খবর

সুন্দরবনের বিধবা পাড়ায় বৃদ্ধা বিধবাদের জন্য বিনি পয়সার হেঁশেল

sunসৌমাভ মণ্ডল, বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা:  সুন্দরী, শ্যামলী, কামধেনুর মতো সুন্দরবনের বিধবাদের জন্য খাবারের রান্নাঘর। এদের স্বামীরা নদীতে মাছ, কাঁকড়া ধরতে ও জঙ্গলে মধু ভাঙতে গিয়ে বাঘের পেটে চলে গিয়েছে। তাই আজ এরা অসহায় ও দারিদ্রতার মধ্যে পড়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিধবা ভাতা পেলেও সংসার ঠিক মতো চলে না। এরা গ্রামের মানুষের কাছেই হাত পাততো কিন্তু বয়সের ভারে আজ তাও বন্ধ। বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি গ্রাম। প্রায় শতাধিক বিধবা মহিলা রয়েছে এই গ্রামে। তাই স্থানীয়দের কাছে এই এলাকা বিধবা পাড়া বলেই পরিচিত। তাদের স্বামীদেরকে জঙ্গলে বাঘে টেনে নিয়ে গেছে। এদের একমাত্র জীবিকা ছিল জঙ্গলের মধু ভাঙ্গা। কেউ চোরাপথে আবার কেউ বনদপ্তরের চোখ এড়িয়ে জঙ্গলে পাড়ি দিত মধু ভাঙতে। আর সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগারের মুখে পড়তে হতো।sun-2 তাই শুধু জঙ্গলের অতীতকে স্মৃতি করে বুকে আঁকড়ে রেখে দুবেলা খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়তো এই মহিলারা। কিন্তু লকডাউনের জেরে খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে পার ঘুমটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওদের জন্য তৈরি হয়েছে খাবারের হেঁশেল। প্রতিদিন দু’বেলা নিয়ম করে টেবিল চেয়ারে বসিয়ে ডাল, ভাত, ডিম, মাংস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন শিক্ষক তুষার মন্ডল। তিনি বলেন, “এই অসহায় বিধবা মহিলাদের কথা কেউ ভাবছে না, তাই আমার মনে হয়েছে এই সংকটকালে তাদের দুটো পেট ভরে খাওয়ালে মনের তৃপ্তি পাওয়া যাবে। কোথায় যাবে এরা? ঠিকমতো চলতে পারেনা, ভুরু কুঁচকে গিয়েছে, চোখের চামড়া গুটিয়ে গিয়েছে সব মিলিয়ে এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা খুশি। যতদিন লকডাউন চলবে কতদিন আমরা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি।”