খবর

সীমান্তের নানা ঘটনা – শিরোনামে সীমান্ত

সংবাদ প্রতিনিধি সৌমাভ মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগণা

চার মাসের পেনশনের টাকায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিলি বৃদ্ধ দম্পতির

basir-18বসিরহাটের ২১ন‌ং ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া দূর্গা মন্ডপ থেকে শতাধিক দুস্থ, প্রতিবন্ধী, দীন ও দরিদ্র মানুষকে চাল, ডাল, সর্ষের তেল ও বাচ্চাদের বেবি ফুড দিলেন রাজ‍্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বছর আশির বৃদ্ধ কালী দুলাল ঘোষ ও তার স্ত্রী রেবা ঘোষ। চার মাসের পেনশনের প্রায় ২৫০০০ টাকা দিয়ে এই খাদ‍্য সামগ্রী দান করলেন। এই উদ্যোগে তাদের সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় সমাজসেবী স্বাগত বসু ও চৌধুরীপাড়া দুর্গা মণ্ডপ পুজো কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দম্পতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বসিরহাটের মানুষ।

স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে বিনা খরচায় ভিন রাজ্যের শ্রমিককে বাড়ি ফিরিয়ে দিল রাজ্য সরকার

basir-2বাদুড়িয়া থেকে ১১টি সরকারি বাসে ২২৫জন পরিযায়ী শ্রমিক পাড়ি দিল বিহার ও ঝাড়খন্ডে। বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া ব্লকের যশাইকাটি ও তারাগুনিয়ার বেশ কয়েকটি ইঁটভাটার প্রায় ২২৫ জন পরিযায়ী শ্রমিককে মেডিকেল চেকআপ করে তাদের নিজ রাজ‍্যে পাঠানো হলো। চিকিৎসক অনিল চন্দ্র দাস সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নেতৃত্বে এদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়। বাদুড়িয়ার বিডিও ত্রিভুবন নাথ বলেন, রাজ‍্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশ মতো যাতে এরাজ্যে থাকা অন‍্য রাজ‍্যের শ্রমিকরা সুস্থভাবে তাদের রাজ্যে ফিরে যেতে পারে তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচায় তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে দেবে প্রশাসন। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে গিয়ে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন থাকার নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। গত তিন বছর আগে বিহার ও ঝাড়খন্ডের যুবক-যুবতী, মহিলা, পুরুষ এইসব ভাটাগুলিতে ইঁট কাটা ও কাঁচা মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা সহ ভাটার বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে এসেছিল। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিককে যে যার রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার  নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর।basir-4 তাই ২২৫ জন ভাটা শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারিভাবে পরিবহনের ব্যবস্থা করল প্রশাসন। সম্পূর্ণ বিনা খরচায়‌ তাদেরকে ভিন রাজ্যে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার তারাগুনিয়া বারো মন্দির মাঠে রীতিমতো মেডিকেল ক্যাম্প করে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পাশাপাশি তাদেরকে ভাটা মালিকের পক্ষ থেকে হাসান গাজীর উদ্যোগে পেট ভরে খাইয়ে মাছ, ডাল, সব্জি ও ভাত পাশাপাশি খাদ্যদ্রব‍্য প‍্যাকেট বন্দি করে পার্সেলের ব্যবস্থা করা হয় যাতে তারা রাস্তায় কোন সমস্যায় না পড়েন। তারপর তাদের এগারোটি সরকারি বাসে তুলে দেন প্রশাসনের কর্তারা। তারা চলে যাবেন বিহার ও ঝাড়খন্ডের বিভিন্ন গ্রামে। ভাটা শ্রমিক লক্ষ্মী দলুইরা বলেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে পায়ে হেঁটে পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরছে। এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে সেখানে বাংলায় এক উল্টো পুরাণ দেখা গেল। এই পরিষেবা পেয়ে রীতিমতো খুশি শ্রমিক থেকে শ্রমিক পরিবার। তারা ধন্যবাদ দিয়েছে রাজ্য সরকারকে যেভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ভিন রাজ্য থেকে ১১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরল হাড়োয়ায়, পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

bnasir-11বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রায় ১১৭ জন শ্রমিক তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, কেরালা থেকে গাড়িতে ও ট্রেন-বাসে ফেরায় খুশি’ শ্রমিক পরিবার। এরা গত এক বছর আগে কাজে গিয়েছিলে বিভিন্ন রাজ্যে। লকডাউনের জেরে একদিকে যেমন কাজের সংকট অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছিল  শ্রমিকরা। তাদের ফেরত আনতে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যে সরকার। ১১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিককে বৃহস্পতিবার বসিরহাট জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় ও কোয়ারেন্টিন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বাকিদের হোম কোয়ারেন্টিন  রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাড়োয়ার বিডিও দীপঙ্কর দাস। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি শফিক আহমেদ ভিন রাজ্য থেকে আসা হাড়োয়ার শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের একদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্যদিকে খাদ্য সুরক্ষিত করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছেন। পাশাপাশি এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী একমাসের জন্য সলুয়া ভিলেজ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক নজরুল ইসলাম তাদের হাতে খাবার চাল, ডাল, বিস্কুট, দুধ, সর্ষের তেল, আলু সহ বিভিন্ন সব্জি তাদেরকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি যতদিন লকডাউন চলবে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাবার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। গত একমাস ধরে হাড়োয়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মাঝি মল্লা থেকে দুস্থ প্রতিবন্ধী দিন ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন তারা।

ডাব পাড়া নিয়ে গন্ডগোল আত্মঘাতী যুবক

basir-13বাড়ির গাছে ডাব পাড়া নিয়ে বাবা মায়ের সঙ্গে গন্ডগোল, অভিমানে ডাব কাটা দাঁয়ের আঘাতে আত্মঘাতী বছর ২৭ এর যুবক সাদ্দাম হোসেন মোল্লা। ঘটনার জেরে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। শুক্রবার দিপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট  মহকুমার হাসনাবাদ থানার দক্ষিণ ভেবিয়া গ্রামে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে সাদ্দাম হোসেন শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ বাড়ির নারকেল গাছে ডাব পাড়তে ওঠে। ডাব নিয়ে নিচে নামলে বাবা রিয়াজুল মোল্লা মা রুনু বিবিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। কেন গাছে উঠেছে ছেলে এই নিয়ে প্রথমে বাবা মায়ের মধ্যও বচসা শুরু হয়। পরে উভয়ই ছেলে সাদ্দামেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। সামান্য ডাব পাড়াকে কেন্দ্রকরে এত গন্ডগোল ও বাবা মায়ের গঞ্জনার কারণে অভিমানে মা-বাবার সামনে নিজের গলায় ডাব কাটার দা দিয়ে কোপ মেরে আত্মঘাতী হয় যুবক। ঘটনার পর চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুধুই গাছে ওঠার কারণেই আত্মঘাতী! নাকি এর পেছনে  অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বসিরহাটে ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

basir-14বসিরহাট পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের চাঁপাপুকুর রোডের কলেজ পাড়ার ঘটনা। বছর ২৭ এর শুভঙ্কর দাস পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। শনিবার সকালে দোকান খুলে বসতেই ২ জন দুষ্কৃতী মোটর সাইকেলে আসে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। দোকানে ঢোকার পরেই শুভঙ্করের সঙ্গে বচসা শুরু হয় তাদের। হঠাৎই পকেট থেকে রিভলবার বের করে গুলি করে দেয় বলে অভিযোগ। পুরনো শত্রুতার জেরে খুন মনে করছে পুলিশ। কারণ শুভঙ্করের পুরনো রেকর্ড খারাপ আছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুভঙ্করের বিরুদ্ধে এলাকায় অসামাজিক কাজের যোগ আছে কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। সমাজ বিরোধীদের সঙ্গে মেলামেশা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে গুলি করে খুন করেছে শুভঙ্করের খুব কাছের পরিচিত পুলিশ সূত্রে এমনই তথ্য উঠে আসছে। বসিরহাট থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এলাকা থমথমে। সাতসকালে খুন হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সীমান্তে  মেলা করতে এসে ভিন জেলার শ্রমিকরা আটকে

basir-16রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১২জন পরিযায়ী শ্রমিক কৃষি মেলা উপলক্ষে আটকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের বিথারী ফুটবল মাঠে গত চৈত্র মাসের ১২ তারিখে কৃষি মেলা উপলক্ষে সীমান্তের মাঠে বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, ইলেকট্রিক সিঁড়ি সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইড্স এব‌ং খাবারের পসরা সাজানোর জন্য এসেছিল। এই শ্রমিকরা গত আড়াই মাস হয়ে গেল লকডাউনের জেরে আটকে রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের লোকের একাধিকবার ফোন অন্যদিকে খাবারের সমস্যা পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট উভয়ের যাঁতাকলে পড়েছে। মেলা কমিটি ভিন জেলা থেকে আসা এই শ্রমিকরা যাতে বাড়িতে ফিরতে পারে তার জন‍্য প্রশাসনের কাছে দরবার করেছেন। এখনো পর্যন্ত তাদের যাওয়ার কোন বন্দোবস্ত হয়নি বলে বিপাকে পরিযায়ী শ্রমিকরা। এরমধ্যে খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই সীমান্তের গ্রামবাসীরা নিজেরাই রান্না করে তাদেরকে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীরা চাইছেন শ্রমিকরা তাদের মেলা সাজানোর জন্য পসরাগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরুক সুস্থ ভাবে। ইতিমধ্যে স্বরূপনগর থানার ওসি তুষার বিশ্বাসের কাছে মেলা কমিটি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। তারা প্রশাসনের ছাড়পত্র পেলেই পরিবারের কাছে যেতে পারবে। ইতিমধ্যেই পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সব রকম ব্যবস্থা করেছে  স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।