খবর

এবার আম্ফান দুর্নীতিতে নাম জড়ালো সিপিএমের

a1c8a36c-ad85-4f9d-a58e-03a8d5d7054cসৌমাভ মণ্ডল, বসিরহাট আম্ফানের ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় রাজ্যের বিজেপি, কংগ্রেস ও তৃণমূলের পর এবার দুর্নীতিতে নাম জড়ালো সিপিএমের। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করলো সিপিএম। বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে আম্মানের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রথম ধাপে প্রায় ১৪০০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কুড়ি হাজার টাকা করে পেয়েছে। নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতা সহ কর্মী-সমর্থকদের। বাদ নেই বিজেপি ও কংগ্রেসও। যত সময় যাচ্ছে দুর্নীতির তালিকা সব রাজনৈতিক দলের লম্বা হচ্ছে। সেই দুর্নীতির তালিকায় এবার নাম জড়ালো সিপিএমের। এই ব্লকের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিধান মুন্ডা, গোবিন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সহ একাধিক নেতার একতলা বাড়ি আছে। এমন পরিবারের সদস্যরা আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তের ভুয়ো ছবি দেখিয়ে ব্যাঙ্কের থেকে কুড়ি হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেগুলো আবার ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপপ্রধান সহ মোট ১১জন তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকরা ইতিমধ্যে ব্যাঙ্কে তাদের টাকা ফেরত দিয়েছেন। সেই কথা স্বীকার করে নিয়েছে হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূলের বিধায়ক দেবেশ মন্ডল। তিনি বলেন আম্ফান নিয়ে কিছু দুর্নীতি হয়েছে। সেটাতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আম্ফানের ক্ষতিগ্রস্তদের নামের দ্বিতীয় তালিকায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। তিনি আরো জানান, কোনরকম দুর্নীতি মেনে নেওয়া যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে যারা টাকা নিয়েছিল ভুয়ো ছবি দেখিয়ে তারা টাকা ফেরত দিয়েছে। দুলদুলি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী সুপ্রিয়া মণ্ডল বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা আর টাকা পাচ্ছে একতলা দোতলা বাড়ির লোকেরা। এর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। দুর্নীতির তালিকায় নয়া সংযোজন প্রাক্তন সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচের কর্মাধ‍্যক্ষ তথা হিঙ্গলগঞ্জের দাপুটে সিপিএম নেতা দেবাশীষ বর্মনের পরিবার। তার ছেলে বিপ্লব বর্মনের অ্যাকাউন্টে কুড়ি হাজার টাকা ঢুকেছে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে তৃণমূল শিবির থেকে। হিঙ্গলগঞ্জ বাজারে যার ঝাঁ-চকচকে তিনতলা বাড়ি কি করে উনি এই টাকা পেলেন? তাই নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেবাশীষ বর্মনের ছেলে বিপ্লব বর্মন বলেন, আমার বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শকে কালিমালিপ্ত করতে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। আমি কিছুই জানিনা। আমার অ্যাকাউন্টে কিভাবে টাকা ঢুকেছে তা আমি জানিনা। সংবাদমাধ্যমের মুখ দিয়ে আমি টাকা ঢোকার কথা শুনলাম। ইতিমধ্যে আম্ফানের দ্বিতীয় দফার টাকা ঢোকার আগে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন এবং সঠিক তালিকা তৈরি করার আশ্বাস দিচ্ছে।