খবর

বিদেশের মাটিতে বড় সাফল্য বাংলার ‘কলিংবেল’এর

sanjoy-8অমিত চক্রবর্তী: “দেখে যা যা অনির্বাণ- কি সুখে রয়েছে প্রাণ” নব্বই দশকের শেষপ্রান্তের এই বিখ্যাত গানটির কথাগুলি আজও আমাদের মননে-হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে তোলে প্রতিনিয়ত। আসলে আমাদের সমাজে এমন একটা সময় ছিলো যখন একঝাঁক তাজা তরুণ প্রাণ তত্‍কালীন ঘূন ধরা সমাজে পরিবর্তনের নতুন ভোর আনার স্বপ্নে বিভোর ছিল। তাঁদের সেই বিপ্লবের পটভূমিতে নানা ভাবে ফাটল ধরতে সদা তত্‍পর ছিল সেই সময়ের সরকার বাহাদুর, যার ইতিহাস আমাদের অল্প বিস্তর সকলেরই জানা। যদিও তাঁদের মধ্যে অধিকাংশের স্বপ্নে আঘাত হেনেছিল তাঁদেরই সহযোদ্ধাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন। আমাদের সমাজের সেই ইতিহাস আজও আমাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁদের প্রতিনিয়ত নিজেদের মনের গভীরে তাড়া করে বেড়ায়, এবং ওই সকল জীবিত মানুষগুলি আজও কিছুটা হলেও নিজেদের অতীত কৃতকর্মের ফল নিজে হলেও তাঁর উত্তরসূরীরাও বয়ে বেড়ায়। পাঠকের মনে কৌতুহল জাগতেই পারে কী কারণে এই পুরোনো কাসুন্দির চর্ব্বিত চর্বণ। আসলে কিছুটা হলেও সেই সময় ঘটে যাওয়া এক ঘটনা ও তার পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আজ থেকে সাত (৭) বছর আগে তিলোত্তমার বুকে তৈরি হয়েছিল ব্লু আই মিডিয়া’র প্রযোজনায় ৪৬ মিনিটের একটি টেলিছবি। আবারও প্রশ্ন উঠতেই পারে ঠিক কী কারণে এত বছর বাদে আজকের এই কঠিন সময়ে এই টেলিছবি’র বিষয় এত কথার অবতারণা। আসলে আমাদের সমাজে এখনও একটি বিষয় আজও বড়ই অদ্ভুতভাবে বিচরণ করে বা প্রচলিত ধ্যান-ধারনা রয়েছে, তা হ’ল আমার বা আপনার কোনও ভাল কাজ বা শিল্পকলা ঠিক তখনই আপামরের মধ্যে স্বীকৃতি পায় যখন তাতে সাগর পারের দেশের শীলমোহর লাগে।

এক্ষেত্রেও ঠিক এমনিই এক ঘটনা ঘটে গেছে সম্প্রতি। হ্যাঁ, তত্‍কালীন অস্থির রাজনৈতিক ও তার পরবর্তী সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া ৪৬ মিনিটের ‘কলিংবেল’ শীর্ষক টেলিছবিটিকে কয়েকদিন আগেই লণ্ডনের এক ফিল্ম সমারোহ ‘লিস্ট অফ গ্লোবাল নেটওয়ার্ক’ এ ‘ফার্স্ট টাইম ফিল্মমেকার সেশন ২০২০’তে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা এককথায় এক দৃষ্টান্ত। এই ছবির বিষয়ে কথা বলতে বলতে ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেতা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের গলায় ঝরে পড়ছিল এই ছবিটির প্রযোজক সংস্থার প্রধান নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত সম্পর্কে কৃতজ্ঞতা।

সঞ্জয় বাবু জানাচ্ছিলেন কিভাবে এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে নিজে একটি টিম প্রস্তুত করে এই ছবিটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে সকলে মিলে একাত্ম হয়ে ‘কলিংবেল’ শীর্ষক টেলিছবিটি বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তা যে বিফলে যায় নি তার প্রমাণ বিদেশের মাটিতে এই স্বার্থকতা। শমিক বোসের সুদক্ষ পরিচালনা, অভিজিত্‍ পোদ্দারের যথাযথ সম্পাদনা ও শব্দ সংযোজন, মেহবুব চৌধুরির ক্যামেরা ও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের সহ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অর্থাত্‍ অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রবিন কর্মকার, সঞ্জু ভদ্র চৌধুরী সহ সকলের কঠোর পরিসমের ফল আজকের এই প্রাপ্তি বলে জানাচ্ছিলেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়।