ব্রিসলসের মানুষ কিন্তু যথাযথ মর্যাদা দিয়েছিলো রাজাকে তাঁর অন্তিম দিনে কারণ রাজা ও তাঁর কর্মকান্ড নিয়ে অবগত ছিল সেদেশের মানুষও তাই রামমোহন আজও সেখানে এক সম্মানিত জন। মাটির নিচে শায়িত রাজার শয্যার ওপর একটু মন্দির আকৃতির গোম্বুজও তৈরী করে দিয়েছেন তাঁরা। আর তার সাথে এই বিদেশ বিভুঁয়ে দেহ রাখা এই মহান মানুষটির দেশের লোকের কথা কি খুব গভীর ভাবে ভাবিয়েছিল সেসময় ব্রিসলসের লোকদের? তাঁরা হয়ত একবারের জন্যও ভেবেছিলেন যে আর চাইলেও তার আপনজনেরা আর ফিরে পাবেন না রামমোহন রায়কে, বা তাঁর দেশের গুনমুগ্ধরা চিরবঞ্চিত থেকে যাবেন তাঁদের হয়ে এই বিশাল লড়াই করে নতুন যুগ এনে দেওয়া রাজদর্শনে । নিশ্চয় ভেবেছিলেন, নইলে মৃত্যুর পর তাঁর ডেথ মাস্ক বানাবেন কেন তাঁরা? আজ্ঞে হ্যাঁ, চির নিদ্রায় শায়িত রাজার মুখের অবিকল ছাপ তুলে রাখার এই কাজটি চলল ওনার ডাক্তারেরই (ডাঃ এস্টলিন) উদ্যোগে ও তত্ত্ববধানে।
আরো পরে ব্রিসলসে 1939 সালে তার একটি প্রতিলিপি তৈরী করে সেটি এদেশে আনা হয় আর বর্তমানে সেটি রয়েছে এই রামমোহন সংগ্রহশালায়। মৃত্যুর পরের মুখাবয়ব তুলে রাখার শিল্পভাবনা তো আমরা আর কোনো এদেশের গুণী জনের জন্য করিনি, সেদিক থেকে যেন ব্যাপারটা বেশ অন্যরকম অনুভূতি জাগায়। আর ব্রিসলসের মানুষের সেই মুহূর্তের এই দুরন্ত ভাবনা কে স্যালুট জানিয়ে মৃত্যুর পরের এক অদ্ভুত প্রশান্তি মাখা মুখের প্রতিকৃতিতে আজও যেন জীবন্ত রাজা তাঁর পারিবারিক ভবনে রয়ে গেলেন একটা জাতির নবজাগরণ এর ইতিহাস বুকে নিয়ে। আজ তাই বাংলার নবজাগরণ এই পথিক রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে দেখার ইচ্ছে রয়ে যায় তার এই বাসভবনের সংগ্রহশালাটি কারণ আজও ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হয় আমাদের ফেলে আসা অতীতের দিকে, আজও জানতে ইচ্ছে হয় কিভাবে সেই রাজা তাঁর নিজের ঘরের লোকদের এতো বাধা কাটিয়ে তাঁদেরই এক কালিমাখা সংস্কার থেকে রক্ষা করার যজ্ঞে নেমেছিলেন অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে।
তথ্য: রাজা রামমোহন রায় মেমোরিয়াল মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীশালাটি ও সন্নিহিত লাইব্রেরিটি সাধারণের জন্য প্রতিদিন খোলা সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টা । (সোমবার এটি পুরোপুরি বন্ধ থাকে)
