খবর

ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকছেই আগামী ২১ ও ২৬ ডিসেম্বর

1002365.jpgনিজস্ব সংবাদদাতাঃ অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন আগামী ২১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান ঘোষণা করেছে এবং ৯ টি সংগঠনের সংযুক্ত মোর্চা  আগামী ২৬ তারিখ ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। অফিসার্স সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন যে আগামী দুদিনের ধর্মঘট সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং ব্যাঙ্ক  ব্যবস্থাকে জনমুখী অর্থনীতির পরিপূরক করে তুলতেই করা হচ্ছে। উনি বলেন বিজয় ব্যাংক, দেনা ব্যাংক ও ব্যাংক অব বরোদার সংযুক্তিকরণ সহ আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলির সংযুক্তিকরণ দেশে সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। সংযুক্তিকরণের ফলে ব্যাঙ্কের শাখা অনেক কমে যাবে, বেকারত্ব বাড়বে, গ্রাহক সেবা ব্যাহত হবে নিম্ন, মধ্য এবং উচ্চবিত্ত মানুষের ব্যাঙ্কের পরিষেবা পেতে অসুবিধা হবে। গ্রামে গঞ্জে ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ হয়ে গেলে কৃষক ঋণ পাবেনা, ক্ষুদ্র, মধ্য শিল্প সহজ শর্তে ঋণ পাবে না, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চিত টাকার কোনো নিরাপত্তা থাকবে না, শিক্ষা ঋণ পাবেনা। আমরা সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাব যেখানে সুদখোর, মুনাফালোভী গোষ্ঠী রাজ করবে। উনি বলেন আমরা সরকারি সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নিয়ে বিমুদ্রিকরণ, জনধন যোজনা, সুকন্যা সমৃদ্ধি, অটল পেনশন, আধার লিঙ্কিং, মুদ্রা ঋণ কে সার্থক বানানোর জন্য  সর্বতভাবে সহায়তা করেছি। কিন্তু আজ ২০ মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর ও আমাদের বেতন চুক্তির কোনো সমাধান হয়নি। আমরা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করি, বিমুদ্রিকরণ এর সময় অনেক কর্মচারীকে অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে গিয়ে অনেক নিজেদের টাকা গুনাগার দিতে হয়েছে, অনেকে মারা গেছেন। আজও ঋণ আদায় করতে গিয়ে আমাদের অফিসাররা তিরস্কার এবং মারধরের শিকার হচ্ছেন। দিনরাত কাজের চাপে তারা জর্জরিত। তার ওপর চলে তিরস্কার, গঞ্জনা এমনকি মারধর। ফলতঃ নতুন নতুন উচ্চ শিক্ষিত অফিসাররা আত্মহত্যা করছে বা বিভিন্ন রোগের শিকার হচ্ছে। বেতন চুক্তি আলোচনার সময় সরকার ভিক্ষা র ঝুলি নিয়ে এসে কখনো বলছেন ২% ,কখনো ৬% উপহার দিচ্ছেন। অফিসের দাবি আমাদের দায়িত্ব, ঝুঁকি, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা, বদলিযোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর ঢঙে আমাদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে।। সরকার সেই পথে হাঁটছেন না, বরঞ্চ সরকার এতদিন ধরে চলে আসা সকল অফিসারের একই বেতন কাঠামোর মধ্যে বিভাজন এনে কর্মচারীদের মধ্যে চিড় ধরাতে চাইছেন। বেতন কে মুনাফার সঙ্গে যুক্ত করছেন। যদিও কার্যকরী মুনাফা আমরা করছি, কিন্তু বড় বড় ঋণ খিলাফীদের দেখতে গিয়ে আমাদের লাভের অধিকাংশই চলে যাচ্ছে ঋণ মুকুব করতে গিয়ে। বড় বড় শিল্পপতিদের থেকে টাকা উদ্ধারের কোনো সুপরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের উপর আক্রমণ ও হামলা, বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধা হ্রাস, অবসরপ্রাপ্তদের বীমা প্রিমিয়ামে উচ্চহারে বৃদ্ধি, ব্যাঙ্ক পেনশনের বেহাল অবস্থা, নতুনদের নতুন বাজারি পেনশন ব্যবস্থারও বিরোধিতা করেছেন। এই সমস্ত দাবি গুলোর সঙ্গেই কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থজরিত কারণ সরকার চাইছেন এই সব অব্যবস্থা করে দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা কে লাটে তুলে দিয়ে বড় বড় শিল্পপতিদের মালিকানাধীন ছোট ছোট বেসরকারি ব্যাঙ্কের রমরমা করে দেওয়া। এই সব জনবিরোধী, কর্মচারী বিরোধী সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে অফিসাররা বেতন কাটিয়ে ধর্মঘটে নামতে বাধ্য হয়েছেন ১২ লক্ষ ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও তাদের পরিবারের স্বার্থে এবং ৮০ কোটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের স্বার্থে। (নিজস্ব চিত্র)