উত্তর সম্পাদকীয়

আমাদের টনক কবে নড়বে

Untitledঅনিমেষ মল্লিক: করোনা যা এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে, সমগ্র দেশ তথা আমাদের প্রিয় রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে লক ডাউন।  রাজ্যের বেশ কিছু জেলাকে ইতিমধ্যেই রেড জোন এ চিহ্নিত করা হয়েছে, রাজ্যের বেশ কিছু জায়গাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্যে সরকার। কিন্তু এই লক-ডাউনে কেমন আছে সাধারণ মানুষ? কেমন পালন করছে এই লক-ডাউন? কি করছেন তারা? এই বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রথমেই যেটা উঠে আসে, তা এইরূপ- রাজ্যের গরিব/মধ্যবিত্ত মানুষদের অধিকাংশ রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মতো সফল ভাবে পালন করছেন লকডাউন, কিন্তু রাজ্যের আরেকদল মানুষ লকডাউনকে লঘু ভাবে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠেছেন।  রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে চলছে পুলিশি টহলদারি, বেশ কিছু জায়গায় বসেছে পুলিশি প্রহরা, কোথাও কোথাও চলছে পুলিশের নাকা চেকিং, কিন্তু মানুষ বড়োই বেপরোয়া। পুলিশি টহলদারির মধ্যেই সমাজের একাংশ শিশু-সুলভ আচরণ দেখিয়ে পুলিশের সাথে চোর-পুলিশ খেলায় মেতে উঠেছেন। ঠিক যেন করোনা কে নিজের বাড়ি, নিজের পাড়াতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। সমাজের বেশ কিছু মানুষ যারা এখন আমাদের কাছে প্রকৃত ঈশ্বর যেমন ডাক্তার, পুলিশ, নার্স, স্বাস্থ কর্মী সহ অন্যান্য পর্যায়ের মানুষেরা যারা নিজেদের স্বার্থের কথা, পরিবারের কথা ত্যাগ করে নিজেদের জীবন বাজি রেখে এই যুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই করে চলেছেন, তাঁদের এই লড়াই একনিমেষে শেষ হয়ে যাচ্ছে এইসকল অবিবেচকদের অবিমিশ্রকারিতায়। এইসকল তথাকথিত অধিক শিক্ষিত, সমাজের বুকে যাঁরা বিশেষ রূপে পরিচিত বা এককালে পরিচিতি লাভ করে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভুগে বর্তমান সরকারের লাগু করা লক ডাউন মানতে কিছুটা হলেও নিমরাজী। আরও একটা বিষয় যা আমাদের নজরে উঠে এসেছে এই কয়দিনে, প্রশাসন আমাদের জন্য আমাদের পাশে থেকে করোনা প্রতিরোধের এই যুদ্ধে অবিচল সৈনিক হিসাবে কাজ করে চলেছেন, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও একশ্রেণীর মানুষেরা আজ তুল্যমূল্য বিচার করতে বসে পড়েছেন প্রশাসনের কাজ সম্পর্কে। অপরদিকে এই লক ডাউনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমাজের সেই সকল মানুষগুলির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, যারা প্রধানত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, ছোট বড়ো সমস্ত কলকারখানার শ্রমিক, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের এই মুহূর্তে জীবন যাপন করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে, যদিও সরকার ও নানা সংগঠন বিভিন্নভাবে সাহায্যে করছেন এই সমস্ত মানুষদের। আসলে এই করোনা আবহে এই মূহুর্তে আমাদের সমাজের একদল মানুষ আজও নিজেদের বিলাসিতায় ডুবিয়ে রেখে খোশমেজাজে রয়েছেন, আর অন্যদিকে একদল মানুষের কপালে ক্রমশ বাড়ছে দুশ্চিন্তার করাল ছায়া। আজকের সমাজে এই লক ডাউনের বাজারে আমাদের সমাজের যে অংশ সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁরা হলেন আমাদের সমাজের মধ্যবিত্ত মানুষের দল। আর এই মূহুর্তে এই মধ্যবিত্তরাই সংখ্যাগুরু হয়েও সকলের চোখে ব্রাত্য। আগামীর দিনগুলি তাঁদের জন্য বড়ই ভয়ংকর, আর এই কথা ভেবেই তাঁরা ক্রমশ নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। আর সমাজের বিশেষ শ্রেণীর মানুষদের দেখে মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাস যেন তাঁদের কথায় উঠবস করে, না হলে তাঁদের মাস্ক পড়তে বলা হলে তাঁরা বলেন ও কোনও ব্যাপার নয়, আবার তাঁদের মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন যাঁরা এখনও সময় পেলেই সরকারী নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন, আর এই ঘটনা বেশি ঘটছে বিভিন্ন এলাকার নানা গলিগুলিতেই।, এখনও বহাল তবিহতে চলছে প্রতিদিনও আড্ডা, যতই সরকার লাল, সবুজ, হলুদ জোন ঘোষণা করুক না কেন, এই সকল মহান মানুষগুলি যেন সকল কিছুর উর্ধে, তাই তাঁরা কোনরকম নিয়মের ধার ধারছেন না। পুলিশ প্রশাসন যদি বিভিন্ন এলাকার গলিগুলিতে একটু টহলদারী বাড়াতে পারেন তাহলে কিছুটা হলেই করোনার গোষ্ঠী সংক্রমন থেকে আমরা মনে হয় কিছুটা হলেই রেহাই পাবো। আমাদের সামান্যতম সচেতনতাই পারে করোনামুক্ত দেশ গড়তে এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।