উত্তর সম্পাদকীয়

এরা কারা!

police-logoদীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়: পুলিশ, ছোট্ট এই শব্দটি শোনামাত্র মনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় নানা প্রতিক্রিয়া। আসলে আমদের মধ্যে অনেকেই জানি না পুলিশ এই শব্দটির প্রকৃত অর্থটা কি? ইংরাজীতে POLICE বা বাংলায় পুলিশ এই শব্দদুটিই আমাদের বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। যদি ভুল না করে থাকি তাহলে POLICE এই শব্দটির প্রতিটি অক্ষরের আক্ষরিক অর্থ আপনাদের গোচরে আনার চেষ্টা করলাম। POLICE শব্দটি কোথা থেকে এল?

P for PUBLIC

O for OFFICER

L for LEGAL

I for INVESTIGATION

C for CRIMINAL

E for EMERGENCIES

অর্থাত্‍ Public Officer for Legal Investigation &  Crinimal Emergencies। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে পুলিশ শব্দটিকে এত বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করার প্রয়োজন আমাদের কোন দিন পড়ে নি। আর তাতে সেরকম কোনও অসুবিধা হবার কথা নয়। ১৮৫৬ সালে জন্ম হয় কলকাতা পুলিশের, আর ১৮৬১ সালে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের। একটি কথা আমরা সেভাবে ভেবে দেখেছি কি? এই যে আমরা রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি তার পেছনে যে মানুষ গুলির অবদান কি আমরা অবজ্ঞা করতে পারি। হ্যাঁ, ওনারই পুলিশ। অথচ আমরা কোনও এক অজ্ঞাত কারণে এনাদের সম্পর্কে নানা কথা শুনে আসছি জন্ম থেকেই। এমনকি সামাজিকও যে কোনও সমস্যায় দোষের ভাগীদার হন এনারাই, তা সে ধর্মীয়, সামাজিক বা রাজনৈতিক যে কোন ঘটনাই হোক না কেন। একটা সময় একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল ‘পুলিশ তুমি যতই মারো, মাইনে তোমার একশো বারো’। অর্থাত্‍ পুলিশের হাতের লাঠি যেন শুধুই মারার জন্যই। অথচ বিধাতার অঙ্গুলি হেলনে এই অধম কলমচিকে তাঁর জীবনের নানা ওঠাপড়ার মাঝে এমন কিছু দেখা বাকি ছিল যা আজ করোনার আবহে সেটাও প্রত্যক্ষ করলাম, এবং সত্যি গর্বিত বোধ করছি আজ আমাদের সমগ্র পুলিশকুলের জন্য।

আমার প্রতিবেশী যুক্ত এই পেশায়। ওনার স্ত্রী আর পুত্র ওনার শ্বশুরমহাশয়ের অসুস্থতার কারণে লক ডাউনে আটকে। স্বভাবতই আমার প্রতিবেশী একা, তার মধ্যেই তিনি যথাযথ ভাবে তাঁর ডিউটি সম্পাদন করেছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু তাঁর যে সমস্যা আমাকে সবথেকে ব্যথিত করেছিল সেটি অন্নের। জেলা শহর থেকে এই মহামারির সময়ে প্রতিদিন ডিউটি করে একা ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে তিনি কি খেতেন তা ভেবে আমি নিজের মধ্যেই কেমন চিন্তিত হয়ে পরছিলাম। আমি রান্না করা খাবার তাঁর কাছে এগিয়ে দিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে বলতাম, হে করুণাময় তোমার জন্যই আজ নিজে হাতে আমি ঈশ্বরকে খাওয়াতে পারলাম। কারণ সমাজের এই সকল মানুষগুলির বাড়ির লোকজনদের বিনিদ্র রজনীর গল্প আমরা শুনি আজ চাক্ষুষ করলাম। আজ আমাদের সমাজে পুলিশ নামক মানুষগুলি সদা নিয়োজিত সাধারনকে সচেতন করতে এই মারণ ভাইরাস করোনা সম্পর্কে। লাঠি হাতে তাঁরা যে যে সমাজসেবার কাজগুলি করে চলেছেন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। আমাদের মতন সাধারণ মানুষদের বাঁচাতে পুলিশ আর কি কি করতে পারে এখন সেটাই মূল বিষয়। আজ পুলিশ তাঁর ওই লাঠির ডগায় কতটা মানবিক তা টিভি’র পর্দায়, সংবাদপত্রের খবরে দেখে নিজের অজান্তেই অশ্রুসজল হয়ে স্যালুট জানাই সমগ্র পুলিশদের। অভুক্তকে অন্নদান, প্রসুতির প্রসব যন্ত্রনায় তাকে যথাস্থানে পৌঁছনো, অসুস্থ রোগীর ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, আবার লাঠি হাতে কঠোর হয়ে সরকারী নির্দেশ মানাতে বা কোন সময়ে গান গেয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে, এই সকল নানা রূপে আজ আমরা আমাদের শান্তিরক্ষক বাহিনীর রক্ষকদের অবতীর্ণ হতে দেখছি আর অবাক হচ্ছি।

ভাবুন তো আমরা যখন এই লক ডাউনে নিজেদের ঘরের মধ্যে আর সমগ্র পুলিশ বন্ধুরা আজ রাস্তায় দিন রাত এককরে আমাদের সুরক্ষায় কাজ করে চলেছেন কেন, না যাতে আমাদের সমাজে আবার একটা সুন্দর আগামী আমরা লাভ করতে পারি। একটিবার কি আমরা আমাদের হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে এইটুকু প্রার্থনা করতে কি পারি না এই সমাজবন্ধুদের জন্য, বা নিজেদের সকল ভালবাসা উজাড় করে দিতে পারি না। হ্যাটস অফ আমরা সত্যিই গর্বিত।