উত্তর সম্পাদকীয়

ভাল থেকো রাজাদা, খুব খুব ভালো থেকো

20200416_195411aaaস্বরূপম চক্রবর্তী: মনে পড়েছে সেই সন্ধ্যায় তোমার আগমন, আমার জীবনের অনেকটা জুড়ে যে মানুষটি ছিলেন সেই দত্ত সাহেবের হাত ধরেই তুমি এসে হাজির হয়েছিলে আমার মধ্য কলকাতার ছোট্ট অফিসটিতে। অনেক কথা, অনেক গল্প। ওই অল্প সময়ে মধ্যেই তুমি আমাকে তোমার আপন করে নিয়েছিলে। সেই সময়ে মিডিয়া জগতের টালমাটাল অবস্থার তুমিও ছিলে একজন শিকার। সেই কঠিন সময়ে তুমি লড়াই করে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ছিলে। ধীরে ধীরে আমাদের সখ্যতা বাড়তে থাকলো, আলোচনা হতো নানা বিষয় নিয়ে, যাঁর অধিকাংশটাই থাকতো ভ্রমণ সাংবাদিকতার বিষয়ে। একটি সময় প্রকাশ পেল তোমার জীবনের অমূল্য কীর্তি তোমার রচিত ‘ডেষ্টিনেশন আনলিমিটেড’। আক্ষরিক অর্থে যাকে বলে জীবনপুরের পথিক, নেশা থেকে পেশার অমূল্য দলিল সেই বই ভ্রমণ সাহিত্যে বিশেষ স্থান করে থাকবে চিরকাল। জীবনে অনেকের কাছেই নিজের অসময়ে পর্যদুস্ত হয়ে অবশেষে পাড়ি জমিয়েছিলে উত্তরবঙ্গে। অনেক কঠিন সময়কে অবলীলায় জয় করার অদম্য বাসনায় ও মানসিক ইচ্ছায় ক্রমশ নিজের লেখনীর পরিচয় দিচ্ছিলে তুমি। আজ খুব মনে পড়ছে সেই সন্ধ্যার কথা, শিলিগুড়ির এক হোটেলে আমার রুমে বসে একসময়ের আমাদের রাজ্য সরকারের এক প্রাক্তন কর্মীর দুর্দিনে তাঁকে যে ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলে, তাতে তোমার মহত্ব প্রকাশ পেয়েছিল। আসলে তুমি চিরকালই ছিলে এমন, নিজের কথা নিজের সংসারের কথা কতটা ভাবতে? শত অসুবিধাতেও নিজের প্রচেষ্টায় আবার মাথা তুলে সবে যখন দাঁড়াতে শুরু করেছিলে তখন বিধাতা কেন এত নিষ্ঠুর হয়ে তোমাকে আমাদের থেকে এইভাবে সরিয়ে নিয়ে গেল! আসলে বোধহয় এটাই জগতের নিয়ম। জীবনপুরের পথিক আজ তুমি নিজেই যাত্রা করলে অচিনলোকে। ভাল থেকো রাজাদা, খুব খুব ভালো থেকো।  raja