও মা আখলিমা বিবি পরিচারিকার কাজ করে। দীন ও দরিদ্র পরিবারে তাদের দু’ফুটের সন্তান মনিরা খাতুন প্রায় ৯০% প্রতিবন্ধী। ১০ বছরের আরেক ছেলে আশিকুল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। জন্মের পর থেকে মেয়ে ও ছেলে দুজনেই শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। ঠিকমতো চলতেও পারে না। কিন্তু শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আজ মনিরা গ্রামের আলোর পথের দিশারী। ২০২০ সালে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বছর ১৬ এর মনিরা খাতুন ধুতুরদহ কল্যাণ পরিষদ বিদ্যালয় থেকে এবছর পরীক্ষা দিয়েছিল। তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বামুনপুকুরিয়া এস এম এম হাইস্কুল। ইচ্ছাশক্তি ও অদম্য প্রয়াস তাকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করতে পারিনি। জীবন সংগ্রামে লড়াই করে প্রতিদিন বাবা মোক্তার ভ্যানে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিত। পরীক্ষা কেন্দ্রে নিজের মেয়ের সঙ্গে থাকতেন মা আখলিমা বিবি।

বুধবার মাধ্যমিকের ফল বের হতেই জানা যায় মনিরা এবছর মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। খুশির খবর গ্রামে পৌঁছাতেই উৎসবের চেহারা নিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে নতুন আলোর দিশারী মনিরা। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও গর্বে বুক ভরে উঠছে। স্কুলের শিক্ষক তরিকুল আলম মোল্লা বলেন, আমরা ওর পড়াশোনার ব্যাপারে সব রকম সহযোগিতা করবো। আরো পাঁচটা ছাত্র-ছাত্রী যাতে এগিয়ে আসে তার সবরকম ব্যবস্থা আমরা করবো। সরকার যেন ওর পাশে থাকে। এই রকম একটি হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ায় অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। মনিরার স্বপ্ন শিক্ষিকা হওয়ার। আরো বেশি পড়াশোনা করে সমাজে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর সে। আর পাঁচটা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ তাকে দেখে যেন এগিয়ে আসে। তারা যেন নিজেদের অসহায় ও সমাজের অচ‍্যুত মনে না করেন। মা আখলিমা জানান, জন্ম থেকেই মনিরার পাশাপাশি তাদের ছেলে আশিকুল মোল্লা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। শিক্ষার লড়াইয়ে দিদি ও ভাইয়ের লড়াই নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভ্যানচালক পরিবারকে।