আমরা শুধু আন্দোলন করি না সমাজের সকলের পাশে আছি আমরা
সংবাদ প্রতিখন
Advertisements
অমিত চক্রবর্তী: ‘না, আমরা শুধুমাত্র যে আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে ভেবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধ-পরিকর তা নয়, যেভাবে সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে এই সমাজের প্রতিটি কাজের সঙ্গে আমরা নিজেদের স্বাক্ষর বহন করে চলছি, আজও কিন্তু তার ব্যতিক্রম নেই, আমরা আজও পিছপা হইনা সমাজের সকল কল্যাণকর কাজে। আমাদের সভ্য সমাজের দুটি ডানা-নারী ও পুরুষ। এই দুই ডানায় ভর করেই মনুষ্যকুল আজ এই ধরার শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে পরিচিত। কিন্তু ভাবতেও অবাক লাগে আমাদের সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষীদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির কালচক্রে পড়ে আজ আমাদের সমাজের দুটি ডানা কিছুটা হলেও দিখণ্ডিত। আজ আমাদের সমাজের অন্যতম প্রধান ডানা আমরা অর্থাত্ পুরুষেরা আজ আইনের বেড়াজালে নির্যাতিত নানা দিক থেকে, আর ঠিক এই কারণেই আমাদের এই আন্দোলন। আমরা যে শুধু নিজেদের অধিকার নিয়েই বেশি চিন্তিত এটা সম্পুর্ন ভ্রান্ত ধারনা। আমরা সমাজের সকলের পাশে সবসময়ই আছি।’ কথাগুলি ধ্বনিত হচ্ছিল এই মূহুর্তে পুরুষ অধিকার নিয়ে আন্দোলন করা এই রাজ্যের অন্যতম সংগঠন অভিযান ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট এর এক সদানিষ্ঠ সৈনিকের কন্ঠে। যে প্রসঙ্গে ওনার কন্ঠে এই কথাগুলি ধ্বনিত হচ্ছিল সেটি এইরকম, একটি নয় বছরের কঠিন থ্যালাসেমিয়া রোগাক্রান্ত শিশুকন্যার বিশেষ প্রয়োজনে ঠিক এই সময়ে যে সময়ে আমরা সকলে মিলে লড়াই করছি মারণ ভাইরাস করোনার বিরুদ্ধে, সেই সময়ে ওই শিশুটির প্রয়োজন পড়ে তার অন্যতম প্রধান জীবনদায়ী রক্তের, আর এই সময়েই ওই সংগঠনের কয়েকজন নির্ভীক সৈনিক স্বত্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসেন নিজেদের রক্ত দিয়ে ওই কোমল শিশুকন্যাটির জীবনে একটু হাসি ফোটাতে। ঘটনাটি হাওড়ার জেলার পাঁচলার বাসিন্দা দিলীপ সাঁতরার কন্যা দিশা সাঁতরার। অভিযান ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট এর কয়েকজন নির্ভীক সৈনিক এই মূহুর্তে চলা লক ডাউনে বিশেষ অনুমতি গ্রহণ করে শিশুকন্যাটিকে বাঁচাতে রক্ত দান করে ও সামান্য কিছু অর্থ দিলীপ বাবুর হাতে তুলে দিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন এ কথা বলাই যায়। এবং এটি ধ্রুব সত্যি আজ অভিযান ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট শুধুমাত্র তাঁদের নিজেদের অর্থাত্ পুরুষের অধিকার নিয়েই আন্দোলোনে রত তা বাস্তব নয়। সমাজের সকল মানুষের পাশেই যে আজ তাঁদের এই সংগঠন কাজ করে চলেছে তা আবারও প্রমানিত হল এই ঘটনায়।