উত্তর সম্পাদকীয়

সাহিত্যের বিপণন-নাকি কবি সাহিত্যিকরা আজ পণ্য?

Untitled-1.jpgস্বরূপম চক্রবর্তীঃ বঙ্গ সংস্কৃতি চিরকালীন, বাংলা সাহিত্যের রস্বাসাদনের নিমিত্ত বারে বারেই সাহিত্য প্রেমী সকল মানুষজন বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে নিজেদের নিমজ্জিত করে রেখেছেন। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার এতটাই উন্নত যে এখনও তার জুড়ি মেলা ভার। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র থেকে আধুনিক কালের শক্তি, সুনীল, সন্দীপন দীর্ঘ তালিকা। রীতিমত গর্ব করার মত আমাদের সাহিত্যের সম্ভার। বাণিজ্যিক দিক দিয়েও সফল আমাদের বঙ্গ সাহিত্যের সম্ভার। বারে বারেই দেশ-বিদেশের সাহিত্যপ্রেমী মানুষজন ছুটে আসেন বঙ্গ সাহিত্যের রস গ্রহণে। বর্তমানের একটা বিষয়ের জন্যই এই লেখার অবতারণা। বর্তমানের বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার একদল নবীন ও প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক ও লেখকদের ভিড়ে গমগম করছে। আসলে আজকের দুনিয়ায় ইন্টারনেট এর দৌলতে সকলেই কবি বা লেখক, এর অর্থ কখনোই এটা নয় যে তাঁদের লেখনীর মান একেবারেই পাতে দেবার যোগ্য নয়। যথেষ্ট উন্নত তাদের লেখনী। তবে এই মূহুর্তে যা অবস্থা তাতে এই সকল বর্তমানের কবি-সাহিত্যিক-লেখকের দল প্রকৃত সম্মান বা স্থান পাচ্ছেন না বলেই অনুমান করা যায়। আর ঠিক এই সুযোগটাই নিচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের জগতে বিচরণকরা বেশ কিছু স্বার্থান্বেষী সাহিত্য বিপণনকারী কবি-লেখকদের দল। যাঁরা সামনে দেখাচ্ছেন তাঁরা আধুনিক কালের কবি-লেখকদের অনুষ্ঠান করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বা তাঁদের লেখা প্রকাশ করে তাঁদের বাধিত করছেন, কিন্তু একটা বিষয় একটু গভীর ভাবে অনুধাবন করলে লক্ষ করা যায়, যে বা যাঁরা আধুনিক কালের কবি-লেখকদের এই সুযোগ করে দিচ্ছেন তার ফল কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে বা সেই কবি-লেখক নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একথা কি কেউ আমরা ভেবেছি? আসলে এই ভাবে কতটা লাভবান হচ্ছেন আজকের কলমচির দল। নাকি সাহিত্যের গুমটি খুলে ব্যবসা করা গুটিকয়েক মানুষ এই সুযোগে নিজেদের ঝুলি ভরে নিজেদের আখের গোচ্ছাছেন। এখন প্রায়শঃই একটা বিষয় সামাজিক মাধ্যমে লক্ষ করা যাচ্ছে কিছু মানুষ যাঁরা নিজেদের সাহিত্যের পূজারী হিসাবে নিজেদের জাহির করেন, সেই সকল মানুষরা কবি ও লেখকদের নিয়ে যখন তখন সারাদিনের কবি ও লেখক সম্মেলন করে ফেলছেন এবং এই সম্মেলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক কবি-লেখকদের ওই সকল মানুষদের নিদির্ষ্ট অর্থ প্রদান করতে হয়, না হলে অংশ নেওয়া যায় না। জানি অনেকে আমাকে বলবেন এনারা তো তাও এই সকল আধুনিক কবি-লেখকদের জায়গা করে দিচ্ছেন নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আসলে আমরা আমাদের যুবক বয়সে যে সকল কবি-লেখকদের দেখে বা যাঁদের লেখা পড়ে বড় হয়েছি তাদের কোনদিন এই ভাবে নিজেদের লেখনীর মান জানাতে অর্থ ব্যয় করে নিজেদের বাণিজ্য করতে দেখি নি বা এই ভাবে কবি-লেখকদের থেকে অর্থ নিয়ে কোনও সম্মেলনের আয়োজন করতেও দেখা যেত না। আর এই সুযোগে বেশ কিছু মানুষ নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন ওই সকল কবিদের, লেখকদের কবি সম্মেলন বা কোনও কেবল টিভিতে অনুষ্ঠানের সুযোগ করে দিয়ে। প্রশ্ন একটাই, এই ভাবে কী প্রকৃত সাহিত্যের বিকাশ সম্ভবপর? বা এই প্রকারে কতটা লাভবান হচ্ছেন ওই সকল কবি-লেখকদের দল? বিষয়টি কী আমাদের বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে অনুকূল?  কী ভাবছেন সাধু সমাজ?